একশোর বেশি আসনের জন্য বিশেষ কৌশল বিজেপির! চারশো পেরোতে যেসব প্যারামিটার পূরণ করতে হবে
লক্ষ্য বেঁধে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মোদী। সঙ্গে বলেছেন, লোকসভা নির্বাচনে এনডিএকে চারশো পেরোতে গেলে বিজেপিতে অবশ্যই ৩৭০ পেরোতে হবে। সেই পরিস্থিতিতে সংগঠন জোরদার করা থেকে শুরু করে নির্বাচনী স্লোগান তৈরির কাজও এগিয়েছে। বিজেপির স্লোগান তিসরি বার, চারশো পার।
এনডিএ-র জন্য সারা দেশে চারশো আসন জয়ের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হলেও, এত শক্তি কি এনডিএ শরিক কিংবা বিজেপির সারা দেশে রয়েছে, সেই প্রশ্ন করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একটা বড় অংশ। কিন্তু লক্ষ্যে পৌঁছতে বিজেপিও পরিকল্পনা করেছে অনেক দিন আগে থেকেই।

এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন, বিজেপির লক্ষ্যের পিছনে রয়েছে ১৯৮৪ সালে কংগ্রেসের নির্বাচন জয়। ওই বছরের ৩১ অক্টোবর ইন্দিরা গান্ধীর হত্যার পরে ডিসেম্বরে হওয়া নির্বাচনে কংগ্রেস ৫৪৩ টি আসনের মধ্যে ৪১৪ টি আসন জয় করেছিল। সেই সময় ভোটার ছিল ৩৮ কোটি। তাঁদের মধ্যে ২৪ কোটি ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছিলেন। কংগ্রেস সেই নির্বাচনে ৫০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় বারো কোটি ভোট পেয়েছিল। স্বাধীন ভারতের নির্বাচনী ইতিহাসে এটাই কোনও রাজনৈতিক দলের সেরা পারফরমেন্স।
সেদিক থেকে দেখতে গেলে এবার চারশোর বেশি আসনে এনডিএ-র জয় পেতে গেলে অন্তত ৫০ শতাংশ ভোট পেতে হবে। তা গেরুয়া শিবিরের কাছে পরিষ্কার। ২০০৯ সালের লোকসভা নির্বাচন থেকে বিজেপির ভোটের শতাংশ ক্রমে বৃদ্ধি পেলেও, ৫০ শতাংশ ভোট পাওয়াটা যথেষ্টই চ্যালেঞ্জের।
২০০৯ সালে বিজেপি ১৮.৮ শতাংশ ভোট শেয়ারের সঙ্গে ১১৬ টি আসনে জয় পেয়েছিল। ২০১৪ সালে ৩১.৩৪ শতাংশ ভোট শেয়ারের সঙ্গে ২৮২ টি আসনে জয় পেয়েছিল বিজেপি। আর ২০১৯-এর নির্বাচনে ৩৭.৭ শতাংশ ভোট শেয়ারের সঙ্গে ৩০৩ টি আসন পায় বিজেপি। এনডিএ ৩৮.৪ শতাংশ ভোট শেয়ারের সঙ্গে ৩৫২ টি আসন পায়। অন্যদিকে ১৯৮৪ সাল থেকে ২০১৪-র মধ্যে কংগ্রেসের ভোট শতাংশ ক্রমেই হ্রাস পেয়েছে। তবে ২০১৯-এ ভোট শতাংশ দুই শতাংশের মতো বেড়েছে।
এবার দেওয়া টার্গেটে পৌঁছতে বিজেপির ১৩ শতাংশ ভোট সুইংয়ের প্রয়োজন। নিজেদের পারফরমেন্স উন্নত করতে বিজেপির নজর ১০০র বেশি আসনে। এর মধ্যে ২০১৯-এ ৭২ টি আসনে বিজেপি প্রার্থীরা ছিলেন দ্বিতীয় স্থানে। ৩১ টি আসনে বিজেপি ছিল তৃতীয় স্থানে। ওই ৭২ টি আসনের মধ্যে এমন ৪০ টি আসন রয়েছে, যেখানে তিন থেকে চার শতাংশ ভোট সুইং হলেই বিজেপি লিড পেয়ে পারে। একইসঙ্গে বর্তমানের আসনগুলি যদি ধরে রাখতে পারে, তাহলে তারা ৩৫০-এর কাছে পৌঁছতে পারে।
২০১৯-এর নির্বাচনে বিজেপির সঙ্গীরা ৪৯ টি আসনে জয় পেয়েছিল। তারপর থেকে অনেকেই বিজেপিকে ছেড়ে গিয়েছে। লক্ষ্য পূরণে বিজেপি পুরেনা সঙ্গীদের কাছে যাচ্ছে। যেমন নীতীশ কুমার ফিরে এসেছেন। মহারাষ্ট্রের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেস নেতা অশোক চবন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। সামনের দিনগুলিতে বিরোধী শিবিরের আরও অনেককেই বিজেপিতে যুক্ত হতে দেখা যেতে পারে।












Click it and Unblock the Notifications