মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া আমাদের কাজ নয়, ধমক সুপ্রিম কোর্টের! এক নজরে গোটা সওয়াল-জবাব
RG Kar Hospital Case: মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া আমাদের কাজ নয়। আজ মঙ্গলবার আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ এবং খুনের মামলার শুনানি হয় সুপ্রিম কোর্টে। মামলার শুনানিতে এক আইনজীবীকে ধমক প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের।
একই সঙ্গে এই বিষয়ে বিশেষ বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, কোনও রাজনৈতিক মঞ্চ এটা নয়। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা এখানে মূল বিষয়। মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগের নির্দেশ দিতে হবে যদি বলা হয়, সেটা কখনই হতে পারে না। এমনকি এটা আমাদের কাজ নয় বলেও এদিন আইনজীবীকে ধমক প্রধান বিচারপতির (RG Kar Hospital Case) । যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

এদিন আরজি কর ধর্ষণ এবং খুনের মামলার (RG Kar Hospital Case) দীর্ঘ শুনানি হয়। তবে শুনানির বেশিভাগটাই চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিয়ে জোর সওয়াল-জবাব চলে। পাশাপাশি সিবিআইও তদন্তে অগ্রগতি নিয়েও সন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি জেবি পারদিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চ। এক নজরে দেখে নিন আজ মঙ্গলবার শুনানিতে ঠিক কি কি বিষয় উঠে আসল শুনানিতে।
- প্রায় ১১ টা নাগাদ এদিন মামলার শুনানি শুরু হয়। শুনানির শুরুতে সিবিআই'য়ের তরফে একটি তদন্ত সংক্রান্ত রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়। যা দেখে প্রধান বিচারপতির বিশেষ বেঞ্চ জানায়, যে বিষয় নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে, তা তদন্তেও তোলা হয়েছে। রিপোর্ট প্রকাশ্যে আনা নিয়ে বলেন, তদন্ত রিপোর্ট সামনে আনলে প্রভাবিত হতে পারে। তবে কিছুটা সময় দিতে হবে তদন্তকারী সংস্থাকে।
- অভয়ার বাবা-মা একটি চিঠি দিয়েছে সিবিআইকে। তা গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ। পাশাপাশি ক্রাইম সিনে যে সমস্ত চিকিৎসকরা ছিলেন তাঁদের নাম জুনিয়ার ডাক্তাররা জানাতে চান। সেটিও সিবিআইকে গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ। শুনানিতে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় বলেন, সিবিআই তদন্তে রিপোর্ট দেখে আমরা বিচলিত। আরেকটু সময় দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
- সিসিটিভি ফুটেজ দেওয়া নিয়ে দীর্ঘ শুনানি। রাজ্য এবং সিবিআই'য়ের আইনজীবী নিয়ে আলোচনা। তদন্তকারী সংস্থার দাবি, ২৭ মিনিট ফুটেজ দেওয়া হয়েছে। যদিও কপিল সিব্বল জানান, ৭-৮ ঘন্টার ফুটেজ দেওয়া হয়েছে।
- জুনিয়র চিকিৎসকদের কর্মবিরতির জন্য স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে না। কত ঘণ্টা কাজ করতে হয়, সমস্ত কিছু সুপ্রিম কোর্টকে ব্যাখ্যা
- আরজি কর সহ মেডিক্যাল কলেজগুলির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের। বিশেষ 'রাত্রি সাথী' প্রকল্পের উল্লেখ। কিন্তু সেখানে চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন সর্বোচ্চ আদালতের। চুক্তি ভিত্তিক কর্মীরা হাসপাতালে কাজ করলে কেন নিরাপত্তা বোধ করবেন মহিলা ডাক্তাররা? প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের। অন্যদিকে 'মহিলারা রাতে কাজ করতে পারবেন না', রাজ্যের বিজ্ঞপ্তি নিয়ে আপত্তি। প্রশ্ন তুলল সুপ্রিম কোর্টও। এই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তির এই অংশকে বদলের নির্দেশ।
- কর্মবিরতি কেন তোলা হচ্ছে না প্রশ্ন রাজ্যের আইনজীবী। মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রধান বিচারপতির বেঞ্চকে দিলেন রাজ্যের আইনজীবী। একই সঙ্গে ডাক্তারদের নিরাপত্তায় কি ব্যবস্থা তাও আদালতকে জানানো হয়। বিশ্রাম কক্ষ থেকে হাসপাতালের সর্বত্র সিসি ক্যামেরা লাগানো হচ্ছে। পাশাপাশি চিকিৎসকদের ডিউটি রুমে নিরাপত্তা দেওয়ার কথাও জানানো হয়েছে। আগামী দুমাসের মধ্যে সমস্ত মেডিক্যাল কলেজে তা হবে বলে জানানো হয়।
- কেন পুলিশকে মোতায়েন করা হচ্ছে না, প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির।
- মামলার শুনানিতে আরজি করের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন। রাজ্যের তরফে ৪০০ টিরও বেশি সিসিটিভি লাগানোর কথা বলা হয় এদিন। আগে কেন মাত্র ৩৭ টা ছিল? তা নিয়ে সুপ্রিম প্রশ্নের মুখে পড়তে হয় রাজ্যকে।
- এদিন ফের জুনিয়র ডাক্তারদের কাজে ফেরার কথা বলে সুপ্রিম কোর্ট। তবে তাঁরা যাতে নিরাপত্তা অভাব বোধ না করে তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে কোনও ব্যবস্থা যাতে নেওয়া না হয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়।
- কবে কাজে ফিরবেন আন্দোলনরত চিকিৎসকরা? আইনজীবী জানান, জেনারেল বডির মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেবেন তাঁরা। তার জন্য একটু সময় লাগবে।












Click it and Unblock the Notifications