Subrata Roy: সাইকেলে করে চানাচুর বিক্রেতা থেকে সাহারা ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠা, কীভাবে সব হারালেন সুব্রত রায়
দীর্ঘরোগ ভোগের পর গতকাল রাতে মুম্বইয়ের হাসপাতালে মারা যান সাহারা ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সুব্রত রায়। একটা সময়ে দেশের প্রভাবশালী শিল্পপতিদের তালিকায় নাম ছিল তাঁরা। আম্বানিদের আগেও নেওয়া হত সুব্রত রায়ের নাম।
কিন্তু রাতারাতি সেই জনপ্রিয়তা এবং প্রভাব প্রতিপত্তি হারিয়ে গিয়েছিল তাঁর। জেল খাটতে পর্যন্ত হয়েছে সাহারা কর্তাকে। যিিন বিমান কোম্পাির মালিক ছিলেন তিনি জেলের ভাতও খেয়েছেন। কঠিন লড়াইয়ে ভরা ছিল তাঁর জীবন। গোটা দেশে সাহারা গোষ্ঠীর ৫০০০টির মতো প্রতিষ্ঠীন রয়েছে।

সুব্রত রায়ের জীবন ছিল বৈচিত্রে মোড়া। প্রথম জীবনে চেনাচুর িনমকি বিক্রি করতেন তিনি। বাঙালি ব্যবসা করতে পারে না বলে যে ধারনা রয়েছে তা ভুল প্রমাণ করে দেখিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭৮ সালে সাহারা ইন্ডিয়া সংস্থািট প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সুব্রত রায়। সংস্থার কর্মীরা তাঁকে সারাহাশ্রী বলেই ডাকতেন।
১৯৪৮ সালে ১০ জুন বিহারের আরারিয়া জেলায় জন্মেছিলেন তিনি। পরে বাবা গোরক্ষপুরে এসে বসবাস শুরু করেছিলেন কাজের জন্য। সুব্রত রায়ের বাবার নাম সুধীরচন্দ্র রায়। ভাইবোনদের সঙ্গে গোরক্ষপুরেই বড় হয়েছিলেন তিনি। কলকাতা শহরের হোলিচাইল্ড স্কুলে পড়াশোনা করেছেন তিনি। সেখান থেকে গোরক্ষপুরের মেকানিকাল ইঞ্জিিনয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা করেন তিনি।
পড়াশোনা শেষ করে চাকরির চেষ্টা করার আগেই পিতৃবিয়োগ হয় তাঁর। পরিবারের খরচ যোগাতে শেষ গোরক্ষপুরের শহরে স্কুটারে করে চেনাচুর এবং নোনতা খাবার বিক্রি করতেন তিনি। সেখান থেকেই সাহারা ইন্ডিয়ার যাত্রা শুরু। গোরক্ষপুরেই প্রথম অফিস খুেলছিলেন তিনি। দিনমজুরদের কাছে টাকা নিয়ে সেটা সুদ দিয়ে দ্বিগুণ করে ফেরত দেওয়ার ব্যবসা শুরু করেছিলেন তিনি। যাকে এক কথায় বলা হতো চিটফান্ড।
সেই ৪২ জন শ্রমিক তাঁদের দৈনিক রোজগারের ২০ শতাংশ সাহারায় বিনিয়োগ করতেন। প্রথমে তাঁর সংস্থার কর্মী সংখ্যা ছিল ৩। এখন সাহারা ইন্ডিয়ায় ১২ লক্ষের বেশি কর্মী কাজ করেন। ধীরে ধীরে ব্যবসা বাড়তে থাকে এবং দেশের প্রভাবশালী শিল্পপতিতে পরিণত হল সাহারা ইন্ডিয়ার কর্নধার সুব্রত রায়। প্রধানমন্ত্রী থেকে বলিউডের সেলিব্রেটি সর্বত্র তাঁর অবাধ যোগাযোগ ছিল।
কিন্তু ২০০৮ সাল থেকে সাহারা ইন্ডিয়ার বিরুদ্ধে চিটফান্ড চালানোর অভিযোগ করে অভিযান শুরু করে সেবি। ২০১৪ সালে গ্রেফতার হন সাহারা কর্তা। দিল্লির তিহার জেলে বন্দি ছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। তার পর থেকে বাইরেই ছিলেন সাহারা কর্তা।












Click it and Unblock the Notifications