‘ফোরাম দর কষাকষির জায়গা নয়’, হিজাব মামলার শুনানি স্থগিতাদেশের আবেদনে ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা বলেন, আবেদনকারীরা এই শুনানি স্থগিত করতে চাইছেন। এরপরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় সুপ্রিম কোর্ট। বিচরপতি জানান, এই ফোরামকে দর কষাকষির জায়গা করতে পারি না। সুপ্রিম কোর্টের এই পিটিশন তালিকাভুক্ত কর
সুপ্রিম কোর্টে মুখ পড়ল কেন্দ্রের। কর্ণাটকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাবের নিষেধাজ্ঞার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে একটি পিটিশনের মৌখিক পর্যালোচনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় সুপ্রিম কোর্ট। সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা ও সুধাংশু ধুলিয়ার একটি বেঞ্চে শুনানি স্থগিতের আবেদন করেন। তিনি বলেন, আবেদনকারীরা এই শুনানি স্থগিত করতে চাইছেন। এরপরেই তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায় সুপ্রিম কোর্ট। বিচরপতি জানান, এই ফোরামকে দর কষাকষির জায়গা করতে পারি না।

সলিসিটর জেনারেলের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিচারপতি হেমন্ত গুপ্তা বলেন, 'আপনাদের আবেদন আমাদের কাছে একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। সুপ্রিম কোর্টের এই পিটিশন তালিকাভুক্ত করার জন্য বার বার আবেদন করা হয়েছে। বিষয়টি যখন তালিকাভুক্ত হয়, শুনানি শুরু হয়, তারপরও স্থগিতাদেশ চাওয়া হচ্ছে। এখানে এই ধরনের কাজকে কখনই মান্যতা দেওয়া যায় না। উত্তরে সলিসিটর জেনারেল বলেন, অনেক আইনজীবী কর্ণাটক থেকে আসছেন। পাল্টা বিচারপতি বলেন, কর্ণাটক থেকে দিল্লিতে আসতে আড়াই ঘণ্টা সম লাগে। তার জন্য এই শুনানির স্থগিতাদেশ দেওয়া যায় না। সুপ্রিম কোর্টে সলিসিটর জেনারেল মেহেতা শুনানি দুই সপ্তাহের স্থগিতাদেশের আবেদন করেছিলেন। কিন্তু সেই আবেদনকে সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ গুরুত্ব দেয়নি। সুপ্রিম কোর্ট কর্ণাটক সরকারকে ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২-এর মধ্যে নোটিশ জারি করার আবেদন করেন।
প্রসঙ্গত, মুসলিম ছাত্রীদের হিজাবের অধিকার চেয়ে সুপ্রিম কোর্টে সরাসরি দায়ের করা হয় পিটিশন। ১৫ মার্চ কর্ণাটক হাইকোর্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হিজাব নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে বহাল রাখে। এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করা হয়। জরুরি ভিত্তি পিটিশনগুলো তালিকাভুক্ত করার আবেদন করা হয়। কিন্তু সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি এনভি রমনা মেয়াদকালে এই আবেদনগুলো তালিকাভুক্ত করা হয়নি।
প্রসঙ্গ ২ অগাস্ট প্রবীণ আইনজীবী মীনাক্ষী আরোরা তৎকালীন সুপ্রিম কোর্টের প্রধানবিচারপতি এনভি রমনার কাছে বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। পিটিশনটি তালিকাভুক্ত করার আবেদন করেছিলেন। সেই সময় প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি রমনা শীঘ্রই বেঞ্চ গঠন করে বিষয়টি তালিকাভুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছিলেন। এর দুই সপ্তাহ আগে ১৩ জুলাই প্রশান্ত ভূষণ এই আবেদনটি জরুরি ভিত্তিতে তালিকাভুক্ত করার আবেদন করেছিলেন। সেই সময় জানিয়েছিলেন, মার্চ থেকে মামলাটি তালিকাভুক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তালিকা ভুক্ত করা হয়নি। সেই সময় প্রধান বিচারপতি দুই সপ্তাহ পরে মালমার তালিকা করতে সম্মত হয়েছিলেন। এর আগে মার্চে জরুরি ভিত্তি তালিকাভুক্ত করার আবেদন করা হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে।












Click it and Unblock the Notifications