কাশি বা হাঁচি মানেই কি কোভিড–১৯, এই প্রশ্নে জর্জরিত সরকারি হেল্পলাইন
কাশি বা হাঁচি মানেই কি কোভিড–১৯
করোনা ভাইরাস কি, এর উপসর্গ কেমন বা এটা হলে কি করা দরকার, এগুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখনও প্রশ্ন অসংখ্য। 'আমি যদি হাঁচি দিই তবে কি আমি কোভিড–১৯–এ আক্রান্ত হতে পারি’? 'করোনা প্রকোপের সময় আমি কি মাংস খেতে পারি’, এ ধরনের প্রশ্নতে ভরে যাচ্ছে সরকারি হেল্পলাইন নম্বর। মারণ রোগ করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের মধ্যেও এই সংক্রমণ ও খাওয়া–দাওয়া নিয়ে অনেকেই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ চাইছে। লকডাউন কবে উঠবে এ নিয়ে অনেকেই চিন্তিত নন যতটা তাঁদের বিব্রত করছে একটা সামান্য কাশি বা হাঁচি।

সামান্য কাশি–হাঁচি মানেই করোনা নয়
এক ব্যক্তি এই রোগের সংস্পর্শে এসেছে এই আতঙ্কে সরকারি হেল্পলাইন ১০৪-এ ফোন করে জানতে চেয়েছেন যে যদি হাঁচি বা কাশি হয় তবে ই সেটা কোভিড-১৯-এর উপসর্গ হতে পারে। সরকারি হেল্পলাইনে কর্মরত এক মহিলা বলেন, ‘আমরা এ ধরনের বহু ফোন রোজ পাই যেখানে শহর বা রাজ্যের অন্যান্য অংশ থেকে অনেকেই ফোন করে আতঙ্কগ্রস্ত গলায় জানিয়েছেন যে তাঁরা মনে হয় এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন কারণ তাঁদের কাশি বা হাঁচি হচ্ছে।' করোনা ভাইরাস সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানুষকে গাইড করার জন্য পুষ্টিবিদ সহ বহু কাউন্সেলারস কাজ করছেন এই হেল্পলাইনে, তাঁদের মধ্যেই একজন এই মহিলা।

মানুষকে সঠিক ভাবে চালনা করছে সরকারি হেল্পলাইন
করোনা ভাইরাসের জেরে লকডাউনের কারণে সরকারের নির্দেশে অনেক ক্লিনিকই বন্ধ করে রাখা হয়েছে। এরকম পরিস্থিতিতে মানুষের একমাত্র বিকল্প রাস্তা বলতে এই হেল্পলাইন নম্বর। হেল্পলাইনে কর্মরত ওই মহিলা বলেন, ‘মানুষ এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ে যে তাঁরা বুঝতে ব্যর্থ হন যে সাধারণ অ্যালার্জির কারণেও হাঁচি হয়। আমরা করোনা ভাইরাসের উপসর্গগুলি বিশ্লেষণ করি এবং জিজ্ঞাসা করি যে তাঁরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত দেশে গিয়েছেন কিনা বা বাড়ির বিচ্ছিন্ন ব্যক্তিদের সঙ্গে সংস্পর্শ হয়েছে কিনা এবং সেই অনুযায়ী তাঁদের নির্দেশ অনুসরণ করতে বলি।'

মাংস খাওয়া যেতে পারে, প্রশ্ন হেল্পলাইনে
হেল্পলাইন পরিচালনা করেন যাঁরা তাঁরা জানিয়েছেন যে মানুষ ফোন করে এও জিজ্ঞাসা করছেন যে তাঁরা যদি তাঁদের প্রিয় মাংস খান তবে কি তাঁদের কোয়ারান্টাইন ওয়ার্ডে থাকতে হবে এবং অনেকেই খাবার নিয়ে আজব আজব প্রশ্ন করছেন। এ বিষয়ে পুষ্টিবিদ বলেন, ‘আমরা তাঁদের উপদেশ দিচ্ছি যে মাংস খাওয়ার আগে তা ভালো করে রান্না করে নিন, যদি তাঁরা বিশেষ করে আমিষ খাবার খান। অনেকেই আছেন এই সংক্রমণ এড়াতে দেহে রোগ প্রতিরোধ গড়ে তোলার জন্য আদর্শ খাদ্য কি তা জানতে চেয়ে ফোন করছেন।' এ ধরনের মানুষদের বলা হচ্ছে বাড়িতে বানানো খাবার খান ও পরিপূরক হিসাবে ফল-শাক-সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। ওই পুষ্টিবিদ বলেন, ‘রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আমলা বা কমলালেবুও খাওয়া যেতে পারে।'

সমস্যায় পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি
প্রসঙ্গত, মুরগি থেকে করোনা সংক্রমিত হচ্ছে এই গুজবের জেরে তামিলনাড়ুর বহু পোলট্রি সমস্যার মুখে পড়েছিল। তবে পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রি ও সরকারের উদ্যোগে মানুষকে তারা বোঝাতে সফল হয়েছে যে চিকেন খেলে বা মুরগি থেকে এই করোনা সংক্রমণ হয় না।












Click it and Unblock the Notifications