পুলিশের এফআইআর দায়ের করতেই পাঁচ মাস! হেট-স্পিচ মামলায় প্রশ্ন প্রধান বিচারপতির
পুলিশের এফআইআর দায়ের করতেই কেন সময় লেগে গেল পাঁচ মাস? হিন্দু যুব বাহিনীর হেটস্পিচ মামলায় দিল্লি পুলিশের বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট।
পুলিশের এফআইআর দায়ের করতেই কেন সময় লেগে গেল পাঁচ মাস? হিন্দু যুব বাহিনীর হেটস্পিচ মামলায় দিল্লি পুলিশের বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট শুক্রবার দিল্লি পুলিশকে ২০২১ সালের ডিসেম্বরের এই মামলার তদন্তে অগ্রগতি নিয়ে দু-সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট চেয়েছিল।
ভারতের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ এদিন জানান, হেট-স্পিচ মামলায় পাঁচ মাস পরে এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। আর এফআইআরের আট মাস পরেও কোনও চার্জশিট দাখিল করা হয়নি। তদন্তকারী অফিসারদের গৃহীত পদক্ষেপগুলিকে রেকর্ড রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দুই সপ্তাহের মধ্যে এ বিষয়ে তদন্ত হবে।

তুষার গান্ধীর দায়ের করা অবমাননার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দিল্লি পুলিশ তাহসিন পুনাওয়ালার মামলায় সুপ্রিম কোর্টে নির্দেশ লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ। শুনানির সময় অ্যাডভোটেক শাদান ফারসাত অভিযোগ দায়ের করেন, এটি একটি অত্যন্ত গুরুতর বিষয়। হিংসার জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, এটা কেবল একজন ব্যক্তি নেতৃত্ব দিচ্ছেন তা নয়, একজনের পিছনে অন্যান্যরাও শপথ নিচ্ছেন।
এই মামলার পরিপ্রক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছে, পাঁচ মাস পরও এই ঘটনায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়নি। এমনকী এখন দায়ের করার পর সুপ্রিম কোর্টের প্রশ্নের উত্তরে পুলিশ জানিয়েছে তদন্ত চলছে। তারা ৪১এ ধারার অধীনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কাউকে ডেকেছে কি না, তাও জানায়নি। তারা কাউকে গ্রেফতার করেনি। কোনও চার্জশিট পেশ করা হয়নি।
শাদান ফারসাত উল্লেখ করেছেন, তিনি দিল্লি পুলিশ কমিশনারের বিরুদ্ধে অবমাননার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চপ দিচ্ছেন না। শুধুমাত্র সঠিক তদন্ত চাইছিলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, তেহসিন পুনাওয়ালা মামলার রায় অনুসারে হিংসার বিরুদ্ধে এফআইআর ও চার্জশিট দায়ের করার প্রয়োজন রয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি তারপরে সলিসিটর জেনারেল কে এম নটরাজকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, ঘটনাটি ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর ঘটেছিল। তারপর এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছিল ২০২২ সালের মে মাসে। এফআইআর দায়ের করতে কেন কেটে গেল পাঁচ মাস? তারপর এই ঘটনায় আপনি কতজনকে গ্রেফতার করতে পেরেছে? এই ঘটনায় কতদূর তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়েছে? কতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে?
প্রধান বিচারপতি এমন হাজারো প্রশ্নের সামনে দাঁড় করান সলিসিটর জেনারেলকে। এর আগে শীর্ষ আদালত এই হেট-স্পিচ বা ঘৃণাত্মক বিবৃতির বিরুদ্ধে দিল্লি, উত্তরপ্রদেশ ও উত্তরাখণ্ড পুলিশকে অপরাধীদের ধর্ম না দেখে স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications