স্ট্যাটাস রিপোর্ট দিতে এত দেরি কেন? লখিমপুর তদন্ত নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে যোগী সরকার
লখিমপুর তদন্ত নিয়ে সুপ্রমি কোর্টের তোপের মুখে যোগী সরকার
লখিমপুর খিরির হিংসাত্মক ঘটনা নিয়ে স্টেটাস রিপোর্ট পেশ করতে বিলম্ব হওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়ল উত্তরপ্রদেশ সরকার। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে যে এই মামলা থেকে রাজ্য সরকার নিজের পা টেনে নিচ্ছে। তাই গাফিলতি নজরে আসছে।

লখিমপুর খিরি মামলার তদন্তের উন্নতি নিয়ে যোগী আদিত্যনাথ সরকারের সমালোচনা করার সময় সুপ্রিম কোর্ট বলে, 'আমাদের মনে হচ্ছে আপনি পা সরিয়ে নিচ্ছেন। সাক্ষীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করুন।’ বুধবার সুপ্রিম কোর্টে দেশের প্রধান বিচারপতি নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ বলেছে, 'গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। আর এখন পেশ করা হল স্টেটাস রিপোর্ট।’ এর আগেই আইনজীবী হরিশ সালভে আদালতকে জানিয়েছিলেন যে রিপোর্ট পেশ করা হয়েছে।
প্রধান বিচারপতি রমন যোগী সরকারকে প্রশ্ন করেন, 'শুনানির কিছু মিনিট আগে যদি স্টেটাস রিপোর্ট পেশ হয়, তবে আমরা কীভাবে রিপোর্টটা পড়ব? শুনানির একদিন আগে এই রিপোর্ট পাওয়ার প্রত্যাশা করেছিলাম। আমরা কখনই বলিনি যে এটা সিল করা কভাবে দিতে হবে। গতকাল আমরা রাত ১টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি। এটা কি ধরনের আচরণ?’ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আগামী সপ্তাহের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নতুন স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করতে বলেছে।
দেশের প্রধান বিচারপতি রমন বলেছেন, '৪৪ জন সাক্ষী সত্ত্বেও মাত্র ৪ জনের বয়ান রেকর্ড কেন? ৪ জন ১৬৪টি বয়ান রেকর্ড করেছে। কেন অন্যরা তাঁদের বয়ান রেকর্ড করেননি?’ প্রধান বিচারপতি এও জিজ্ঞাসা করেন যে এখনও পর্যন্ত লখিমপুর খিরির ঘটনায় কতজন গ্রেফতার হয়েছে। সালভে এ প্রসঙ্গে বলেন, '১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দ’টি অপরাধ হয়েছে, একটি অপরাধ হল মানুষের ওপর দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেওয়া। আর দ্বিতীয় অপরাধ হল গাড়ির ভেতরে থাকা দু’জনকে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা। এই ঘটনার তদন্ত করা একটু কঠিন কারণ প্রচুর মানুষের ভিড় ছিল।’ রমন জানিয়েছেন যে আগামী বুধবারের মধ্যে উত্তরপ্রদেশ সরকারকে নতুন করে রিপোর্ট পেশ করতে হবে সুপ্রিম কোর্টে। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, 'আবেদন বলছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেশ করা হয়নি। এটা খুবই স্পর্শকাতর বিষয়।’ আগামী ২৬ অক্টোবর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত ৩ অক্টোবর কৃষকদের আন্দোলন চলাকালে হিংসায় চার কৃষক সহ আটজনের মৃত্যু হয়েছিল। এই মামলায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রর ছেলে আশিস মিশ্র সহ এখনও পর্যন্ত ১০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত দাবি করে প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি লিখেছিলেন দুই আইনজীবী। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই হিংসার ঘটনা নিয়ে শুনানি হচ্ছে সুপ্রিম কোর্টে। কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে কৃষকদের বিক্ষোভ চলাকালে একটি এসইউভির ধাক্কায় চার কৃষকের মৃত্যু হয়েছিল। কৃষকরা ওই এলাকায় উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী কেশব প্রসাদ মৌর্য্যর সফরের বিরোধিতা করে বিক্ষোভ দেখাচ্ছিলেন। সেই সময়ও চার কৃষককে পিষে দেয় গাড়ি। এর পর দুই বিজেপি কর্মী, গাড়ি চালককে পিটিয়ে খুন করা হয় । এক স্থানীয় সাংবাদিকও ওই হিংসায় নিহত হয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications