মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের ভাবনাকে 'নিস্ফলা প্রক্রিয়া' বলে আক্রমণ সুব্রহ্মণিয়াম স্বামীর
অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন সুব্রমণিয়াম স্বামী। বুধবার সুপ্রিমকোর্টে অযোধ্যার জমি বিতর্কের শুনানি শেষ হতেই বাইরে বেরি তিনি
অযোধ্যায় রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করলেন সুব্রমণিয়াম স্বামী। বুধবার সুপ্রিমকোর্টে অযোধ্যার জমি বিতর্কের শুনানি শেষ হতেই বাইরে বেরিয়ে এসে নিজের ক্ষোভ উগড়ে দেন। তিনি স্পষ্টতই রাম জন্মভূমি-বাবরি মসজিদ জমি বিতর্কে নতুন করে মধ্যস্থতার ভাবনার বিরোধিতা করেন। তিনি সাফ জানান এটা একটা 'নিষ্ফলা প্রক্রিয়া'।

সুব্রহ্মণিয়াম স্বামী জানান, পি ভি নরসিমা রাও-এর প্রধানমন্ত্রীত্বকালে তিনি নিজে মধ্যস্থতাকারী হয়েছিলেন। তাতে এক বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করে দিয়েছিলেন। ,এই রিপোর্টকে গ্রহণ করা হয়। এরপরও কীভাবে ফের মধ্যস্থতার প্রসঙ্গ আসতে পারে। এখন যখন এই বিতর্কের একটা মিমাংসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তখন তাতে নতুন করে মধ্যস্থতার কথা বলা হচ্ছে। এতে বিতর্ক আরও দীর্সূত্রিতা পাবে। কোনও পক্ষের লাভ হবে না বলেই মনে করছেন সুব্রহ্মণিয়াম স্বামী।
সরকার বিতর্কিত জমির বিনিময়ে রামজন্মভূমি ন্যায় সমিতি এবং সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড-কে আর্থিক ক্ষিতপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে। এই ক্ষতিপূরণের পর বিতর্কিত জমি পুরোপুরি সরকারের। আর যেহেতু এই জমি-তে আগে মন্দির ছিল এটা আদালতেও প্রমাণিত হয়েছে, তাই এই জমি রামজন্মভূমি ন্য়ায় সমিতির হাতে আসার কথা। এই অবস্থায় যদি ফের মধ্যস্থতাকারী বসানো হয় তাহলে ফের ২০ বছরের জন্য অযোধ্যা বিতর্ক ঝুলে থাকার সম্ভাবনা বলেই দাবি করেছেন সুব্রহ্মণিয়াম স্বামী। এই প্রসঙ্গে এদিন তিনি তিনটি পয়েন্ট-কেও টেনে আনেন। যার প্রথমটি হল যে জমি সরকারের তা প্রমাণিত হয়েছে। এবার যারা রামজন্মভূমি-বাবরি মসজিদ-এর 'টাইটেল' মামলায় জয়ী হবে তারা জমির উপরে অধিকার ফলাতে পারবে না। এতে সরকার সিদ্ধান্ত নেবে এবং সরকারকে আদালত আগে এই বিষয়ে যে অবস্থান নিয়েছে তা মেনেই কাজ করতে হবে। সুব্রহ্মণিয়াম স্বামীর দ্বিতীয় পয়েন্টটি হল- পিভি নরসিমা রাও-এর সরকারও মেনে নিয়েছিল যে বিতর্কিত জমিতে আগে মন্দির ছিল। সুতরাং এই জমি হিন্দুদের প্রাপ্য। তৃতীয় পয়েন্টটি হল- সুপ্রিমকোর্টের সাংবিধানিক বেঞ্চ জানিয়েছে, এই জমিতে আগে মন্দির ছিল। মসজিদ যে কোনও স্থানেই বানানো যায়। কিন্তু, মন্দির একস্থান থেকে অন্যস্থানে সরানো যায় না। কারণ ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী প্রাণ প্রতিষ্ঠার বিষয়টি এতে জড়িয়ে আছে।
নিজের অবস্থানে অনড় থেকেই সুব্রহ্মণিয়াম স্বামী জানিয়ে দিয়েছেন, 'এখানে মধ্যস্থতার আর কোনও জায়গা নেই। আদালত যদি এখন বলে বিতর্কিত জমি অর্ধেক অর্ধেক করে দুই ধর্মের মধ্যে ভাগাভাগি করে নিতে তা হলে তা আমরা মানব না। মধ্যস্থতা কাকে বলে। যদি মুসলিমরা বলে যে আমাদের আরও কিছু ক্ষতিপূরণ দাও এবং আমরা অন্যত্র গিয়ে মসজিদ বানাচ্ছি- তাহলে এই প্রস্তাবটা মধ্যস্থতা করার মতো।' তিনি আরও বলেন যে যেখানে সাহাবুদ্দিন বিতর্কিত জমিতে মন্দির থাকার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন এবং ক্ষতিপূরণ গ্রহণ করে জায়গা ছাড়ার কথা বলেছেন। তারপরেও কিছু মুসলিম সংগঠন এর বিরোধিতা করে এখন মধ্যস্থতা চাইছেন।












Click it and Unblock the Notifications