পরিবারের অপেক্ষায় দেশের তিন কোটি অনাথ শিশু, দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি সুগম করার পক্ষে সওয়াল সুপ্রিম কোর্টের
পরিবারের অপেক্ষায় দেশের তিন কোটি অনাথ শিশু, দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি সুগম করার পক্ষে সওয়াল সুপ্রিম কোর্টের
দেশে লক্ষ লক্ষ অনাথ শিশু পরিবারের অপেক্ষায় রয়েছে। আবার অনেক নিঃসন্তান দম্পতি শিশুকে দত্তক নিতে চাইছেন। কিন্তু ভারতে শিশুদের দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি এত দীর্ঘ ও কঠিন, অনেক পরিবারের ইচ্ছা থাকলেও তারা মাঝ রাস্তায় রণে ভঙ্গ দেয়। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের তরফে সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথোরিটি (সিএআরএ)কে দত্তক নেওয়ার পদ্ধতিকে আরও সুগম করার আবেদন করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের তরফে জানানো হয়, একটি অনাথ শিশুকে দত্তক নিতে গেলে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে, যা কখনই কাম্য নয়।

শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, এএস বোপান্না ও জেদি পারদিওয়ালার একটি বেঞ্চ কেন্দ্রের তরফে উপস্থিত হওয়া সলিসিটর জেনারেল এমকে নটরাজনকে বলেন, অনেক অল্প বয়স্ক দম্পতি শিশু দত্তক নেওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু অনাথ শিশুকে দত্তক নেওয়ার পদ্ধতিটি এতটাই দীর্ঘ যে তিন থেকে চার বছর সময় লাগে। একটি শিশুকে দত্তক নেওয়ার জন্য তিন থেকে চার বছর সময় লাগা কখনই কাম্য নয়। এই পদ্ধতি আরও সহজ করা উচিত। যাতে দ্রুত নিঃসন্তান দম্পতি অনাথ শিশু দত্তক নিতে পারে। দেশের লক্ষ লক্ষ শিশু একটি পরিবারের অংশ হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছে।
একটি এনজিও-এর তরফে অনাথ শিশুদের দত্তক নেওয়ার প্রক্রিয়াটি আরও সহজ করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে এই আবেদনের ভিত্তি জবাব দেওয়ার জন্য সলিসিটর জেনারেল ছয় সপ্তাহ সময় চেয়েছেন। এনজিও-এর সেক্রেটারি পীযুষ সাক্সেনা শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে হাজির হয়েছিলেন। তিনি জানিয়েছেন, কীভাবে অনাথ শিশুদের দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি সুগম করা যেতে পারে, এই বিষয়ে তিনি কেন্দ্রকে পরামর্শ দিতে পারেন। এই বিষয়ে তিনি কেন্দ্রের কাছে একাধিকবার আবেদন করেছেন। এই মামলার শুনানি অক্টোবর পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
শুক্রবার শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণে জানানো হয়েছে, ভারতে অনাথ শিশু দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি অনেকটা দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর। সেন্ট্রাল অ্যাডপশন রিসোর্স অথরিটির আগে বছরে ২০০০টি শিশুকে দত্তক দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। তা বাড়িয়ে বর্তমানে চার হাজার করা হয়েছে। কিন্তু ভারতে প্রায় তিন কোটি শিশু অনাথ। দত্তক নেওয়ার পদ্ধতি সুগম হলে আরও অনেক পরিবার আগ্রহী হবে।
এনজিও-এর সম্পাদক সাক্সেনা জানিয়েছেন, অনেক পরিবার সন্তান দত্তক নিতে ইচ্ছুক। কিন্তু নিয়মের বেড়াজালের জেরে তাঁরা দত্তক নিতে পারছেন না। গত বছর করোনা মহামারীর সময় কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের তরফে জারি করে বেশ কিছু নিয়মে শিথিলতা নিয়ে আসা হয়েছে। তবে এই শিথিলতাকেই নিয়মে পরিণত করা যেতে পারে বলে সাক্সেনা জানিয়েছেন।












Click it and Unblock the Notifications