পুরুষ-পুরুষ বিয়েতে কে হবেন স্ত্রী, প্রশ্ন কেন্দ্রের! সংবিধানে লিঙ্গ নিরপেক্ষ শব্দে জোর সুপ্রিম কোর্টের
সুপ্রিম কোর্টে সমলিঙ্গ বিয়ে নিয়ে শুনানি ষষ্ঠ দিলে পড়ল। এদিন সর্বোচ্চ আদালত কেন্দ্রের যুক্তি লিপিবদ্ধ করছে। বুধবার পঞ্চম দিন পর্যন্ত সর্বোচ্চ আদালত সমলিঙ্গ বিয়ে নিয়ে অন্তত ১৫ টি আবেদনের শুনানি করে। কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে সর্বোচ্চ আদালতের কাছে ওঠা প্রশ্নগুলি বিবেচনা করতে সংসদের ওপরে ছেড়ে দেওয়ার জন্য আবেদনও করে।
সরকারের পক্ষে সওয়াল করতে গিয়ে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন সর্বোচ্চ আদালত জটিল একটি বিষয় নিয়ে কাজ করছে। যার গভীর সামাজিক প্রভাব রয়েছে। তিনি বলেন, আইন প্রণয়ন এবং ব্যাখ্যার মধ্যে সীমানা নিয়ে আলোচনা দুটি বিষয়ের ওপরে ফোকাস করার প্রবণতা রয়েছে।

তুষার মেহতা বলেন, বিভিন্ন আইনের ১৫০ টি স্যাংসনের বিস্তৃত তালিকা রয়েছে। সেই কারণে এই অর্থে আসা যা না যে, সমস্যা সমাধানের থেকে তা জটিলতা তৈরি করবে। তিনি বলেন, যদি সংসদ মনে করে তাহলে ব্যাপক আইনসভার বন্দোবস্ত করতে পারে। যেখানেই অন্য আইন প্রণয়ন সংস্থাগুলি এটি করেছে, তারা অন্য সহযোগী আইনও যথাথথভাবে সংশোধন করেছে।
তুষার মেহতা বলেন, ধারা ৩৭৫-এ আছে একজন পুরুষ শুধুমাত্র ধর্ষণ করতে পারে। সেই সময় বিচারপতি ভাট জবাব দেন, যদি সমকামী পুরুষ অন্য কোনও পুরুষকে ধর্ষণ করে তাহলে ৩৭৫ না হলে ৩৭৭ ধারা আসে। সেই সময় তুষার মেহতা বলেন, হ্যাঁ ধারা ৩৭৭ শুধুমাত্র সমকামী দম্পতিদের সম্মতি দেওয়ার জন্য অপরাধমূলক করা হয়েছে।
এজি তুষার মেহতা বলেন, একটি উদাহরণের জন্য ভারতীয় দণ্ডবিধি দেখুন। মানুষ এবং নারী ধারা ১০-এর অধীনে সঞ্জায়িত করা হয়েছে। পুরুষ শব্দ সব পুরুষ মানুষকে আর নারী সব মহিলাকে বোঝায়। তুষার মেহতা আদালতের সামনে গার্হস্থ্য হিংসার আইনের কথাও উল্লেখ করেন। তিনি স্পিনস্টার এবং ব্যাচেলর সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেন এইসব শব্দ লিঙ্গ নিরপেক্ষ হতে পারে না।

জবাবে বিচারপতি ভাট বলেন, এই ভাষা আপডেট করার দরকার। তুষার মেহতা সেই সময় বলেন এটা ১৮৭২। সেই সময় বিচারপতি কোহলি বলেন, নিজেদের আপডেট করার সময়। এজি তুষার মেহতা বলেন, যদি হেফাজত একজন মায়ের কাছে যায়, তাহলে দেধতে হবে কে মা হবেন।
এজি তুষার মেহতা দত্তক নেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একটি শিশুকে দত্তক নেওয়ার আলাদা যোগ্যতা রয়েছে। যদি একজন পুরুষ হন, তাহলে তিনি ২১ বছরের কম পার্থক্যের মেয়ে শিশুকে দত্তক নিচে পারবেন না। অন্যদিকে নারী হলে সে পুরুষকে সেভাবে দত্তক নিচে পারবে না। তাই এটা লিঙ্গ নিরপেক্ষ গতে পারে না, বলেন তিনি।

তুষার মেহতা বলেন, সমলিঙ্গ বিয়েতে কে বাবা হবেন, আর কে মা হবেন। এটা পূর্বাভাসের মাধ্যমে বলা সম্ভব নয়। তুষার মেহতা যুক্তি দেন বিয়ের সময় বলা হয় স্ত্রীর বাসস্থান আছে। তবে এখানে ঠিক করতে হবে কে স্ত্রী। উত্তরাধিকার আইনে বলা হয় পিতা, মাতা, ভাই, বিধবা। দুজনের মধ্যে একজন মারা গেলে কাকে বিধবা বলা হবে।
তুষার মেহতা কেন্দ্রের পক্ষে প্রশ্ন উত্থাপন করে বলেন, পুরুষ-পুরুষের বিয়েতে কে স্ত্রী হবেন? তিনি বলেন বিবাহ বিচ্ছেদে উভয়ের কারণ থাকতে পারে। তবে ১এ ধারায় আইন শুধুমাত্র স্ত্রীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু পুরুষ-পুরুষ বিবাহের ক্ষেত্রে কে হবেন স্ত্রী?












Click it and Unblock the Notifications