তবলিঘি জামাত ইস্যুতে সংবাদ সম্প্রচারে রীতিমতো ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট, কড়া নির্দেশ কেন্দ্রকে
তবলিঘি জামাত ইস্যুতে মিডিয়া রিপোর্ট নিয়ে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত
ভুয়ো টিআরপি কাণ্ডের রেশ ধরে ইতিমধ্যেই সমস্ত টিভি চ্যানেলের জন্য অভিন্ন আচরবিধি প্রণয়নের ইঙ্গিত দিয়েছে কেন্দ্রীয় তথ্য সম্প্রচার মন্ত্রী প্রকাশ জাভড়েকর। এমতাবস্থায় তবলিঘি জামাত ইস্যুতে সম্প্রচারিত খবর নিয়ে এবার সুপ্রিম কোর্টের তোপের মুখে পড়ল কেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক কমিটি তৈরির নির্দেশ
এদিনই তবলিঘি জামাত ইস্যুতে মিডিয়া রিপোর্টিং নিয়ে কেন্দ্রের হলফনামায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এস এ বোবদে। আগামীতে যাতে এই ধরণের খবর সম্প্রচারে রাশ টানা যায় তাই যত দ্রুত সম্ভব কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক কমিটি তৈরির কথাও জানা শীর্ষ আদালত।

তীব্র কটাক্ষের সুর সুপ্রিম কোর্টের গলায়
এদিকে টেলিভিশনে এই ধরনের খবর সম্প্রচারের বিরুদ্ধে এতদিন কেন্দ্র ঠিক কী পদক্ষেপ করেছে তাও সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতার কাছে জানতে চান বিচারপতি বোবদে। একইসাথে সঠিক হলফ না জমা না দেওয়ায় রীতিমতো ক্ষোভও প্রকাশ করেন তিনি। দ্বার্থ্যহীন ভাষাতেই কেন্দ্রের সমালোচনা করে প্রধান বিচারপতি বলেন, "এভাবে কিছুতেই চলতে পারে না। অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি প্রশ্নের উত্তরই আপনাদের হলফনামায় নেই।"

ফের তিন সপ্তাহ পরে শুনানি
দীর্ঘদিন থেকে এই জাতীয় সমস্যা চলতে থাকলেও কেন্দ্র আগেই কোনও পদক্ষেপ করেনি কেন সেই বিষয়েও ক্ষোভ উগরে দেন সুপ্রিম কোর্টের বিতারপতিরা। অন্যদিকে এনবিসি-র কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তোলে শীর্ষ আদালত। সূত্রের খবর, নিয়ন্ত্রক কমিটির বাস্তবায়ন নিয়ে ও কাজের অগ্রগতি নিয়ে আগামী তিন সপ্তাহ পরে ফের এই মামলার শুনানি হবে সুপ্রিম কোর্টে।

৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দ
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, গোটা দেশে মার্চ-এপ্রিলে যখন জাঁকিয়ে বসছে মারণ ভাইরাস তখন করোনা ছড়ানোর অভিযোগে সরাসরি তবলিঘি জামাতের দিকে আঙুল তুলতে দেখা যায় দেশের বেশ কিছু সংবাদমাধ্যমকে। আর এর পরেই সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দেওয়ার অভিযোগে ৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে জমিয়তে উলেমা-এ-হিন্দ নামে একটি ইসলামী সংগঠন।

আসল ঘটনার সূত্রপাত কোথায় ?
এমনকী অনেক খবরের সত্যতা যাচাই না করেই তা পরিবেশনার অভিযোগ ওঠে। জামাতের সদস্যরা স্বাস্থ্যকর্মীদের উপর আক্রমণ করেছে বলেও রটে যায় বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের হাত ধরে। যদিও যার সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া হলফনামায় জানিয়েছে কেন্দ্র। কিন্তু কেন্দ্রের কথায় হতাশা প্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। সরকারি তত্ত্বাবধান থাকা সত্ত্বেও এই জাতীয় ঘটনা ঘটে কী করে সেই প্রশ্ন করেন এস এ বোবদে। কিন্তু কেন্দ্রের যুক্তি এখনও খবর সেন্সর করার কোনও অবকাশ তাদের হাতে নেই। এদিকে সুপ্রিম তোপের মুখে পড়ে আগামীতে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা এলে তাতে মিডিয়ার স্বাধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে না তো? সাম্প্রদায়িক উষ্কানি ঠেকাতে গিয়ে মিডিয়ার স্বাধীনতা প্রশ্নচিহ্নের সামনে পড়ে যাবে না তো ? সেই কথাই ভাবাচ্ছে সকলকে।












Click it and Unblock the Notifications