অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হব বৈবাহিক ধর্ষণ? কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট
অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হব বৈবাহিক ধর্ষণ? কেন্দ্রকে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট
বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না, এই বিষয়ে চলতি বছর মে মাসে দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতিরা ঐক্যমতে আসতে পারেননি। বর্তমানে মামলাটি সুপ্রিমকোর্টে তালিকাভুক্ত হয়েছে। মামলাকারীদের আবেদনে শুনানি করতে সুপ্রিম কোর্ট রাজি হয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে এই মামলার শুনানি হবে বলে জানা গিয়েছে। তবে শুনানির আগে এই মামলায় কেন্দ্র ও আবেদনকারীদের মত জানতে চেয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বর্তমানে ভারতীয় সংবিধানে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না।

বৈবাহিক ধর্ষণের আগের আবেদন মুলতুবি
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অজয় রাস্তোগি ও বিচারপতি বিভি নাহারথনারের বেঞ্চ দিল্লি হাইকোর্টের দ্বিধাভক্ত রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা আবেদনে নোটিশ জারি করেছে। অল ইন্ডিয়া ডেমক্রেটিক ইউমেন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে আইনজীবী করুণা নন্দী সুপ্রিম কোর্টে শুক্রবার উপস্থিত ছিলেন। হাজির ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্কর নায়ারণও। তিনি একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি সুপ্রিম কোর্টে জমা দিয়েছেন। সেখানে তিনি লিখেছেন, '২০১৮ সালে একই ধরনের একটি আবেদন সুপ্রিম কোর্টে করা হয়েছিল। ১৯ বার সুপ্রিম কোর্টের তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আবেদনটি মুলতুবি রয়েছে। আমরা সেই আবেদনটিকে তালিকাভুক্ত করতে পারিনি।' আদালত আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আবেদনের শুনানিতে সম্মত হয়েছে। তার আগে বৈবাহিক ধর্ষণ সংক্রান্ত বিচারাধীন সমস্ত বিষয়কে সুপ্রিম কোর্ট একত্রিত করার নির্দেশ দিয়েছে।

বৈবাহিক ধর্ষণ এখনও অপরাধ নয়!
ভারতে এখনও বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় না। বৈবাহিক সম্পর্কে মহিলারা একাধিকবার যৌন হিংসার শিকার হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন। বৈবাহিক ধর্ষণ কীসের ভিত্তিতে হবে,এই নিয়ে একাধিক সমস্যা রয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধের তালিকাভুক্ত করার ক্ষেত্রে একাধিক সীমাবদ্ধতা রয়েছেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। ভারতে এই ধরনের আইনের জেরে নতুন করে জটিলতা তৈরি হতে পারে বলে একাংশ মনে করছেন।

দ্বিধাভক্ত দিল্লি হাইকোর্ট
বৈবাহিক ধর্ষণ অপরাধ কি না, সেই বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ শুনানিতে দিল্লি হাইকোর্টের একটি বেঞ্চে বিচারপতিরা ঐক্যমতে আসতে পারেননি। জানা গিয়েছে দিল্লি হাইকোর্টে বিচারপতি রাজীব শঙ্খধর ও বিচারপতি হরিশঙ্করের মধ্যে মতপার্থক্য দেখতে পাওয়া যায়। একদিকে, দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি রাজীব শঙ্খধর মনে করছেন, ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্ত্রীর সঙ্গে জোর করে শারীরিক সম্পর্কের জন্য স্বামীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা হওয়া উচিৎ। যদিও বিচারপতি হরিশঙ্কর তা মনে করছেন না। সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, প্রতি ১০ জন বিবাহিত মহিলার মধ্যে তিন জন স্বামীর যৌন হিংসার শিকার হন।












Click it and Unblock the Notifications