কলকাতা পুলিশ নয়, আরজি কর হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে CISF মোতায়েনের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের
কলকাতা হাইকোর্ট থেকে মামলা সরল সুপ্রিম কোর্টে। এবার যাবতীয় পদক্ষেপ করবে শীর্ষ আদালত। রাজ্য পুলিশের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে আরজি কর হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্ব সিআইএসএফের হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আরজি কর হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকবে না রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশ।
আরজি কর হাসপাতালে নিরাপত্তার দায়িত্ব থেকে কলকাতা পুলিশকে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। আরজি কর হাসপাতালে ১৪ অগাস্ট যেভাবে বহিরাগতরা ঢুকে পড়ে ভাঙচুর চালিয়েছে তা তে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রধান বিচারপতি। কেন পুলিশের কাছে আগে থেকে কোনও খবর ছিল না। তা নিয়েও সওয়াল করেন তিনি। তারপরেই আরজি কর হাসপাতালের নিরাপকত্তায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন নির্দেশ দেন প্রধান বিচারপতি।

হাসপাতালের একেবারে ভেতরে সেমিনার হলের মধ্যে কীভাবে বাইরের কেউ প্রবেশ করল এই নিয়ে প্রথম দিন থেকেই প্রশ্ন উঠেছিল। কারণ সেমিনাল হলটি দিনের বেলায় ক্লাসের জন্য ব্যবহার করা হয় আর রাতে সেখানে বিশ্রাম নেন রাতে ডিউটিতে থাকা চিকিৎসকরা। মহিলা পুরুষ সব চিকিৎসকই সেই সেমিনার হলে রাতে বিশ্রাম নেন। ঘটনার দিনও রাতে ৩৬ ঘণ্টা ডিউটি করেছিলেন নির্যাতিতা চিকিৎসক।
সেখানে কীভাবে একেবারে হাসপাতালের বাইরের কোনও লোক পৌঁছে গেল তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যে শিকেয় উঠেছে তা এই ঘটনায় প্রমাণ হয়ে গিয়েছে। তারপরে আবার ১৪ অগাস্ট শান্তিপূর্ণ মিছিলের দিনে হঠাৎ করে ৭ হাজার বহিরাগত কীভাবে হাসপাতালের ভেতরে প্রবেশ করল তা নিয়ে সরাসরি রাজ্য পুলিশকে প্রশ্ন করেছেন প্রধান বিচারপতি।
সেদিন এটা ঘটতে পারে সেটা কেন রাজ্য পুলিশ বা কলকাতা পুলিশের কাছে খবর ছিল না। কীভাবে এতোটা গাফিলতির ঘটনা ঘটল। প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রধান বিচারপতি। রাজ্য সরকার যে হাসপাতালের সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে সেকথা প্রমাণিত হয়েছে। সেদিনের ঘটনার পর হাসপাতাল চত্ত্বরে বিক্ষোভরত চিকিৎসকদের উপরে আবারও আক্রমণ নেমে আসতেই পারে। সেই আশঙ্কা প্রকাশ করেই আরজি কর হাসপাতালে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও রাজ্য সরকার বাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ মানতে নারাজ।
আরজি কর হাসপাতালের আন্দোলনকারী চিকিৎসকরা বলেছেন কতদিন তাঁদের পাহারা দেবে। তাঁরা আপাতত কর্মবিরতি প্রত্যাহার করছে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। কিন্তু এতো কিছুর পরে কি নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসকের দোষীরা শাস্তি পাবেন এই নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications