মহারাষ্ট্রে বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠন প্রসঙ্গে আড়াআড়ি বিভাজন শিবসেনায়

মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সি নিয়ে জোটসঙ্গী বিজেপির সঙ্গে বিরাগভাজন সেনা যখন যোগাযোগ রাখছে এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই ২৫ জন বিধায়ক ফড়নবীশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে।

সমীকরণের মাঝেই তৈরি হচ্ছে অন্য সমীকরণ। মাহারাষ্ট্রে রাজনীতির এখন এটাই নয়া চালচিত্র। মুখ্যমন্ত্রিত্বের কুর্সি নিয়ে জোটসঙ্গী বিজেপির সঙ্গে বিরাগভাজন সেনা যখন যোগাযোগ রাখছে এনসিপি ও কংগ্রেসের সঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই ২৫ জন বিধায়ক ফড়নবীশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে জানা গিয়েছে। পরিস্থিতি এমন গিয়ে ঠেকেছে যে ভাঙন দেখা দিয়েছে সেনার অন্দরেই।

বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠনের পক্ষে সেনার একাংশ

বিজেপির সঙ্গে সরকার গঠনের পক্ষে সেনার একাংশ

সূত্রের খবর সেনার শীর্ষ নেতারা মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবিতে অনড় থাকলেও দলের প্রায় ২৫ জন বিধায়ক বর্তমান অচলাবস্থা কাটিয়ে বিজেপির সঙ্গে দ্রুত সরকার গঠনের বিষয়ে আগ্রহী। এদিকে বিজেপিও জানিয়ে দিয়েছে যে সেনার সঙ্গে বৈঠকে বসতে তারা প্রস্তুত তবে মুখ্যমন্ত্রিত্ব ছাড়া যে কোনও বিষয়ে আলোচনা করবে তারা। বিজেপির সাফ বক্তব্য, আগামী পাঁচ বছর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হবে তাদেরই দলের।

সেনার বিকল্প পথে বাধা

সেনার বিকল্প পথে বাধা

কয়েকদিন আগেই সেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউত দাবি করেছিলেন শিবসেনা ১৭০ জন বিধায়কের সমর্থন তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। বিজেপি মুখ্যমন্ত্রিত্ব ত্যাগ করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় বিকল্প পথ খুঁজতে শুরু করেছিল শিবসেনা। সঞ্জয় রাউত এই বিষয়ে কথা বলতে বেশ কয়েকবার দেখা করেছেন এনসিপি প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গে। তবে সেই পথেও সমাধান সূত্র পায়নি সেনা শিবির। বুধবার শিবসেনার সঙ্গে জোটের সম্ভাবনা সপাটে খারিজ করেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার।

সেনার সঙ্গে জোটে 'না' এনসিপি-র

সেনার সঙ্গে জোটে 'না' এনসিপি-র

এর আগে শিবসেনা এনসিপির সমর্থন চাইলে বেশ কিছু প্রস্তাব দিয়েছিল শরদ পাওয়াররা। তাঁরা ফিফটি ফিফটি ফরমুলায় শিবসেনার সঙ্গে জোট গড়তে চেয়েছিলেন। সরকার গড়ার পর প্রথম আড়াই বছর শিবসেনার বিধায়করা সরকারের নেতৃত্বে থাকবেন। তার পরের আড়াই বছর নেতৃত্বের জায়গায় আসবে এনসিপির বিধায়করা। শুধু তাই নয় নগরোন্নয়ন, রাজস্ব, অর্থ এবং জনপরিষেবা দফতরে ক্ষমতার সমান বিভাজন দাবি করেছিল এনসিপি। এমনকী কেন্দ্রে বিজেপির সঙ্গও ছাড়তে বলা হয়েছিল শিবসেনাকে। তবে সেনা-বিজেপির ২৫ বছরের শরিকি সম্পর্ক। সেটা হঠাৎ করে ভেঙে যাওয়া সম্ভব নয় বলে মত প্রকাশ করেন পাওয়ার। সেই ক্ষেত্রে সেনার সঙ্গে জোট গঠন করলে তা এনসিপির জন্য অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যাবে বলে সেই জোট থেকে সরে আসেন শরদ পাওয়ার।

২৫ সেনা বিধায়ক যোগোযোগ রেখেছেন বিজেপি-র সঙ্গে

২৫ সেনা বিধায়ক যোগোযোগ রেখেছেন বিজেপি-র সঙ্গে

এদিকে নির্দল বিধায়ক রবি রানা বুধবার দাবি করেন, শিবসেনার ২৫ জন বিধায়ক নাকি ফড়নবীশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তাঁরা বিজেপির নেতৃত্বেই মহারাষ্ট্রে সরকার গড়তে চায়। সেকারণেই নির্দল বিধায়ক রবি রানা এদিন দাবি করেছেন মহারাষ্ট্রে ফের ফড়নবীশ সরকারই আসছে। তিনি নিজেও সরকার গঠনের জন্য ফড়নবীশেই আস্থা দেখিয়েছেন। যদিও এই বিষয়ে সেনার দাবি, বিজেপি টাকার লোভ দেখিয়ে তাদের দলের বিধায়কদের ভাঙানোর চেষ্টা করছে। এই অভিযোগ এনে আজ দলীয় মুখপত্র সামনাতে একটি প্রতিবেদনও ছাপে শিবসেনা।

কাটবে কবে অচলাবাস্থা?

কাটবে কবে অচলাবাস্থা?

এদিকে ৯ নভেম্বরের মধ্যে মহারাষ্ট্রে কোনও রাজনৈতিক দল সরকার গঠনের দাবি না জানালে রাজ্যপাল নিজে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন। কারণ এদিনই শেষ হয়ে যাচ্ছে মহারাষ্ট্রের বিধানসভার কার্যকালের মেয়াদ। কাজেই মহারাষ্ট্রে সরকার গঠন নিয়ে চরম উত্তেজনা পূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়ে রয়েছে। বিজেপি উপর ক্রমশ চাপ বাড়াচ্ছে শিবসেনা। এদিকে শিবসেনার অন্দরেই ভাঙন তৈরি করছে বিজেপি। সূত্রের খবর শপথ গ্রহন অনুষ্ঠানের জন্য ইতিমধ্যেই বিজেপি ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়াম বুক করে ফেলেছে।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+