চিকিৎসক সুরক্ষায় অগ্রাধিকার শীর্ষ আদালতের, ৩ সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় টাস্ক ফোর্সকে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
আরজি কর হাসপাতালের নারকীয় ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে দখিয়ে দিয়েছে গোটা দেশে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বলে কিছু নেই। কর্মক্ষেত্রে চরম অব্যবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন তাঁরা। অমানবিক ভাবে কাজ করানো হচ্ছে তাঁদের। এই ঘটনার প্রাথমিক ভাবে গোটা দেশে চিকিৎসক সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি।
জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করে ৩ সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে। সেই সঙ্গে ২ মাসের মধ্যে চিকিৎসকদের সুরক্ষার যাবতীয় কর্মকাণ্ড সুনিশ্চিত করতে হবে জাতীয় টাস্কফোর্সকে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। হাসপাতালে চিকিৎসকদের জন্য কোনও বিশ্রামকক্ষ নেই। নেই কোনও শৌচাগার। কেন তাঁদের সুরক্ষার কোনও ব্যবস্থা করা হয়নি সওয়াল করেছিলেন প্রধান বিচারপতি।

আরজি কর হাসপাতালের ঘটনা গোটা দেশের চিকিৎসা সুরক্ষাকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে। গোটা দেশের চিকিৎসকরা যে কতটা অসুরক্ষিতভাবে কাজ করেন সেটা আবারও সকলের সামনে এসে পড়েছে। গোটা দেশে চিকিৎসকদের সুরক্ষায় জাতীয় টাস্ক ফোর্স গঠন করেছে সুপ্রিম কোর্ট। ১০ সদস্যের টাস্ক ফোর্সে রয়েছেন ১০ জন সদস্য।
ডাক্তার এন নাগেশ্বর রাও, সার্জেন ভাইস অ্যাডমিরাল আর সারিন, ডাক্তার এম শ্রীনিবাস, ডাক্তার প্রতিমা মূর্তি, ডাক্তার গোবর্ধন দত্ত পুরী, ডাক্তার সৌমিত্র রাওয়াত, দিল্লি এইমসের কার্ডিও ডিপার্ডমেন্টের প্রধান ডাক্তার অনিতা সাক্সেনা, মুম্বইয়ের ডিন গ্রান্ট মেডিকেল কলেজের সুপার পল্লবী সাপরে, দিল্লি এইমসের নিউরো বিভাগের চিকিৎসক ডাক্তার পদ্মা শ্রীবাস্তব, স্বরাষ্ট্র সচিব, স্বাস্থ্যমন্ত্রকের সচিব, ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের চেয়ারপার্সন, ন্যাশনাল এক্সামিনার বোর্ডের প্রেসিডেন্ট।
এরা সকলেই থাকবেন জাতীয় টাস্ক ফোর্সে। তাঁদের তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দিতে হবে সুপ্রিম কোর্টে। এবং ২ মাসের মধ্যে তাঁকে প্রস্তাবিত সব কিছু বাস্তবায়িত করতে। প্রত্যেক সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাতে হবে। চিকিৎসকদের জন্য পৃথক বিশ্রামের জায়গা রাখতে হবে। সেই সঙ্গে শৌচাগারের ব্যবস্থা করতে হবে।
সেই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিয়েছে আগামী এক মাসের মধ্যে সব রাজ্য এবং কেন্দ্র সরকারকে দেশের প্রতিটি সরকারি এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকরে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। কোথায় কোথায় সিসিটিভি রয়েছে কোথায় নেই। কোথা শৌচাগার কেমন রয়েছে। কোথায় বিশ্রামকক্ষ রয়েছে কোথায় নেই। মহিলা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য আলাদা করে কোনও শৌচাগার এবং বিশ্রামাগার রয়েছে কিনা সেটা রিপোর্ট দিতে হবে। মহিলা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য হেল্পলাইন চালু করতে হবে। কড়া নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
একই সঙ্গে এদিন চিকিৎসকদের কর্মবিরতী তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। তিনি অনুরোধ করেছেন তাঁদের অভিযোগ ন্যায় সংগত এবং আন্দোলনের কারণও ন্যায় সঙ্গত। কিন্তু এতোদিন ধরে আন্দোলন চলায় সাধারণ মানুষের সমস্যা হচ্ছে। অনেক মুমুর্ষু রোগী চিকিৎসা পাচ্ছেন না। তাই তাঁদের কর্মবিরতি তুলে নিয়ে চিকিৎসা প্রদান করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য আরজিকর কাণ্ডের পরে গোটা দেশে কর্মবিরতি শুরু করেছিলেন চিরিৎসলকরা। জুনিয়র ডাক্তাররা তো বটেই সিনিয়ার চিকিৎসকরাও আন্দোলনে সামিল হয়েছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications