বিজেপি ১ শতাংশের নীচে নামবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে! শেষের শুরুর বার্তা সুদীপের
বিজেপি ১ শতাংশের নীচে নামবে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে! শেষের শুরুর বার্তা সুদীপের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে শক্তি বাড়াচ্ছে কংগ্রেস। সম্প্রতি জেপি নাজড্ডা সমৃদ্ধ বিজেপির সভা ও কংগ্রেসের এক সাধারণ সভার তুলনা করে ফারাক বোধালেন সদ্য নির্বাচিত বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তাঁর কথায়, ভোট যত এগিয়ে আসবে ততই বিজেপি তলানিতে পৌঁছে যাবে। বিজেপির শেষের শুরু হয়ে গিয়েছে।
|
কংগ্রেস ও বিজেপির সভার তুলনায় সুদীপ
কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সুদীপ রায় বর্মন দাবি করেছেন, বিগত তিন মাস ধরে দেখা যাচ্ছে কংগ্রেসে যোগদানের হিড়িক পড়ে গিয়েছে। বিজেপি, তৃণমূল, এমনকী সিপিএম ছেড়েও দলে দলে কংগ্রেসে যোগদান করছেন নেতা-কর্মীরা। আর তারপর বিজেপির সভায় যে উপস্থিতি দেখা গেল, তাতে স্পষ্ট মানুষ কী চাইছেন।

বিজেপি ১২০০ লোক সমবেত করতে পারেনি!
সুদীপ রায় বর্মন বলেন, বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি এসেছিলেন ত্রিপুরা সফরে। তাঁকে সামনে রেখে জনসভায় বিজেপি ১০০০-১২০০ লোক সমবেত করতে পারেনি বিজেপি। আর আমরা ধর্মনগরে লোকাল নেতৃ্ত্বকে নিয়ে সভা করে দেখিয়ে দিয়েছি। এই দুই জনসভাই প্রমাণ মানুষ কী ইঙ্গিত বহন করছে।

মানুষ সাগ্রহে পায়ে হেঁটে কংগ্রেসের সভায়
তিনি বলেন, আমরা কোনও গাড়ি দিইনি। কোনও আয়োজন করিনি লোক জমায়েতের জন্য। তা সত্ত্বেও মানুষ সাগ্রহে পায়ে হেঁটে আমাদের সভায় এসেছেন। আর বিজেপি গোটা রাজ্য থেকে লোক জোগাড় করেও সভাস্থল ভরাতে পারেনি। ত্রিপুরার বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা উৎফুল্ল। তারপর সম্প্রতি ত্রিপুরা কংগ্রেসে তিনদিনের মধ্যেই সাড়ে পাঁচ হাজার ভোটার যোগদান করেছেন বলে দাবি।

ভোটের আগে ০.৫ শতাংশে নেমে আসবে বিজেপি
সুদীপের কথায়, ত্রিপুরার মানুষ ক্ষমতা পরিবর্তনের আভাস দিতে শুরু করেছেন। এবারও পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। বিজেপি ১.৫ শতাংশে নেমে এসেছে বর্তমানে। নির্বাচনের আগে ওঁরা ০.৫ শতাংশে নেমে আসবে বলে মনে হচ্ছে। অর্থাৎ বিজেপি ফিনিশ। এবার ত্রিপুরায় ফের সুদিন ফিরবে, কংগ্রেসের নেতৃত্বে সরকার গড়ে উঠবে।

সুদীপের ঘর ওয়াপসিতে অক্সিজেন পেয়েছে কংগ্রেস
সম্প্রতি বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে ঘর ওয়াপসি হয়েছে প্রাক্তন বিরোধী দলনেতা সুদীপ রায় বর্মনের। কংগ্রেসের বিরোধী দলনেতা দলবদল নিয়ে ২০১৬-য় তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। কংগ্রেসে বিধানসভায় শূন্য হয়ে গিয়েছিল রাতারাতি। তারপর ২০১৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। মন্ত্রীও হয়েছিলেন। কিন্তু এক বছরও সুখে ঘর করতে পারেননি তিনি।

কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার লড়াইয়ে সুদীপরা
২০২৩-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ফের তিনি ফিরে এসেছেন কংগ্রেসে। সম্প্রতি উপনির্বাচনে জিতে কংগ্রেসের বিধায়কও নির্বাচিত হয়েছেন। একইসঙ্গে কংগ্রেসকে ফের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে সংগঠন মজবুত করতে নেমেছেন ময়দানে। প্রতিদিন তাঁর লড়াই চলছে। কংগ্রেসকে শক্তিশালী করার লড়াইয়ে তিনি নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

মহাশক্তিধর হয়ে ফিরে আসার চেষ্টায় কংগ্রেস
সুদীপ রায় বর্মন ও আশিস সাহা কংগ্রেসে ফিরে আসার পর থেকেই শক্তি বাড়তে শুরু করেছে। দফায় দফায় যোগদান চলছে। বিজেপি, সিপিএম ও তৃণমূল ছেড়ে কংগ্রেসে যোগদান করছেন হাজার হাজার মানুষ। বিজেপির হাত থেকে মুক্তি চাইছেন তাঁরা। আর বিকল্প শক্তি হিসেবে চাইছেন কংগ্রেসকে। ২০২৩ সালের শুরুতেই বিধানসভা নির্বাচন ত্রিপুরায়। তার আগে মহাশক্তিধর হয়ে ফিরে আসার চেষ্টায় কংগ্রেস।

বিজেপির হাত থেকে মুক্তি চাইছে ত্রিপুরার মানুষ
কংগ্রেসের দাবি, মানুষ বিজেপিকে উৎখাত করতে চাইছে ত্রিপুরা থেকে। কারণ ত্রিপুরায় ২৫ বছর ধরে বামফ্রন্টের সরকার ছিল। সিপিএম নেতৃত্বাধীন এই সরকারের বিরুদ্ধেও ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠেছে। স্বজনপোষণ, দুর্নীতি, অনুন্নয়নের ত্রিপুরায় বিজেপি পরিবর্তন এনেও ত্রিপুরাবাসীকে প্রতিহিংসার রাজনীতি আর হিংসা ছাড়া কিছু দিতে পারেনি। তাই মানুষ চাইছে মুক্তি।












Click it and Unblock the Notifications