পাঁচতারা হোটেলে বসে বন্ধ করুন কৃষকদের দায়ী করা, দিল্লির দূষণ নিয়ে সরকারের ওপর ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট
দিল্লির বায়ু দূষণ নিয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ সুপ্রিম কোর্ট। বুধবারও দিল্লি সরকারকে এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। এদিন সুপ্রিম কোর্টের পক্ষ থেকে জানানো হয় যে দিল্লিবাসীরা পাঁচ ও সাততারা হোটেলে বসে দূষণের জন্য কৃষকদের ওপর দায় চাপাচ্ছেন। শীর্ষ আদালত এও জানিয়েছে যে দিল্লিবাসীরা কি কৃষকদের দুর্দশা জানেন?

দিওয়ালির পর থেকেই দিল্লির বাতাসের পরিস্থিতি মোটেও ভালো নয়। অবশ্য এই ঘটনা প্রথম নয়, বরং প্রত্যেক বছরই একই দৃশ্য দেখা যায় দিল্লিতে। এ বছরও সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞাকে অমান্য করে রাজধানীর একাধিক এলাকায় আতসবাজি ফাটানো হয়। যার ফলস্বরূপ গোটা দিল্লি এখন ধোঁয়ায় ঢেকেছে। তবে এর পাশাপাশি যানবাহনের দূষণ, খড় পোড়ানো ও শিল্পাঞ্চলের দূষণকেও দায়ী করা হয়েছে এই বাযু দূষণের জন্য। বুধবার এই সংক্রান্ত মামলার শুনানি চলাকালীন ভারতের প্রধান বিচারপতি এনভি রামানা দিল্লিতে বাজি পোড়ানো নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, 'কিছু দায়িত্ব নিজেদেরকেও নিতে হবে এবং বিচার ব্যবস্থার আদেশে সবকিছু করা যায় না।’ তিনি কৃষকদের খড় পোড়ানো প্রসঙ্গে বলেন, 'দিল্লিতে পাঁচ/সাত তারা হোটেলে বসে লোকেরা সমালোচনা করে যে তারা কীভাবে দূষণের মাত্র চার, ৩০ বা ৪০ শতাংশ অবদান রাখে। আপনি কি তাদের (কৃষকদের) জমি প্রতি আয় দেখেছেন? নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বাজি পোড়ানোর বিষয়টি আমরা উপেক্ষা করছি কী করে?’
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এও বলেন, 'আতসবাজি নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও তা ফেটেছে এই সত্যকে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। কিছু দায়িত্ব নিজেদেরকেও নিতে হবে। বিচার ব্যবস্থার আদেশের ভিত্তিতে সবকিছু করা যায় না।’ এরপর তিনি সরাসরি জানতে চান যে আতসবাজি নিষেধ হওয়া সত্ত্বেও কেন দিওয়ালির পর ১০ দিন ধরে বাজি ফাটানো হল। অন্যদিকে, দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে যেখানে উল্লেখ রয়েছে দূষণ সমস্যা নিয়ে পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে দিল্লি একমাত্র যেখানে অফিস বন্ধ করে সম্পূর্ণভাবে ওয়ার্ক ফ্রম হোম মোডে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দিল্লি–এনসিআরের দূষণ সমস্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে শুনানি চলাকালীন বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, 'সরকারি অফিস বন্ধ থাকা সত্ত্বেও কেন এক বা দুইদিন আপনার সরকার যানজট বন্ধ করতে পারছেন না?’ দিল্লি সরকারের পক্ষ থেকে আইনজীবী অভিষেক মনু সিংঘভি এ প্রসঙ্গে বলেন, 'আমি (দিল্লি) একমাত্র রাজ্য পাঁচটি রাজ্যের মধ্যে, যেখানে অফিসের কাজ ১০০ শতাংশ ওয়ার্ক ফ্রম হোমে স্থানান্তর করা হয়েছে। আমরা সব ধরনের আর্থিক সহযোগিতা করছি।’
এদিকে কেন্দ্রের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেওয়া সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা এদিন আদালতে বলেন, 'এনসিআর-এর সমস্ত সরকারকে ২১ নভেম্বর পর্যন্ত চারটি অব্যাহতিপ্রাপ্ত বিভাগ ছাড়া বাকি সব নির্মাণ কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা জারি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিশন দিনে অন্তত তিনবার ঝুঁকিপূর্ণ হটস্পটে স্মগ টাওয়ার, স্প্রিংকলার এবং ধুলো দমনকারী ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়েছে।’ তুষার মেহতা আদালতকে আরও জানান যে কমিশন এনসিআর-এর অধীনে থাকা এলাকাগুলিকে জরুরি পরিষেবা ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে ডিজেল জেনারেটর সেটের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়াও, অননুমোদিত জ্বালানি ব্যবহার করা শিল্পগুলি অবিলম্বে বন্ধ করা এবং গ্যাস সংযোগ রয়েছে এমন শিল্পগুলিকে অবিলম্বে সিএনজিতে স্থানান্তরিত করার কথাও বলেছেন সলিসিটর জেনারেল।












Click it and Unblock the Notifications