মণিপুরের ঘটনায় একেবারে উদ্বিগ্ন সুপ্রিম কোর্ট! ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ
মণিপুর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। অশান্তির কারণে যেভাবে সে রাজ্যে সাধারণ জনজীবন এবং ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। মামলার শুনানিতে এটি একটি মানবিক সমস্যা বলেও উল্লেখ করে আদালত।
গত কয়েকদিন ধরে লাগাতার উত্তেজনা ছিল মণিপুরে। একের পর এক ভবনে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। কার্যত রণক্ষেত্র পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামলাতে কয়েক হাজার সেনাবাহিনীকে মোতায়েন করা হয় মণিপুরে।

এখনও পর্যন্ত সে রাজ্যের হিংসার ঘটনায় ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। এই অবস্থায় মণিপুরকে নিয়ে একাধিক মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। আজ সোমবার প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি পিএস নরসিমা এবং জেবি পারদিওয়ালার বিশেষ বেঞ্চে এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি হয়।
শুনানি শেষে হিংসায় ক্ষতিগ্রস্তদের নিরাপত্তা দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্য এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে এহেন নির্দেশ শীর্ষ আদালতের। শুধু নিরাপত্তা দেওয়াই নয়, ক্ষতিগ্রস্তদের জন্যে পুনর্বাসন এবং ত্রাণের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের ডিভিশন বেঞ্চে।
মামলার শুনানিতে প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড় পর্যবেক্ষণে বলেন, মণিপুরের ঘটনা খুবই দুঃখজনক। এই ঘটনায় যেভাবে প্রাণহানি এবং সম্পত্তিহানির ঘটনা ঘটেছে তাও দুর্ভাগ্যজনক বলে এদিন মন্তব্য করে শীর্ষ আদালত। তবে পুরো বিষয়টি আদালত উদ্বিগ্ন বলেও মন্তব্য প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়ের।
আর এরপরেই হিংসায় যে সমস্ত মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং বাড়ি ছেড়ে ত্রাণ শিবিরে উঠতে বাধ্য হয়েছেন তাঁদের জন্যে পর্যাপ্ত খাদ্য, পানীয় জল-সহ উপযুক্ত ত্রাণের ব্যবস্থা করতে কেন্দ্র এবং মণিপুর সরকারকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। বলে রাখা প্রয়োজন, মণিপুর হিংসা নিয়ে নজর রাখছেন খোদ অমিত শাহ। আইন মেনে সমস্ত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলেও গত কয়েকদিন আগে মন্তব্য করেন আইনমন্ত্রী কিরণ রিজেজু।

ইতিমধ্যে একাধিকবার পরিস্থিতি নিয়ে মণিপুরের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন অমিত শাহ। সেখানে দাঁড়িয়ে এদিনের সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ খুবই গুরুত্বপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। বলে রাখা প্রয়োজন, গত কয়েকদিন ধরে নতুন করে কোনও অশান্তির ঘটনা সামনে আসেনি।
তবে সে রাজ্যে এখনও পর্যন্ত ১০০ কোম্পানি বাহিনীকে মোতায়েন করা হয়েছে। চলছে তল্লাশি। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে এখনও ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বন্ধ রাখা হয়েছে ইন্টারনেট পরিষেবাও। যদিও আতঙ্ক সরিয়ে ধীরে ধীরে রাস্তায় নামছে বহু মানুষ।












Click it and Unblock the Notifications