আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে কংগ্রেসের আবেদনে সাড়া সুপ্রিম কোর্টের, শুনানি কবে
দুইটি অনুরূপ বিষয়ের সঙ্গে কংগ্রেসের এই আবেদনটিকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। একই দিনে তিনটি মামলা শুনবেন প্রধান বিচারপতি।
হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্ত চেয়ে কংগ্রেস নেতা আবেদন করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। সেই আবেদনে সাড়া দিল সুপ্রিম কোর্ট। সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছেন এই মামলার শুনানি হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। জরুরি তালিকার জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে এই মামলাটি উল্লেখ করা হয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শর্ট সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের প্রকাশিত প্রতিবেদনে আদানি গোষ্ঠীর উপর খাঁড়া নেমে আসে। আদানি গোষ্ঠী শেয়ার ধসে বিশাল অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়ে। কিন্তু আদানি গোষ্ঠী সেই রিপোর্ট মানতে নারাজ। এরপর হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি করে কংগ্রেস নেত্রী ডা. জয়া ঠাকুর সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে।
বুধবার সুপ্রিম কোর্ট এই মামলাটির শুনানিতে সম্মত হয়েছে। শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ১৭ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার। কারসাজি ও অসৎ উপায়ে আদানি গোষ্ঠীর কোম্পানির শেয়ারের দাম বাড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ। এই মামলার জরুরি শুনানি চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়ের কাছে মামলাটি উল্লেখ করা হয়।
১৭ ফেব্রুয়ারি দুইটি অনুরূপ বিষয়ের সঙ্গে কংগ্রেসের এই আবেদনটিকেও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টে সরকার হলফনামা দিয়ে বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের ব্যাপারে সম্মতি জানানোর পর শুক্রবার অর্থাৎ ১৭ ফেব্রুয়ারি পরবর্তী শুনানি ধার্য করে হয়েছিল। আবার আদানি-হিন্ডেনবার্গ ইস্যুতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা প্রবল সমস্যায় পড়েছে। কীভাবে সেখান থেকে রক্ষা পেতে পারেন ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা, তা নিয়ে সেবিকে প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। ভারতের শীর্ষ আদালত সেবিকে উপায় বের করার আর্জি জানিয়েছিল। সেবিকে বলা হয় কীভাবে নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে শক্তিশালী করা যায়, তার রূপরেখা তৈরি করা হোক। সেই মামলারও ওইদিনই শুনানি হবে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে।
আমেরিকার শর্ট বিক্রেতা হিন্ডেনবার্গের রিসার্চে আদানি গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে আর্থিক অসঙ্গতির অভিযোগ মেলে। এই সম্পর্কে সুপ্রিম কোর্ট বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির প্রতিক্রিয়া চায়। শুধু প্রতিক্রিয়াই নয় একটা বিধিবদ্ধ উপায় বের করার আর্জি জানানো হয়। শীর্ষ আদালত চাইছে যে করেই হোক ভবিষ্যৎ বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত রাখতে। তার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে গুরু্ত্বপূর্ণ ভূমিকা নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
শীর্ষ আদালত এদিন স্পষ্ট করেই জানিয়ে দেয়, ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষিত রাখার জন্য যা যা ব্যবস্থা করার করতে হবে। সামগ্রিক বিষয় খতিয়ে দেখে আদালত সেটাই মনে করছে। এ জন্য বিচারপতি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠনের পরামর্শ দিয়েছিল তারা। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়েছিল নিয়ন্ত্রক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করতে হবে।
মার্কিন শর্ট-সেলিং ফার্মের হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের ষড়যন্ত্রের যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার তদন্ত চেয়েও আইনজীবী বিশাল তিওয়ারি এবং মনোহরলাল শর্মা পিআইএল দায়ের করেন। গৌতম আদানির কোম্পানিগুলির ১০০ বিলিয়ন ক্ষতি হয়েছিল বলে জানানো হয় রিপোর্টে। তার ফলে তিনি বিশ্বব্যাপী ধনী তালিকা এক ধাক্কায় প্রথম ১০-এর নীচে নেমে যান।












Click it and Unblock the Notifications