দেশে তৈরি অত্যাধুনিক ব্রহ্মস মিশাইলকে চিন সীমান্তে নিয়ে আসার ভাবনা কেন্দ্রের
দেশে তৈরি অত্যাধুনিক ব্রাহ্মস মিশাইলকে চীন সীমান্তে নিয়ে আসার ভাবনা কেন্দ্রের
প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় ফের কোনও সংঘর্ষ ঘটেনি ঠিকই। তবে, গতবছরের গলওয়ান উপত্যকার রক্তাক্ত স্মৃতি এখনও তাজা। সম্প্রতি আবার দেখা গিয়েছে, প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার কাছে চিনা সেনার গতিবিধি দেখা গিয়েছে। প্রত্যুত্তরে পিছিয়ে নেই ভারতও। চিনা গতিবিধি দেখে চারধাম রোড প্রকল্পে গতি আনছে ভারত সরকার। কারণ হিসেবে মোদী সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চারধামের এই চওড়া রাস্তাগুলি মিসাইল পরিবহণের কাজে ব্যবহৃত হবে। এর আগে ভীষ্ম ট্যাংক থেকে একাধিক ভয়ঙ্কর অস্ত্রে চিন সীমান্ত সাজিয়েছে কেন্দ্র৷ চারধাম রোড নিয়ে কেন্দ্রের এই বক্তব্যের পর মনে করা হচ্ছে ব্রহ্মসের মতো অত্যাধুনিক মিশাইল এবার চিনের এলএসি (অ্যাকচুয়াল লাইন অফ কন্ট্রোলে) দাঁড় করতে চলেছে ভারত৷

কী এই চারধাম রোড?
যমুনোত্রী, গঙ্গোত্রী, কেদারনাথ এবং বদ্রিনাথ সনাতন বিশ্বাস অনুযায়ী এই চারটি স্থানই অত্যন্ত পবিত্র। আর এই পবিত্র তীর্থস্থানে যাতে সবরকম আবহাওয়ায় পৌঁছোনো যায়, তার জন্যই মোট ন'শো কিলোমিটার বিস্তৃত রাস্তা তৈরির প্রকল্প শুরু করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। এই প্রকল্পে বরাদ্দ করা হয়েছিল মোট ১২ হাজার কোটি টাকা। এবার এই প্রকল্পই বেশ কিছুটা মডিফাই করতে চায় কেন্দ্রীয় সরকার। বৃহস্পতিবার আদালতে এই বিষয়টি দেশের সর্বোচ্চ আদালতকে জানিয়েছে কেন্দ্র।

যুদ্ধের আশঙ্কার প্রকাশ করেছে কেন্দ্র!
দেশের সর্বোচ্চ আদালতে স্পষ্টভাবে যুদ্ধের আশঙ্কার কথা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, যদি সেনাবাহিনী নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র, সরঞ্জাম, মিসাইল প্রকৃত ভারত-চীন নিয়ন্ত্রণরেখায় নিয়ে যেতে না পারে, তাহলে লড়বে কীভাবে? আর এই কারণেই ২০২০র ৮ ই সেপ্টেম্বরের নির্দেশিকায় বদল আনতে চায় তারা। ওই নির্দেশিকায় ৫.৫ মিটার চওড়া চারধাম সংযোগকারী রাস্তা তৈরির কথা বলা ছিল। ওই রাস্তাটিই চিন সীমান্ত অবধি বিস্তৃত হওয়ার কথা!

কী বলছেন কেন্দ্রের অ্যাটর্নি জেনারেল?
কেন্দ্রের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে ভেনুগোপাল বলেন, ' প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় সেনাবাহিনীর বিপুল সংখ্যক অস্ত্রশস্ত্র, মিসাইল, সৈন্য সহ বড় গাড়ি নিয়ে যাওয়া প্রয়োজন। আমাদের ব্রাহ্মস মিসাইল ৪২ ফুট লম্বা। সেটিকে নিয়ে যেতে গেলে বড় এবং ভারী গাড়ি লাগবে৷ এরপর যদি যুদ্ধের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয় এবং সেনাবাহিনী এই সমস্ত সরঞ্জাম পরিবহন করতে না পারে। তাহলে লড়াই করবে কীভাবে?' তিনি আরও বলেন, 'ভগবান না করুন যুদ্ধ লাগে। তবে যুদ্ধের জন্য আমাদের সর্বদা প্রস্তুত থাকতেই হবে৷

কী বলছেপরিবহন মন্ত্রক?
দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পরিবহন মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তারপরই জানান সেনাবাহিনীর এমন রাস্তা চাই, যার মাধ্যমে বছরের ১২ মাস যাতায়াত সম্ভব। আর এই ব্যবস্থা আমাদেরই করে দিতে হবে৷ আমরা এটা মোটেই বলতে পারি না যে আমাদের রাস্তা মাত্র ৫.৫ মিটার চওড়া তাই ব্রহ্মস মিসাইল নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাছাড়াও বহু ট্রাক, রকেট লঞ্চার প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় রাখা প্রয়োজন ।'












Click it and Unblock the Notifications