উস্কানি মূলক কথা আইনত দণ্ডনীয়, আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির
উস্কানি মূলক কথা আইনত দণ্ডনীয়, আইন সংশোধনের প্রস্তাব দিয়ে বিস্ফোরক অভিযোগ সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতির
হরিদ্বারের ধর্মসভায় একের পর এক উস্কানি মূলক মন্তব্য নিয়ে শোরগোল পড়ে গিয়েছে গোটা দেশে। এই নিয়ে শীর্ষ আদালতে মামলাও হয়েছে। সেই রেশ ধরেই সুপ্রিম কোর্টের অবসর প্রাপ্ত বিচারপতি রোহিন্টন নারিমন বলেছেন উস্কানি মূলক মন্তব্য আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ এবং সংসদের উচিত এই ধরনের মন্তব্যে জন্য যেন শাস্তি হয় এমন আইন সংশোধন করা। সেই সঙ্গে বিজেপিকে নিশানা করে তিনি বলেছেন, শাসক দল এই বিষয়টি নিয়ে চুপ করে রয়েছে এবং উস্কানি মূলক মন্তব্যকে প্রশ্রয় দিচ্ছে তারা।

হরিদ্বারের ধর্মসভায় ধর্মগুরুদের একের পর এক উস্কানিমূলক মন্তব্য চলেছে। রুদ্ধদ্বার সেই সভা হলেও সেখানে যেভাবে ঘৃণার পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল তা যথেষ্ট উদ্বেগজনক তাতে কোনও সন্দেহ নেই। মুসলিমদের বিরুদ্ধে হিন্দুদের অস্ত্র তুলে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে। ভারতে কিছুতেই মুসলিম প্রধানমন্ত্রী হতে দেওয়া যাবে না বলে সেখানে হুঙ্কার তোলা হয়েছে। ভারতে মুসলিমদের সংখ্যা যাতে না বাড়ে তার জন্য অস্ত্র তুলে নিতে বলা হয়েছিল। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাস হয়েছিল সেই ভিডিও বার্তা। তারপরেই শোরগোল পড়ে যায়। সুপ্রিম কোর্টে এই নিয়ে মামলা পর্যন্ত হয়েছে। এই ঘটনায় কেন কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি তা নিয়ে উত্তরাখণ্ড সরকারকে নোটিস পাঠিয়েছে শীর্ষ আদালত। এবং আলিগড়ে যাতে এই ধরনের ধর্মসভা না হয় তার জন্য সাংসবাদিক এবং স্থানীয় সংগঠন গুলিতে তৎপর হওয়ার অনুমতি দিয়েছে শীর্ষ আদালত।
তারপরেই সুপ্রিম কোর্টের অবসর প্রাপ্ত বিচারপতির এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সরাসরি তিনি শাসকদলকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেছেন, একদিকে যেমন সরকার কমেডিয়ান থেকে ছাত্র সকলকে গ্রেফতার করছে প্রকাশ্যে সরকারের সমালোচনা করার জন্য তাহলে কেন যাঁরা উস্কানি দিচ্ছে তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা যাবে না। একদল সরকারের এই একপেশে নীতির সুযোগ নিয়ে গণহত্যার প্ররোচনা দিচ্ছে। শাসক দলের উচিত এই ধরনের উস্কানি মূলক মন্তব্যের জন্য আইন প্রণয়ন করা। তাতে আইনত সাজা দেওয়ার মত আইন সংশোধন করা উচিত। কিন্তু সেটা না করে শাসক দল তাতে প্ররোচনা দিচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য সামনেই ৫ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে মোদী সরকারে বিরুদ্ধে শীর্ষ আদালতের অবসর প্রাপ্ত বিচারপতিক এই ধরনের মন্তব্য যে প্রভাব ফেলবে তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বিশেষ করে উত্তরাখণ্ড এবং উত্তর প্রদেশে তার প্রভাব পড়বে। কারণ উত্তর প্রদেশ আর উত্তরাখন্ডে জাতপাতের রাজনীতি বেশি হয়ে থাকে। হরিদ্বারের ধর্মসভার ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই সেকারণে উত্তরাখণ্ডে বেশ চাপে পড়েছে বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications