ভারতীয় সেনাবাহিনীতে লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার মহিলা আধিকারিকরা, অধিকারের দাবিতে দ্বারস্থ সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম কোর্ট ভারতীয় সেনাবাহিনীতে লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে একটি শুনানিতে ভারতীয় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে আনা লিঙ্গ বৈষম্য অভিযোগে বিরক্তি প্রকাশ করে। সেনাবাহিনীর পুরুষ অফিসারদের কর্নেল পদের জন্য বাছাই পর্ব শুরু হয়েছে। কিন্তু মহিলাদের এক পদের জন্য বাছাই পর্ব স্থগিত রয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সেনাবাহিনীর মহিলা আধিকারিকরা সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন। সুপ্রিম কোর্ট শুনানিতে এই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রকে সেনা মহিলা অফিসারদের পদোন্নতির সুযোগ খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ মহিলা আধিকারিকরা
প্রবীণ আইনজীবী ভি মোহনার মাধ্যমে সেনাবিহিনীর ৩৪ জন মহিলা অফিসার অভিযোগ করেছেন, তাঁদের থেকে নিম্নস্থানীয় কর্মীদের পদোন্নতি হয়েছে। কিন্তু তাঁদের পদন্নতি আটকে দেওয়া হয়েছে। এখানে সেনাবাহিনীর মহিলা আধিকারিকরা লিঙ্গ বৈষম্যের অভিযোগ নিয়ে এসেছেন। ২০২০ ও ২০২১ সালে সেনাবাহিনীর মহিলা আধিকারিকদের স্থায়ী কমিশন দেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রায়কে উল্লেখ করে বলা হয়, মহিলারা আধিকারিকরা লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার।

লিঙ্গ বৈষম্যের শিকার
সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী মোহনা বলেন, ২৫ মার্চ ২০২১ সালের সুপ্রিম কোর্টের রায় অনুসারে মহিলাদের জন্য একটি বোর্ড তৈরি করা হবে। রায়ে বলা হয়, ১৯৯২ সাল থেকে ২০০৭ সালের মধ্যে মহিলা অফিসারদের যোগ্যতার ওপর নির্ভর করে পদোন্নতি দিতে হবে। তিনি অভিযোগ করেছেন, পুরুষ অফিসারদের জন্য নতুন বোর্ড তৈরি করা হলেও মহিলাদের জন্য কোনও নির্বাচন বোর্ড এখনও তৈরি করা হয়নি। যার ফলে অনেক অভিজ্ঞ মহিলা আধিকারিকদের অনেক কম অভিজ্ঞ পুরুষ আধিকারিকদের অধীনে কাজ করতে হচ্ছে।

দুই সপ্তাহের মধ্যে মহিলা আধিকারিকদের জন্য কমিশন
সোমবার সুপ্রিম কোর্টে প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় ও বিচারপতি হিমা কোহলির বেঞ্চ গুরুত্ব সহকারে মামলাটিকে দেখে। কেন্দ্রের পক্ষে হাজির হওয়া সিনিয়র অ্যাডভোকেট আর বালা সুব্রমানিয়ামকে বলেন, এই ধরনের ঘটনায় সেনাবাহিনীর পুরুষ আধিকারিকদের পদোন্নতি করা উচিৎ নয়। এই প্রসঙ্গে কেন্দ্রের প্রবীণ আইনজীবী বলেন, ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর পুরুষ অফিসারদের পদোন্নতির জন্য বাছাই হয়ে গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা জানায়, সেক্ষেত্রে ফলাফল ঘোষণা করা যাবে না। যদিও সুব্রহ্মনিয়াম বলেন, ১৫০টি কর্নেল পদ ফাঁকা রয়েছে। সেটি পূরণ হওয়ার পরেই মহিলাদের পদোন্নতি পর্বে বাছাই শুরু হবে।তিনি আদালতকে আশ্বস করলেও সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, দুই সপ্তাহের মধ্যে সেনাবাহিনীতে মহিলাদের পদোন্নতির জন্য কমিশন গঠন করা হবে। কেন্দ্রের আইনজীবী জানান, মহিলা আধিকারিকদের জন্য কোনও ক্ষতি হবে না।












Click it and Unblock the Notifications