কান্ডারী আরএসএস, হরিয়ানায় বিজেপির সাফল্য এল কোন পথে
লোকসভা নির্বাচনে জনসমর্থন হারিয়েছিল বিজেপি। বিধানসভা ভোটে সেই জনসমর্থন ফিরিয়ে আনল গেরুয়া শিবির। হরিয়ানা বিধানসভা নির্বাচনে বড় জয়। শুধু তাই নয়, তৃতীয় বারের জন্য সরকার গঠন করছে বিজেপি। কিন্তু কীভাবে এই অসম্ভব সম্ভব হল?
লোকসভা নির্বাচনে এই রাজ্যে ব্যাপক ধাক্কা খায় বিজেপি। এই রাজ্যের পাঁচটি লোকসভা আসন ২০২৪ সালে হাতছাড়া হয়। বিজেপির ভোটব্যাঙ্কেও ধাক্কা লেগেছিল৷ সেই ক্ষত কয়েক মাসেই সারিয়ে ব্যাপক সাফল্য বিজেপির। আগের বিধানসভা নির্বাচনের থেকেও বেশি আসন নিজেদের দখলে৷ ভোটব্যাঙ্কও বাড়ল।

বিজেপি ও আরএসএসের কাছে হরিয়ানার নির্বাচন এবার খুব চ্যালেঞ্জিং ছিল। আরএসএস মাটি আঁকড়ে কাজ করেছে। তার ফল পাওয়া গেল। সেই কথাও শোনা যাচ্ছে। ২০২০ - ২০২১ সালে কৃষকদের আন্দোলনের সময় বিজেপির জনপ্রিয়তায় আঘাত লেগেছিল। তৃণমূল স্তরে দলের কর্মী, স্থানীয় নেতাদের মধ্যেও অসন্তোষ বেড়েছিল।
আগস্টে আরএসএস অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা প্রকাশ করে। তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের অধীনে হরিয়ানা সরকার উজ্জ্বলতা হারাচ্ছে। বিজেপি গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে জনসংযোগ শুরু করে। প্রার্থী বাছাই, গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন, সুবিধাভোগী প্রকল্পের প্রচার এবং দলীয় কর্মী ও প্রার্থীদের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সেপ্টেম্বরের প্রথম দিকে, আরএসএস একটি গ্রামীণ ভোটার প্রচার কর্মসূচি চালু করে। প্রতিটি জেলায় কমপক্ষে ১৫০ জন স্বেচ্ছাসেবক নেওয়া হয়। জনসংযোগ বাড়ানো, বিজেপি বিরোধিতা কমানোর জন্য প্রচার শুরু হয়। আরএসএস ১৬ হাজারের এরও বেশি সভা করেছে বলে খবর। বিজেপি ক্যাডারদের বদলে আরএসএস প্রচার করে। আর এর ফলে বিজেপি বিরোধিতা কমতে থাকে।
মুখ্যমন্ত্রী নয়াব সিং সাইনিকেও গ্রাউন্ড লেভেলে জনসংযোগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ১ থেকে ৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে, আরএসএস প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে প্রায় ৯০ টি মিটিং করেছে। বিজেপি কর্মী এবং গ্রামীণ ভোটারদের সঙ্গে প্রায় ২০০ টি মিটিং করেছে। দলীয় ঐক্য ও কৌশলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এই কাজ করা হয়। আরএসএস ও বিজেপির তাল মিলিয়ে কাজ করায় ইভিএম মেশিনে সাফল্য এসেছে। এই কথা মনে করা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications