প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে এত তাড়াহুড়ো কিসের? কেন্দ্রের অস্বস্তি বাড়িয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে এত তাড়া কীসের, কেন্দ্রকে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
প্রধান নির্বাচন কমিশনার অরুণ গোয়েলের নিয়োগ নিয়ে বিতর্ক ক্রমেই বাড়ছে। সুপ্রিম কোর্ট আগেই অরুণ গোয়েলের নিয়োগের সমস্ত নথি কেন্দ্রের কাছে চেয়ে পাঠিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার এই প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ বলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অরুণ গোয়েলকে নিয়োগের বিষয়ে কেন্দ্র খুব তাড়াহুড়ো করেছিল। সুপ্রিম কোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগের বিষয়ে এত তাড়াহুড়ো কেন্দ্র কেন করে?

প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগে তাড়াহুড়ো কেন
অরুণ গোয়েলের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ নিয়ে টানা তিন দিন ধরে সুপ্রিম কোর্টের সংবিধানিক বেঞ্চে শুনানি চলছে। শুনানির সময় বার বার সমালোচনার মুখে পড়ে কেন্দ্র। আগের দিন অর্থাৎ বুধবার সুপ্রিম কোর্ট প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে অরুণ গোয়েলকে নিয়োগের সম্পূর্ণ নথি দেখতে চান। বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের তরফে সম্পূর্ণ নথি পেশ করা হয়। সেই নথি পর্যবেক্ষণ করার পর সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, প্রধান নির্বাচন নিয়োগে কেন্দ্র এত তাড়াহুড়ো করল কেন?

নির্বাচনে অস্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
সমস্ত নথি দেখার পর সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্রের একাধিক পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। মূলত আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নামের তালিকা পাঠায়। প্রধানমন্ত্রী সেখান থেকে একজনকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে বেছে নেন। কেন্দ্রের পেশ করা নথিতে দেখা গিয়েছে, ১৮ নভেম্বর আইনমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর কাছে চার জনের নাম প্রধান নির্বাচন কমিশনার জন্য পাঠান। সেই দিনই প্রধানমন্ত্রী একজনকে বেছে নেন। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, যেদিন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হল, সেই দিনই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হয়। অথচ মে মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে এই পদটি ফাঁকা ছিল। কিন্তু সেই পদ পূরণ করার জন্য কেন্দ্র কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।

উদ্বেগ প্রকাশ সুপ্রিম কোর্টের
কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি সুপ্রিম কোর্টের সংবিধানিক বেঞ্চকে গোটা প্রক্রিয়াটি যাচাই করার অনুরোধ করা করেন। যদিও আদালত অ্যাটর্নি জেনারেলের কথায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, মানুষকে বোকা বানানোর জন্য এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি রাখা হয়েছে। যেভাবে প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ হয়েছে, তা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

স্বেচ্ছাবসর নেওয়ার পরের দিন নিয়োগ!
১৯৮৫ সালের আইএএস অফিসার অরুণ গোয়েল। তিনি একদিন আগেই নিজের কর্মজীবন থেকে স্বেচ্ছা অসবর নেন। তারপরের দিন কীভাবে অরুণ গোয়েলকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করা হয়, সেই বিষয়ে প্রশ্ন ওঠে। গোয়েলের নিয়োগে অস্পষ্টতা আছে বলে আবেদনকারী দাবি করেন। আবেদনকারীর তরফে সুপ্রিম কোর্টে প্রবীণ আইনজীবী লড়াই করছেন।

আবেদনকারীর অভিযোগ
আবেদনকারীর পক্ষ থেকে সংবিধানিক বেঞ্চকে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, যে আসনটি মে মাস থেকে ফাঁকা ছিল, কীভাবে গোয়েলের স্বেচ্ছা অবসর নেওয়ার পরের দিন নিয়োগ করা সম্ভব হয়। সংবিধানিক বেঞ্চের বিচারপতি জোসেফ অ্যাটর্নি জেনারেলকে প্রশ্ন করেন, বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তারপরেও তাড়াহুড়ো করে কেন দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করা হল।












Click it and Unblock the Notifications