করোনা ভাইরাস নিয়ে ভুল খবর ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াই, দাবি গবেষকদের
করোনা ভাইরাস নিয়ে ভুল খবর ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াই, দাবি গবেষকদের
করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পাশাপাশি বিশ্ব জুড়ে এ সংক্রান্ত ভুয়ো খবরও সমানভাবে ছড়িয়ে পড়ছে মানুষের মধ্যে। সম্প্রতি এক সমীক্ষায় জানা গিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেই ভুয়ো খবর ছড়িয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের কাছে। নতুন এই গবেষণার মতে, কোভিড–১৯–এর প্রকোপের প্রথম দিকে সোশ্যাল মিডিয়ায় বা রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলিতে প্রচার করা হয়েছিল কিভাবে এই ভাইরাসকে প্রতিরোধ করা যায়, যা অনেকেই বিশ্বাস করেছিল। যদিও তা বিভ্রান্তিমূলক খবর বলেই পরে প্রমাণিত হয়েছে।

ভুল খবর ছড়ায় সোশ্যাল মিডিয়া থেকেই
মার্চের প্রথমদিকে অ্যানেবার্গ সায়েন্স নলেজ (আস্ক) কোভিড-১৯-এর ওপর সমীক্ষা চালিয়েছিল। এই সমীক্ষায় যোগ দিয়েছিলেন ১,০০৮ জন মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক। এই সমীক্ষাটি প্রকাশিত হয়েছে হার্ভাড কেনেডি মিসইনফরমেশন রিভিউ জার্নালে। গবেষকরা দেখেছেন, যাঁরা সোশ্যাল মিডিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত তাঁদের করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত তথ্যের সঙ্গে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে। গবেষকদের মতে, রক্ষণশীল সংবাদমাধ্যমগুলি ( ফক্স নিউজ বা রাশ লিমবগ) সার্স-কোভি-২ মহামারি সম্পর্কে উচ্চস্তরের ভুল তথ্য দেয় ও মানুষকে সেটি ষড়যন্ত্র করে বিশ্বাস করাতে বাধ্য করে। এই সমীক্ষায় এও দেখা গিয়েছে যে চিন এই ভাইরাসটি তাদের জৈব অস্ত্র হিসাবে তৈরি করেছে এই খবরটি ২৩ শতাংশ মানুষ মনে করেন যে হয়ত বা নিশ্চিতভাবে সঠিক। যদিও এ বিষয়ে কোনও প্রমাণ এখনও পাওয়া যায়নি। ভিটামিন সি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে প্রতিরোধ করবে, এ সংক্রান্ত খবর বিশ্বাস করেছেন ২১ জনেরও বেশি।

সোশ্যাল মিডিয়া নিম্ন স্তরের তথ্য ব্যবহার করে
গবেষকরা জানিয়েছেন যে সোশ্যাল মিডিয়া ও ওয়েব সংযোগকারীরা খুবই নিম্ন স্তরের তথ্য নিয়ে উচ্চ পর্যায়ের বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা (ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউব) আরও বেশি করে ভিটামিন সি সংক্রমণ রোধ করবে বা জৈব অস্ত্র সংক্রান্ত খবর সহজেই বিশ্বাস করে ফেলেন। যাঁরা ওয়েব সংযোগকারীদের (গুগল নিউজ, ইয়াহু নিউজ) খবরে বিশ্বাসী তাঁরাও হাত ধোওয়ার কার্যকারিতা ও সংক্রমক ব্যক্তি থেকে দূরে থাকার বিষয় সহজেই মেনে নেন (মার্চের প্রথমদিকে অসংক্রমণহীন সংক্রমণের বিষয়টি সেভাবে পরিস্কার ছিল না)।

বিভ্রান্তি কম ছড়ায় মূলধারার সম্প্রচার ও সংবাদপত্র
গবেষণায় উঠে এসেছে, মূলধারার সম্প্রচার ও সংবাদপত্রগুলি উচ্চস্তরের নির্ভুল তথ্য ব্যবহার করে ও কম বিভ্রান্তিমূলক খবর ছড়ায়। মূলধারার সম্প্রচারের (এবিসি নিউজ, সিবিএস নিউজ, এনবিসি নিউজ) খবর যাঁরা দেখেন তাঁরা সঠিকভাবে জানেন নোভেল করোনা ভাইরাস মরশুমি ফ্লুয়ের চেয়েও মারাত্মক। সংবাদপত্রের (নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রীট জার্নাল) নিয়মিত পাঠকরাও করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত সঠিক খবরের খোঁজ রাখেন।












Click it and Unblock the Notifications