কামরায় ধোঁয়া, আগুন আতঙ্ক শালিমার - পুরী ধৌলি এক্সপ্রেসে, কী হল তারপর?
ট্রেন তখন ছুটছে। কামরার মধ্যে হঠাৎ করেই ধোঁয়া। যাত্রীদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ল আতঙ্ক। তাহলে কি চলন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনের মধ্যে আগুন লেগে গেল? আগুনের ফুলকিও যাত্রীরা দেখেছেন বলে খবর। প্রবল আতঙ্ক ছুটে চলা শালিমার - পুরী ধৌলি এক্সপ্রেসের যাত্রীদের মধ্যে।
কালীপুজোর পরদিন সকালে এই ঘটনা। হাওড়ার শালিমার স্টেশন থেকে পুরীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে ধৌলি এক্সপ্রেস। ট্রেনের গতি তখন অনেকটাই বেশি। ট্রেনের তিন নম্বর কামরায় যাত্রীদের নাকে প্রথমে আসে পোড়া গন্ধ। তখনই যাত্রীদের মনের মধ্যে খচখচ করতে থাকে। এরপর যাত্রীদের চোখে পড়ে ধোয়া।

নিমেষে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে। ওই কামরার যাত্রীরা এদিক ওদিক যাতায়াতও করতে থাকে। কয়েক জন যাত্রী কামরার মধ্যে স্ফুলিঙ্গও দেখতে পান৷ ব্যাস চরম আতঙ্ক চেপে বসে যাত্রীদের মনে। তাহলে আগুন ধরে গেল ট্রেনে? করমণ্ডল এক্সপ্রেসের স্মৃতি বাংলার মানুষের কাছে টাটকা। ফের কি একটি ভয়াবহ রেল দুর্ঘটনা হতে চলেছে?
যাত্রীরা আতঙ্কে ট্রেনের চেন টানেন। আন্দুল স্টেশনের আগেই ট্রেনটি দাঁড়িয়ে যায়। ট্রেন থামলেই অনেক যাত্রী ওই কামরা থেকে বাইরে লাফিয়ে নামেন। কামরা কার্যত ফাঁকা হয়ে যায়। রেলের লোকজন ছুটে আসেন। ওই কামরাটিকে ভালো করে খুঁটিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে।
দেখা যায়, আগুন লাগেনি। ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন, সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছিল। ট্রেনে আগুন লাগেনি। ইঞ্জিনিয়ারদের ভাষায় এই ঘটনাকে ব্রেক বাইন্ডিং বলা হয়। কিন্তু কী এই ব্রেক বাইন্ডিং? জানা গিয়েছে, ট্রেনের ব্রেক মাঝেমধ্যে আটকে যায়। ট্রেনের চাকার সঙ্গে লাইনের ঘর্ষণ হলে ধোয়া বার হয়। স্ফুলিঙ্গ বার হতে দেখা যায়।
সোমবার সকাল আনুমানিক পৌনে ১০টা নাগাদ আন্দুল লেবেল ক্রসিংয়ের কাছে ওই ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনিয়াররা এসে ব্রেক মেরামতি করার পর ট্রেন ফের চালু হয়। দক্ষিণ পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষের দাবি, বড় কোনও দুর্ঘটনা নয়। এটি খুবই সাধারণ একটি ঘটনা। যাত্রীরা সবাই নিরাপদে আছেন। কিছু সময় পর ট্রেনও গন্তব্যের জন্য রওনা হয়ে যায়।












Click it and Unblock the Notifications