SIR আতঙ্কে ফের আত্মহত্যা! ২০০২-এর তালিকায় নাম না-থাকায় 'গলায় দড়ি', দাবি পরিবারের
স্বচ্ছ ভোটার তালিকা তৈরীর জন্য দেশের কয়েকটি রাজ্যে ঘোষিত হয়েছে এসআইআর। আর এই এসআইআর (SIR)-এর আবহে আত্মঘাতী হয়েছেন আবারও এক বৃদ্ধ। পানিহাটির প্রদীপ করের পর এবার প্রাণ হারালেন পশ্চিম মেদিনীপুরের কোতোয়ালি থানার কোরা পাড়া গ্রামের এক বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমের ইলামবাজার ব্লকে। আত্মহত্যার এই ঘটনাকে ঘিরে ব্যাপকভাবে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আত্মঘাতী ব্যক্তির নাম ক্ষীতীশ মজুমদার। পূর্বে তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন। ইলামবাজর থানার অন্তর্গত স্কুল বাগান সুভাষপল্লী গ্রামে মেয়ের বাড়িতে এসেছিলেন ক্ষীতীশ মজুমদার। জানা গিয়েছে, আগে তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা হওয়ায় SIR নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কিত ছিলেন। এই আতঙ্কের জেরেই মেয়ের বাড়িতে তিনি গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন বলে খবর। ইতিমধ্যে, মৃতদেহ উদ্ধার করে হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পুরো পরিবারে।

পরিবারের সদস্যদের থেকে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই আত্মঘাতী ওই বৃদ্ধা এক অস্বাভাবিক চিন্তায় ভুগছিলেন। প্রায় তিন দশক আগে ক্ষিতীশ মজুমদার তাঁর পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে এসে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় বসবাস শুরু করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা সেখানেই স্থায়ীভাবে বসবাস করেছেন এবং একাধিকবার ভোটও দিয়েছেন তিনি। কিন্তু সম্প্রতি আশপাশের মানুষের মুখে শুনে তিনি বারবার বলতেন, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় তাঁর নাম নেই, তাহলে কি তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে? এই প্রশ্নই তাঁকে মানসিক দিক থেকে ভীষণভাবে অস্থির করে তোলে। হঠাৎ বুধবার গভীর রাতে নিজের ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পেয়েই তাড়াতাড়ি পুলিশকে খবর দেন।
মৃত বৃদ্ধের পরিবারের একজন সদস্য নির্মলা মজুমদার বলেন, ''সুভাষপল্লি গ্রামের বাড়িটা আমার পিসির বাড়ি ছিল। দাদু এখানে এসে বসবাস করছিলেন। ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় নাম ছিল না দাদুর। অনেক বছর আগে বাংলাদেশ থেকে চলে এসেছিলেন তাঁরা। আসলে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছিল তাঁকে। তাই তিনি ভয় পাচ্ছিলেন, এই বুড়ো বয়সে যদি আবার বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে কী হবে?''
তৃণমূল নেতৃত্বের তরফ থেকে বলা হয়েছে, যেদিন থেকে মানুষ এসআইআর (SIR) বা এনআরসি-র কথা শুনেছে ঠিক তারপর থেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বহু মানুষ। এই মৃত্যুর দায়কে বিজেপি সরকারকেই নিতে হবে। এনআরসি-র ভয়ে মঙ্গলবার আত্মঘাতী হয়েছেন উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটির বাসিন্দা প্রদীপ। তেমনই বলেছে তাঁর লিখে যাওয়া সুইসাইড নোট। যেটা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল ছড়িয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে।












Click it and Unblock the Notifications