হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার নয়, সাংসদ ও বিধায়কদের নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের
বিধায়ক (mla) ও সাংসদদের (mp) বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (supreme court) । এক নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের (high court) অনুমতি ছাড়া
বিধায়ক (mla) ও সাংসদদের (mp) বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলা নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের (supreme court) । এক নির্দেশে সুপ্রিম কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, নির্দিষ্ট রাজ্যের হাইকোর্টের (high court) অনুমতি ছাড়া কোনও সাংসদ কিংবা বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা (criminal procedings) তুলে নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি সর্বোচ্চ আদালত আরও বলেছে, বিশেষ আদালতে সাংসদ কিংবা বিধায়কদের বিরুদ্ধে শুনানিতে যেসব বিচারক কিংবা বিচারপতিরা রয়েছেন, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁদের সেখানেই কাজ চালিয়ে যেতে হবে।

তিন বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ
প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার নেতৃত্বে, বিচারপতি ভিনীত সরণ এবং বিচারপতি সূর্য কান্তের ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি করে। সাংসদ কিংবা বিধায়কদের বিরুদ্ধে যেসব ফৌজদারি মামলা রয়েছে তা নিয়ে নির্দেশ দেন। পাশাপাশি বিশেষ আদালত গঠন করেও এই সংক্রান্ত মামলা দ্রুত শুনানির ব্যাপারে নির্দেশ দিয়েছেন তাঁরা। বিচারপতিরা বলেছেন, ফৌজদারি কার্যবিধির ৩২১ নম্বর ধারার অধীন ক্ষমতা অপব্যবহারের বিষয়ে। তাঁরা মনে করছেন হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা প্রত্যাহার করা যাবে না। সেটাই তাঁরা উপযুক্ত বলে মনে করেছেন।

যাঁরা শুনানি করছেন, তাঁদের কাজ চালিয়ে যেতে নির্দেশ
বকেয়া মামলাগুলির নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে যাঁরা সাংসদ ও বিধায়কদের সংক্রান্ত মামলায় বিশেষ আদালতে শুনানি করছেন, কিংবা সিবিআই আদালতে, পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা সেই পদেই কাজ চালিয়ে যান। তবে এর বাইরে রাখা হচ্ছে বিচারপতি কিংবা বিচারকদের অবসরগ্রহণ কিংবা মৃত্যু সংক্রান্ত বিষয়। এবসব ব্যাপারে সর্বোচ্চ আদালতের তরফে হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে বিচারপতিদের বদলিতে ছাড় দেওয়ার ব্যাপারে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের সামনে বেশ কিছু মামলা প্রত্যাহারের ঘটনার উল্লেখ
শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের সামনে এই ধরনের বেশ কিছু মামলা প্রত্যাহারের ঘটনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে মুজফফরনগরে গোষ্ঠী সংঘর্ষে যুক্ত থাকার মতো বিষয়ও। বলা হয়েছে, উত্তর প্রদেশ সরকার বিধায়ক সঙ্গীত সোম, সুরেশ রানা, কপিল দেব, সাধ্বী প্রাচীর বিরুদ্ধে মামলা তোলার জন্য আবেদন করেছে। অন্যদিকে কর্ণাটক সরকার ৩১ জুলাই আদেশ দিয়ে বলেছে ৬১ টি মামলা তুলে নিতে। যার মধ্যে হয়েছে রাজ্য বিধানসভা সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা বেশ কিছু মামলা। পাশের রাজ্যে মহারাষ্ট্রেও একই ঘটনা। সেখানকার শিবসেনা জোট সরকার ২০১৯-এর ৩১ ডিসেম্বরের আগে থাকা বেশ কিছু রাজনৈতিক মামলা তুলে নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে।
আইনসভার সদস্যদের বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলাগুলির দ্রুত শুনানি করতে যাতে ব্যবস্থা নেওয়ার হয় তার জন্য ২০১৬-তে আবেদন করেছিলেন বিজেপি নেতা তথা আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায়। এদিন সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দেয় বিজয় হান্সারিয়ার পেশ করা রিপোর্টের ভিত্তিতে। দেখা গিয়েছে, গত দু বছরে বর্তমান কিংবা প্রাক্তন সাংসদ, বিধায়কদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলার সংখ্যা প্রায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
এর আগে সুপ্রিম কোর্টের তরফে সিবিআই এবং ইডিকে বলা হয়েছিল সাংসদ ও বিধায়কদের বিরুদ্ধে থাকা মামলার স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিতে। এব্যাপারে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন, সোমবার ইডি তাদের স্ট্যাটাস রিপোর্ট জমা দিয়েছে। তবে সিবিআই-এর ক্ষেত্রে এই রিপোর্ট জমা দেওয়া বাকি রয়েছে।

নির্বাচিত হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে জমা দিতে হবে নথি
পাশপাশি রাজনীতিতে অপরাধ মুক্ত করতে করতেও নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বলা হয়েছে, কোন প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার ৪৮ ঘন্টার মধ্যে সেই দলকে সেই প্রার্থী সম্পর্কে অপরাধের যা যা অভিযোগ রয়েছে, সেই সম্পর্কে নথি জমা দিতে হবে। এব্যাপারে ২০২০-র ১৩ ফেব্রুয়ারি সর্বোচ্চ আদালতের রায়ের কিছুটা বদল করে নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতি নরিম্যান এবং বিচারপতি গভাইয়ের ডিভিশন বেঞ্চ। এর আগের নির্দেশে বলা হয়েছিল প্রার্থী নির্বাচিত হওয়ার ৪৮ ঘন্টা থেকে দু সপ্তাহের মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক দলগুলিকে তাদের প্রার্থী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ করতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলি কেন অভিযুক্ত ব্যক্তিকে প্রার্থী করল, তার কারণ প্রকাশ করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি সর্বোচ্চ আদালতে পিটিশন দাখিল করে বলা হয়, রাজনৈতিক দলগুলি নির্দেশ মানছে না। যে কারণে এবার ৪৮ ঘন্টার সময়সীমা বেধে দেওয়ার পথে হাঁটল সর্বোচ্চ আদালত।












Click it and Unblock the Notifications