অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে করোনাকে বাড়তে সাহায্য করছে 'স্টেরয়েড', মত এইমস প্রধানের
অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে করোনাকে বাড়তে সাহায্য করছে 'স্টেরয়েড', মত এইমস প্রধানের
পেশীবহুল শরীর হোক বা অন্যান্য যেকোনো শারীরিক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান! গত একদশকে বহুল বেড়েছে 'স্টেরয়েড'-র চাহিদা। আর যথেচ্ছ স্টেরয়েড নেওয়া করোনা আবহে যে আদপে ব্যুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে, তা স্পষ্ট জানিয়েছেন এইমসের পরিচালন অধিকর্তা ডঃ রণদীপ গুলেরিয়া। স্টেরয়েড কোভিড ভাইরাসকে উদ্দীপ্ত করছে প্রতিলিপি তৈরি করতে, সঙ্গে কমছে অক্সিজেনের মাত্রাও, সোমবার এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন রণদীপ।

ভাইরাসকে 'স্টেরয়েড'!
অক্সিজেনের অভাবে ত্রাহি ত্রাহি রব দেশজুড়ে। তারই মোকাবিলায় সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডাকে আয়োজিত হয় জরুরি বৈঠক। অন্যদিকে করোনার বাড়বাড়ন্তে যে স্টেরয়েডের ভূমিকা রয়েছে, তা স্পষ্ট করেছেন ডঃ রণদীপ। গুলেরিয়ার মতে, "করোনা নিউমোনিয়াকে ভয়ংকর রুপ দিচ্ছে স্টেরয়েড। অসুস্থতার প্রথম ৫দিনে এই হরমোনের কোনো ভূমিকা না থাকলেও পরবর্তীতে কোভিডের ক্ষেত্রে অনুঘটক হয়ে উঠছে এই স্টেরয়েড!"

"৩০-৪০% উপসর্গহীন রোগী সেরে ওঠেন নিজেই"
চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া স্টেরয়েড নেওয়া, বা করোনা রিপোর্ট পজিটিভ এলেই সিটি স্ক্যান ও অন্যান্য পরীক্ষা করানোর ক্ষেত্রে সাফ 'না' জানিয়েছেন গুলেরিয়া। তাঁর মতে, "সামান্য সংক্রমণের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যানের প্রয়োজনীয়তা নেই। শুধু শুধু দেহকে তেজস্ক্রিয়তার আওতায় নিয়ে যাওয়া একেবারেই বুদ্ধিমানের কাজ নয়।" পাশাপাশি গুলেরিয়ার বক্তব্য, "হোম আইসোলেশনে থাকা রোগীর অক্সিজেন মাত্রা ঠিক থাকলে বা উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তের ক্ষেত্রে ৩০-৪০% রোগী সেরে ওঠেন নিজে নিজেই!"

সি-রিয়্যাক্টিভ প্রোটিন বেশি? স্টেরয়েড নিলে ফল মারাত্মক
তেজস্ক্রিয়তার নিরিখে একটি সিটি স্ক্যান ৩০০-৪০০টি বুকের এক্স-রের সমান। ফলে ঘনঘন স্ক্যান যে অদূর ভবিষ্যতে বাড়বে ক্যান্সারের সম্ভাবনা, সে কথা জানিয়েছেন ডঃ গুলেরিয়া। পাশাপাশি করোনা রিপোর্ট পজেটিভ এলেই যে সি-রিয়্যাক্টিভ প্রোটিন (সিআরপি) ও ডি-ডাইমার টেস্ট করানোর দরকার নেই, তাও জানান চিকিৎসক। সিআরপি বেশি এলে স্টেরয়েড নেওয়ার প্রবণতা রয়েছে জনসাধারণের, তার ফল যে মারাত্মক তা স্পষ্ট জানান এইমস প্রধান। ডঃ রণদীপের মতে, "রিপোর্ট পজেটিভ এলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অহেতুক টেস্টে মনোবল ভাঙা ছাড়া আর কিছুই হবে না।"

পরীক্ষা পিছনোয় 'শাপে বর'?
সম্প্রতি কেন্দ্রের নির্দেশে প্রায় ৪ মাসের জন্য পিছিয়ে গিয়েছে নিট-পিজি পরীক্ষার নির্ঘন্ট। এমতাবস্থায় কোভিড আবহে চিকিৎসকরা যে আরও বেশি করে সর্বশক্তি নিয়োজিত করতে পারবেন, তার পূর্বাভাস দিয়েছেন রণদীপ। অন্যদিকে সংক্রমণের গ্রাফে নিম্নমুখী প্রবণতা ধরা পড়েছে গত তিনদিনে, মত কেন্দ্রের। যদিও প্রায় ২২টি রাজ্যে পজিটিভিটি হার যেভাবে ১৫%-র আশেপাশে ঘোরাফেরা করছে, তাতে এখনই যে স্বস্তি মিলছে না, সে ইঙ্গিত স্পষ্ট।












Click it and Unblock the Notifications