'ক্ষমতা প্রয়োগে উদাসীন নয়, সতর্ক হওয়া উচিত ছিল রাজ্যপালের', সেনা মামলায় কড়া কথা শোনাল সুপ্রিম কোর্ট
রাজ্যপালকে তাঁর ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে উদাসীনতা দেখালে চলবে না, আরও সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে আস্থা ভোটের মতো বিষয়ে তো নিঃসন্দেহে। শিবসেনা মামলা শুনতে গিয়ে বুধবার এমনই কড়া পর্যবেক্ষণ সুপ্রিম কোর্টের। কোনও সরকারি ক্ষমতাসীন দলের মধ্যে বিরোধে আস্থা ভোটের দাবি সরকার ফেলে দিতে পারে। এই ধরনের বিষয়ে রাজ্যপালের আরও সতর্ক হয়ে ক্ষমতা প্রয়োগের সুপারিশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।

সেনা বনাম সেনা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট মহারাষ্ট্রের তৎকালীন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারীর ভূমিকা নিয়ে কড়া মন্তব্য করেছে। কারণ গতবছরে এই দ্বন্দ্বে উদ্ধব ঠাকরের নির্বাচিত জোট সরকার মহারাষ্ট্রে পড়ে গিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এদিন স্পষ্ট জানিয়েছে, আস্থা ভোট কার্যকর করলে একটি নির্বাচিত সরকার পড়ে যেতে পারে, এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে রাজ্যপালের সতর্ক থাকা উচিত। এমন কোনও বিষয়ে রাজ্যপালের জড়ানো উচিত নয় যেখানে সরকার পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এমনটা গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে নেতিবাচক দৃষ্টান্ত তৈরি করে। আর সেজন্যই অত্যন্ত সতর্ক হয়ে রাজ্যপালের পদক্ষেপ করা উচিত বলে সুপ্রিম কোর্ট এদিন মন্তব্য করেছে।
তিন বছর ভালো-মন্দ মিশিয়ে সরকার চালানোর পরে সেনা-কংগ্রেস-এনসিপির মহাবিকাশ আঘাড়ি সরকারের পতন হয় গতবছরে। বিদ্রোহী হয়ে ওঠেন বর্তমানে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৎকালীন শিবসেনা নেতা একনাথ শিন্ডে। দল থেকে বেরিয়ে আস্থা ভোটে বিজেপিকে সঙ্গী করে জিতে তিনি গেরুয়া শিবিরের সাহায্য জোট সরকার তৈরি করেন।
মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারী সেসময় আস্থা ভোটের ডাক দেন। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী উদ্ধব ঠাকরে পদত্যাগ করেন ও একনাথ শিন্ডে ক্ষমতায় আসেন। পরে শিবসেনার আসল মালিক কে তা নিয়ে আদালতেও দুই পক্ষের লড়াই চলে। গতমাসে নির্বাচন কমিশন শিবসেনা নাম ও দলীয় প্রতীক একনাথ শিন্ডে শিবিরের হাতে তুলে দেয়। যদিও উদ্ধব ঠাকরে এখনও সুপ্রিম কোর্টে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
সুপ্রিম কোর্ট এদিন পর্যবেক্ষণে বলেছে, দলের নেতারা তিন বছর একসঙ্গে ছিলেন। হঠাৎ কী এমন হল যে এতটা মতান্তর তৈরি হল? দলের নেতাদের মধ্যে মতান্তর না কিছুতে হতেই পারে। তবে তাকে কেন্দ্র করে আস্থা ভোট ডাকা যায় কিনা তা অবশ্যই রাজ্যপালের ভাবার বিষয়। রাজ্যপালের আস্থাভোটের ডাক দেওয়া কোনওভাবেই প্রাসঙ্গিক নয় বলেই সুপ্রিম কোর্ট মনে করছে।












Click it and Unblock the Notifications