'আজ বিলকিস বানোর সঙ্গে হয়েছে..', ধর্ষণকারীদের রেহাই নিয়ে প্রশ্ন সুপ্রিম কোর্টের
বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তির ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে গুজরাত সরকার। একই সঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকও। গত ১৫ অগস্ট বিলকিস বানোর ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়া হয়। আর এরপর থেকেই একাধিক বিতর্ক তৈরি হয়।
আজ মঙ্গলবার বিচারপতি কেএম জোসেফ ও বিচারপতি বিভি নাগারত্নার ডিভিশন বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়। আর সেই মামলার শুনানিতে একেবারে কড়া ভাষায় গুজরাত সরকার এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সমালোচনা করা হয়।

শুধু তাই নয়, কড়া পর্যবেক্ষণে বিচারপতি কেএম জোসেফ বলেন, একজন অন্তঃসত্ত্বাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে। এমনকি একাধিক লোককেও খুন করা হয়েছে। ফলে এই ধরনের ঘটনাকে সাধারণ খুনের ঘটনার সঙ্গে তুলনা করা যায় না বলেও পর্যবেক্ষণ শীর্ষ আদালতের।
ফলে ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিৎ ছিল বলেও এদিন উষ্মা প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট। এমনকি কেন্দ্র এবং রাজ্য কেউ এই বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিচার করেছে কিনা তা নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয় মামলার শুনানি।
আর এরপরেই ডিভিশন বেঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ, আজ বিলকিস বানোর সঙ্গে হয়েছে। অইন্য কারোর সঙ্গে কাল হতে পারে। এমনকি আমি আপনিও হতে পারি বলেও গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। তবে এদিন দীর্ঘক্ষণ শুনানি এই সংক্রান্ত মামলার। আগামী ২ রা মে এই সংক্রান্ত মামলার ফের শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। বলে রাখা প্রয়োজন, গত ১৫ অগাস্ট গোটা দেশ স্বাধীনতার ৭৫ উদযাপনে ব্যস্ত ছিল।

সেই সময় বিলকিস বানো গণধর্ষণ মামলায় যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত ১১ ধর্ষককে গুজরাত সরকার মুক্তি দেয়। আর এহেন সিদ্ধান্ত ঘিরে শুরু হয় জোর রাজনৈতিক তরজা। গুজরাত ভোটের আগে ইচ্ছাকৃত ভাবে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যেই ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। এমনকি বিজেপি সরকার হিন্দুত্বের তাস খেলছে বলেও দাবি করে বিরোধীরা।
আর এর মধ্যেই এই বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে মামলা হয়। সেই মামলার শুনানি হচ্ছে বিচারপতি কেএম জোসেফ ও বিচারপতি বিভি নাগারত্নার ডিভিশন বেঞ্চে। আর সেই শুনানিতে ধর্ষকদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ে যাবতীয় নথি জমা দেওয়ার কথা বলা হয়। গুজরাত সরকার এবং কেন্দ্রের কাছে এই বিষয়ে তথ্য দেওয়ার কথা বলা হয়।

কিন্তু তা দেওয়া হয়নি। কেন দেওয়া হয়নি কেন্দ্র ও গুজরাত সরকারের আইনজীবীর কাছে তা জানতে চান বিচারপতিরা। তাতে নির্দেশ ফের একবার ভাবার কথা বলেন আইনজীবীরা। আর সেই ম্পরিপ্রেক্ষিতে ফের একবার আদালতের প্রশ্নের মুখে পড়েন আইনজীবীরা।












Click it and Unblock the Notifications