Get Updates
Get notified of breaking news, exclusive insights, and must-see stories!

মাগনায় ভাতা পেয়ে অলস হয়ে যাচ্ছে আমজনতা, উষ্মা প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট

নির্বাচন আসতেই রাজনৈতিক দলগুলোর মুখে প্রতিশ্রুতির বন্যা বয়ে যায়। বিনামূল্যে বিদ্যুৎ, রেশন, নগদ অর্থের প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন নেতারা। জনমোহিনী প্রকল্পের এমন দৌড়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের কড়া প্রতিক্রিয়া এসেছে। আদালতের মতে, 'এই ধরনের সুবিধা মানুষকে কাজ করতে নিরুৎসাহিত করছে এবং সমাজে এক ধরনের "পরজীবী শ্রেণি" তৈরি হচ্ছে'।

বুধবার বিচারপতি বি.আর. গাভাই এবং বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহের বেঞ্চ গৃহহীনদের আশ্রয় সম্পর্কিত মামলার শুনানির সময় বলেন, "ভোট এলেই বিনামূল্যে রেশন, টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব সুবিধার কারণে মানুষ আর পরিশ্রম করতে চাইছে না। কাজ না করেও রেশন এবং নগদ অর্থ পাচ্ছে। এটি দেশের সার্বিক উন্নয়নের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে"।

Supreme Court

ডিভিশন বেঞ্চ আরও মন্তব্য করে, "আমরা কি পরজীবী শ্রেণি তৈরি করছি না? দরিদ্র মানুষদের সমাজের মূল স্রোতে শামিল করা হলে তারা দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারবে। শুধুমাত্র বিনামূল্যে রেশন বা অর্থ দেওয়া স্থায়ী সমাধান নয়"।

শুনানির সময়, অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরামানি আদালতকে জানান যে, সরকার শহরাঞ্চলে দারিদ্র্যতা কমানোর জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করছে। বিশেষত, গৃহহীনদের জন্য আশ্রয় এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করার কাজ চলছে।

ডিভিশন বেঞ্চ এরপর কেন্দ্রকে নির্দেশ দেয়, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কতদিন সময় লাগবে তা কোর্টকে জানাক কেন্দ্র। আদালত ছয় সপ্তাহ পর এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।

তবে এটিই প্রথমবার নয়, সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনের আগে বিনামূল্যে সুবিধা ঘোষণার বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেছে। এর আগে এক মামলায় বিচারপতি গাভাই বলেছিলেন, "বিচারকদের বেতন-পেনশন বকেয়া থেকে যাচ্ছে, অথচ রাজনৈতিক দলগুলি বিনামূল্যে অর্থ বিলিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছে"।

তিনি আরও বলেন, "দান-খয়রাতি আর জনকল্যাণের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। বিচারকদের টাকা দেওয়ার সময় অর্থনৈতিক সঙ্কটের কথা বলা হয়, অথচ নির্বাচনের সময় মহিলাদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়"।

এই প্রসঙ্গে বলে রাখা ভালো, বিনামূল্যে নগদ অর্থ প্রকল্পের সূচনা পশ্চিমবঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার' প্রকল্প দিয়ে হয়। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চালু হওয়া এই প্রকল্পে প্রথমে ৫০০ টাকা দেওয়া হলেও পরে তা বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করা হয়। তফসিলি জাতি ও জনজাতির ক্ষেত্রে ১২০০ টাকা দেওয়া হয়। এমনকি আজ যে রাজ্য বাজেট পেশ করা হচ্ছে, সেখানেও সাধারণ মানুষ তাকিয়ে এই ভেবে যে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডার-এর অর্থ নাকি আরও বাড়বে।

২০২৬ সালের নির্বাচনের আগে এই বরাদ্দ আরও বাড়ানো হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, তৃণমূল যদি ১৫০০ দেয় তো তারা ক্ষমতায় এলে ৩০০০ টাকা করে দেবে।

তবে শুধু লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নয়, দান-খয়রাতির তালিকায় রয়েছে সরকারের আরও প্রকল্প। যেমন - বিধবা ভাতা, বেকার ভাতা, মোয়াজ্জেম ভাতা, পুরোহিত ভাতা, কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, যুবশ্রী, তরুণের স্বপ্ন, স্বাস্থ্য সাথী সহ আরও একাধিক।

এরাজ্যে সরকারের যেমন রয়েছে, একাধিক প্রকল্পের সূচী, তেমনই অন্যান্য রাজ্যেও রয়েছে সরকারের একাধিক প্রকল্প। শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, মহারাষ্ট্র, ঝাড়খণ্ড, হিমাচলপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড, হরিয়ানা এবং দিল্লিতেও বিনামূল্যে নগদ অর্থ, বিদ্যুৎ, রেশন ইত্যাদির প্রতিশ্রুতি রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

এবার সেই প্রবণতা নিয়ে কড়া মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, এই ধরনের "খয়রাতি প্রকল্প" সমাজের কর্মসংস্কৃতি ধ্বংস করছে এবং মানুষকে পরিশ্রম থেকে দূরে সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। কেননা - খাদ্য, বস্ত্র বাসস্থান - এই তিন বিষয়ের জন্যেই মানুষ রোজগার করে। কিংবা শারীরিক কসরৎ করে। আর এই তিনটেই যদি না চাইতেই পাওয়া যায়, তাহলে মানুষ কী জন্যে খাটবে? আজকে দেশের শীর্ষ আদালতের এই পর্যবেক্ষণ রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিল বলেই মনে করা হচ্ছে।

More From
Prev
Next
Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+