আত্মহত্যা না খুন? কাজে গিয়ে রহস্যমৃত্যু পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দার, ভিনরাজ্যে বাঙালিদের নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন
ভিনরাজ্যে কাজ করতে গিয়ে বাংলার বাসিন্দাদের ঘিরে আবারও অস্বাভাবিক মৃত্যুর অভিযোগ উঠল। গুজরাত থেকে কর্ণাটক, মহারাষ্ট্র, তিন রাজ্যে তিনটি আলাদা আলাদা ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে চারিদিকে।

প্রথম ঘটনা হল গুজরাতের আমদাবাদে। পূর্ব বর্ধমানের নাদনঘাট থানা এলাকার এক ৩৮ বছরের মহিলা বছর দেড়েক আগে সেখানে একটি হোটেলে ওয়েটারের কাজ করতে যান। গত শুক্রবার হোটেল কর্তৃপক্ষ বাড়িতে ফোন করে জানিয়েছে যে, তিনি নাকি আত্মহত্যা করেছেন। হোটেলের একটি ঘর থেকে ওই মহিলার একটি ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে। তবে তাঁর পরিবারের দাবি যে, এটি কোনও আত্মহত্যা নয় বরং, পরিকল্পিত খুন। ইতিমধ্যেই মহিলাটির দেহ গ্রামে ফেরত এসেছে। সঠিক তদন্তের দাবি জানিয়ে মহিলাটির পরিবার নাদনঘাট থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।
দ্বিতীয় ঘটনাটি হল কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতে। এক বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিক সেখান থেকে মুর্শিদাবাদে ফিরছিলেন। অভিযোগ যে, ট্রেনে তাঁর পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে প্যান এবং আধারকার্ড দেখতে চাওয়া হয়। অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি যে, তারপর তাঁকে চলন্ত ট্রেন থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া হয়। তবে, বিজেপি এই অভিযোগটি অস্বীকার করেছে।
তৃতীয় ঘটনা ঘটেছে মহারাষ্ট্রের পুণেতে। পুরুলিয়ার তুমড়াশোল গ্রামের এক বাসিন্দা সুখেন মাহাতো নামের পরিযায়ী শ্রমিকের দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর ধরেই তিনি পুণের একটি গাড়ির যন্ত্রাংশ তৈরির কারখানায় কর্মরত ছিলেন। ৯ ফেব্রুয়ারি নিজের কর্মস্থলে যাওয়ার পর হঠাৎই নিখোঁজ হয়ে যান তিনি। পরেরদিন কারখানার কাছ থেকে তাঁর দেহ উদ্ধার করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ যে, বাংলা ভাষায় কথা বলার কারণেই তাঁকে খুন করা হয়েছে। আজ ওই ব্যক্তির দেহ পুণে থেকে পুরুলিয়ায় নিয়ে আসার কথা রয়েছে।
পরপর এই তিনটি ঘটনায় ভিনরাজ্যে কর্মরত বাঙালিদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।












Click it and Unblock the Notifications