পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় আত্মহত্যার হুমিক 'বুল্লি বাই' অ্যাপের মূল অভিযুক্তের
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদের সময় আত্মহত্যার হুমিক 'বুল্লি বাই' অ্যাপের মূল অভিযুক্তের
সোশ্যাল মিডিয়া ও বিধিনিষেধহীন ইন্টারনেটের ব্যবহারের ক্ষতিকারক শিকড়গুলি ক্রমশ সমাজের গভীরে প্রবেশে করছে। 'বুল্লিবাই' অ্যাপের ঘটনা তা আরও একবার প্রমান করে। এবার আরও এক নতুন মোড় বুল্লিবাই অ্যাপের ঘটনায়! দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর এই অ্যাপ কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত নীরজ বিষ্ণোই পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের সময় দু'বার সুইসাইডের চেষ্টা করেছে। কয়েকদিন আগেই এই অ্যাপ কাণ্ডে জড়িত আর এক মেয়কে ক্ষমা করার আবেদন জানিয়েছিলেন লেখক, কবি, চিত্রনাট্যকার জাভেদ আখতার৷

কী জানা গিয়েছে দিল্লি পুলিশ সূত্রে?
দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর সম্প্রতি বুল্লিবাই অ্যাপের মাস্টারমাইন্ড নীরজ পুলিশ কাস্টডিতেই দু'বার আত্মহত্যার চেষ্টা করে, এবং তদন্তের জিজ্ঞাসাবাদ চলার সময় আত্মহত্যার হুমিক দেয়। কিন্তু এরপরই তাঁর মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়। এবং যাতে সে কোনওভাবেই নিজের ক্ষতি না করতে পারে সে বিষয়ে অতি সতর্ক নজর রাখা শুরু করেছে দিল্লি পুলিশ৷ দিল্লি পুলিশের এক আধিকারিক একটি সর্বভারতীয় বৈদ্যুতিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছে যে তদন্তে গতিরোধের জন্যই এই প্রচেষ্টা নিয়েছে নীরজ।

কী বলছেন আইএফএসও অফিসার?
ইন্টেলিজেন্স ফিউশন অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক অপারেশনস (আইএফএসও) স্পেশাল সেলের ডিসিপি কেপিএস মালহোত্রা, যিনি বিষ্ণোইয়ের গ্রেপ্তার অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, এর আগে বেশ কয়েকটি ভারতীয় এবং পাকিস্তানি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইট হ্যাক করে সেগুলিতে ইচ্ছে মতো পরিবর্তন করেছিল বিষ্ণোই। সে নিজেই এই বিষয়টি দাবি করেছে জিজ্ঞাসাবাদের সময়। দিল্লি পুলিশ তাঁর এই দাবির সত্যতা অনুসন্ধান করছে। 'বুল্লি অ্যাপ' কাণ্ডে যেদিন মুম্বাই পুলিশ উত্তরাখণ্ড থেকে শ্বেতা ঝা (১৮) কে গ্রেপ্তার করে সে দিন মাস্টারমাইন্ড নীরজ 'গিউ৪৪' টুইটার হ্যান্ডেল সহ অন্য আরও একটি টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে মুম্বই পুলিশকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেয়ে তাঁকে চিহ্নিত করে গ্রেফতার করার জন্য।

পাকিস্তানের স্কুলের ওয়েবসাইট হ্যাক করেছিল নীরজ!
নীরজকে জিজ্ঞাসাবাদের সময়, দিল্লি পুলিশ জানতে পেরেছে যে উল্লিখিত আইডিটি অ্যানিমে ওয়ার্ল্ডের একটি গেমিং চরিত্র জিআইওয়াইইউ (GIYU)-এর সঙ্গে সম্পর্ককিত। এই অ্যানিমে চরিত্রটির প্রতি নীরজ বিষ্ণোই বিশেষ ভালোলাগা রয়েছে, ( অ্যানিমে হল জাপানি অ্যানিমেশনের একটি ছোটরূপ)। নীরজ বেশ কয়েকটি টুইটার হ্যান্ডেল থেকে অপারেট করত, যার প্রায় প্রত্যেকটিতে 'জিআইওয়াইইউ' শব্দটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। পুলিশ সূত্রের খবর, নীরজ মুম্বাই পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে (প্রাথমিকভাবে টুইটার গ্রুপ চ্যাটের মাধ্যমে) যোগাযোগ করার কথা স্বীকার করেছে। বিষ্ণোই প্রকাশ করেছেন যে তিনি টুইটার হ্যান্ডেল @সুলিডিলস (@Sullideals) এর স্রষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যিনি গিটহ্যাবে এ সুলিডিল অ্যাপ তৈরি করেছিলেন এবং তিনি এটি প্রচারও করেছিলেন।












Click it and Unblock the Notifications