দেরির কারণ যুক্তিসঙ্গত না হলে ক্ষতিপূরণে কতটা দায়বদ্ধ ভারতীয় রেল, জানাল সুপ্রিম কোর্ট
ট্রেন লেটের কারণে সরকারি পরীক্ষায় না বসতে পারার নজির রয়েছে। পাশাপাশি ট্রেন লেটের কারণে ক্ষতির মুখেও পড়েছেন অনেকে। যে কারণে সর্বোচ্চ আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট (supreme court) জানিয়েছে, যদি রেল ট্রেন লেটে
ট্রেন লেটের কারণে সরকারি পরীক্ষায় না বসতে পারার নজির রয়েছে। পাশাপাশি ট্রেন লেটের কারণে ক্ষতির মুখেও পড়েছেন অনেকে। যে কারণে সর্বোচ্চ আদালতে মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট (supreme court) জানিয়েছে, যদি রেল ট্রেন লেটের পর্যাপ্ত কারণ না জানাতে পারে, কিংবা তার প্রমাণ দিতে না পারে, তাহলে তাদেরকে ক্ষতিপূরণ (compensation) দিতেই হবে। তবে যদি এমন কোনও কারণ থাকে, যা রেলের নিয়ন্ত্রণের বাইরে, সেক্ষেত্রে ছাড় পাবে ভারতীয় রেল (indian railways)।

জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের রায় ছিল আগে
ট্রেন লেট নিয়ে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালত আগেই ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল ভারতীয় রেলকে। ট্রেন লেট নিয়ে উত্তর-পশ্চিম রেলের বিরুদ্ধে মামলা করেছিলেন এক যাত্রী। সেই মামলায় আলোয়াড়ের জেলা ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের তরফে ওই যাত্রীর ট্যাক্সি খরচের জন্য ১৫ হাজার, বুকিং খরচের জন্য ১০ হাজার এবং মানসিক যন্ত্রণার জন্য ৫ হাজার টাকা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে জেলার ফোরামের দেওয়া রায় যাত্রীর পক্ষে যায়। যা পাশ করে দেয় রাজ্য ফোরামও। পরে তা যায় ন্যাশনাল কমিশনে। যদিও সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন করে ভারতীয় রেল। এব্যাপার সর্বোচ্চ আদালতের তরফ থেকে জাতীয় ক্রেতা সুরক্ষা আদালতের রায়কেই মর্যাদা দিয়েছে সর্বোচ্চ আলাদত।

দুই বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের রায়
বিচারপতি এমআর শাহ এবং বিচারপতি অনুরুদ্ধ বসুর অবসরকালীন বেঞ্চে উত্তর পশ্চিম রেলের তরফে করা আবেদনে বিশেষ শুনানি হয়। মামলায় বলা হয়েছে আজমেড়-জম্মু এক্সপ্রেস ৪ ঘন্টা দেরি পৌঁছনোয় জম্মু থেকে শ্রীনগর যাওয়ার বিমান যেটি ছিল দুপুর ১২ টায় তা মিস হয়ে যায়। যার জেরে সেই যাত্রীকে ট্যাক্সি করে শ্রীনগরে যেতে হয়, যেখানে বিমান ভাড়ায় ৯ হাজার টাকা জলে যায়। এছাড়াও ট্যাক্সিতে করে তিনি শ্রীনগরে যান, যার ভাড়া পড়ে ১৫ হাজার টাকা। এছাড়াও ডাল লেকে বুকিং-এর জেরে ১০ হাজার টাকার ক্ষতি হয় ওই যাত্রীর।
ডিভিশন বেঞ্চের তরফে বলা হয়, এক্ষেত্রে ট্রেন দেরিতে চলা কিংবা দেরি পৌঁছনোর কোনও কারণ কিংবা ব্যাখ্যা দিতে পারেনি ভারতীয় রেল।

দেরিতে ট্রেন চালানো সেবার ঘাটতি নয়
রেলের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটি বলেন দেরিতে ট্রেন চালানো মানেই তা রেলের সেবার ঘাটতি নয়। পাশাপাশি তিনি ভারতীয় রেলের রুল ১১৪ এবং ১১৫-র কথা উল্লেখ করেন। যেখানে বলা রয়েছে, ট্রেন লেটে চললে ক্ষতিপূরণের দায় নেই রেলের। সেখানে আরও বলা হয়েছে, ট্রেন দেরিতে চলার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে।

সংবিধানের ১৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ
রায় দিতে গিয়ে বিচারপতিরা সংবিধানের ১৩৬ নম্বর অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে এলএলপি খারিজ করে দেন। পাশাপাশি রেলকে প্রমাণ-সহ ট্রেন দেরিতে চলার কারণ ব্যাখ্যা করতে নির্দিশ দিয়েছেন। না হলে যাত্রীকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন তারা।












Click it and Unblock the Notifications