কৃষক আন্দোলন: ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ঠিক করতে বৈঠকে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা, হাজির মহিলারাও
শুক্রবার ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের (Farmers Protest) বর্ষপূর্তি পালন করেছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM) । ইঙ্গিত ছিল আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার না করা। এদিন মোর্চায় থাকা ৪০ টি কৃষক সংগঠনের তরফ থেকে ভবিষ্যতের কর্ম পরিকল্প
শুক্রবার ঐতিহাসিক কৃষক আন্দোলনের (Farmers Protest) বর্ষপূর্তি পালন করেছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা (SKM) । ইঙ্গিত ছিল আপাতত আন্দোলন প্রত্যাহার না করা। এদিন মোর্চায় থাকা ৪০ টি কৃষক সংগঠনের তরফ থেকে ভবিষ্যতের কর্ম পরিকল্পনা (Future Course of Action) ঠিক করতে বৈঠকে বসার কথা জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে স্বাগত
কৃষি আইন বাতিল করা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছিল কিষাণ মোর্চা। সিঙ্ঘু সীমান্তে বৈঠকের পর তাদের তরফে বলা হয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধানের পরিবর্তনে তিন কৃষি আইন বাতিল করতে এককভাবে ঘোষণা করেছেন। যদিও প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত স্বাগত বলে জানিয়েছিল সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। সঙ্গে তারা এও জানিয়েছিল সংসদে আইন বাতিলের পদ্ধতি শুরু না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনের জায়গা তাঁরা ছাড়বেন না।

ছয় শর্তে খোলা চিঠি
১৯ নভেম্বর গুরুনানক জয়ন্তীর দিন সকালে প্রধানমন্ত্রীর কৃষি আইন প্রত্যাহারের ঘোষণার পরে ২১ নভেম্বর সংযুক্ত কিষাণ মোর্চার তরফে ছয়টি দাবি জানিয়েছে নরেন্দ্র মোদীকে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে মোর্চার তরফে জানানো হয়, তাঁরা রাস্তায় বসা পছন্দ করেন না। অন্যসব দাবি সমাধান করে ক্ষেতে ও পরিবারের কাছে ফিরতে চান। কিষাণ মোর্চার ছয় দাবির মধ্যে ছিল ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের নিশ্চয়তা, বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল প্রত্যাহার, বায়ুদূষণে শাস্তির বিধান প্রত্যাহার, কৃষকদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা প্রত্যাহার, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্রকে বরখাস্ত এবং আন্দোলন করতে গিয়ে মৃত প্রায় ৭০০ কৃষকের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ। পাশাপাশি মৃত কৃষকদের জন্য সৌধ তৈরির দাবিও করা হয়েছিল কিষাণ মোর্চার চিঠিতে।

প্রচুর সংখ্যায় মহিলা আন্দোলনকারী
একবছরে কৃষক আন্দোলনের অপর একটি উল্লেখযোগ্য দিক হল প্রচুর সংখ্যায় মহিলা অংশগ্রহণকারী। দিল্লি সীমান্তে পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনে সামিল হয়েছেন প্রচুর সংখ্যায়, তা অনেকের পরিবারের মহিলা সদস্যরা বিশ্বাস করতে পারেননি। তাঁরা আন্দোলনস্থলে এসেছেন। আবার অনেকে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে থেকেও গিয়েছেন। এই বছরেও ২৫ নভেম্বর থেকে তাঁরা ট্রাক্টর এবং ট্রলিতে করে হরিয়ানা ও পঞ্জাবের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে টিকরি সীমান্তে ভিড় জমিয়েছিলেন। এঁদের মধ্যে মহিলারা ছিলেন চোখে পড়ার মতো।

গুরু নানক জয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ
গুরু নানক জয়ন্তীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। সেখানে তিনি তিন কৃষি আইন বাতিল করার সরকারি সিদ্ধান্তের কথা ঘোষণা করেন, পাশাপাশি কর্তারপুর সাহিব করিডর পুনরায় খোলার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনরত কৃষকদের কাছে অনুরোধ করেন, সরকারি ঘোষণা পরে ক্ষেতে গিয়ে কাজে যোগ দিতে। পাশাপাশি তিনি জানিয়েছিলেন মাসের শেষে শুরু হওয়া সংসদের শীতকালীন অধিবেশনে কৃষি আইন বাতিল নিয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।












Click it and Unblock the Notifications