ছয় সপ্তাহের ব্যবধান, পুতিন, জেলেনস্কি দুই রাষ্ট্রনায়ককে মোদীর আলিঙ্গন, রাজনৈতিক চর্চা
মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছয় মাস। রাশিয়া সফরে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। পুতিনকে জড়িয়ে ধরা, পাশাপাশি হাঁটার সময় কথা বলা। মোদীকে পাশে বসিয়ে নিজে গাড়ি ড্রাইভ করেছিলেন পুতিন। রাশিয়া - ভারত সম্পর্কের পাশাপাশি ইউক্রেনের পরিস্থিতি নিয়েও বার্তা দিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদী।
এবার ইউক্রেন সফর। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির পাশে হাঁটলেন মোদী। প্রথমে জড়িয়ে ধরলেন৷ এরপর জেলেনস্কির কাঁধে হাত রেখে হাঁটলেন। রাশিয়া ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইউক্রেনের উপর৷ দুই বছরের লাগাতার হামলায় যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেন। সেই পরিস্থিতিতে ভরসার হাত কাঁধে রাখলেন প্রধানমন্ত্রী মোদী?

শিশু শহিদদের স্মৃতিসৌধের সামনে দাঁড়িয়েছিলেন মোদী - জেলেনস্কি। আবেগতাড়িত হয়ে গিয়েছিলেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। মোদীর চোখও এক সময় ছলছল করে উঠেছিল৷ এরপর জেলেনস্কির কাঁধে হাত রাখতে দেখা গিয়েছিল মোদীকে।
যদিও এই জেলেনস্কিই এর আগে ইঙ্গিতপূর্ণ খোঁচা দিয়েছিলেন। মোদীর মস্কো সফরের আগেই ইউক্রেনে হামলা হয়েছিল রুশ বাহিনীর। বোমার বিমানের হামলায় কিয়েভে একটি শিশু হাসপাতাল সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে যায়৷ সেই সময় জেলেনস্কি বলেছিলেন, " বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতাকে মস্কোতে বিশ্বের সবচেয়ে রক্তাক্ত অপরাধীকে আলিঙ্গন করতে দেখে হতাশ।"
" এটি আপনার সংস্কৃতির অংশ নাও হতে পারে। এটি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমরা আলিঙ্গন করি।" সেই সময় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এই বিষয়ে সাংবাদিক প্রশ্নের উত্তরে এই কথাও বলেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ইউক্রেন এবং রাশিয়া সফরে অবশ্য একটি সূক্ষ্ম পার্থক্য চোখে পড়েছে। মস্কো সফরের সময়, যুদ্ধে মারা যাওয়া রুশ সৈন্যদের কোনও স্মৃতিসৌধ পরিদর্শন করেননি। এক্ষেত্রে ইউক্রেনে যুদ্ধে হত শিশু শহিদদের স্মৃতিসৌধে তিনি শ্রদ্ধা জানান। শ্রদ্ধার চিহ্ন হিসেবে তাদের স্মৃতিতে একটি খেলনা রাখেন।
রুশ সফরে মোদী - পুতিনকে চায়ের টেবিলে গল্প করতে দেখা গিয়েছে। ঘোড়দৌড় দেখতে দেখা গিয়েছে। এদিকে ইউক্রেনে অন্য ভূমিকায় দেখা গিয়েছে মোদীকে। ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বৈঠক হয়েছে। জানা গিয়েছে, প্রায় তিন ঘণ্টা এই বৈঠক হয়।
রাশিয়ার অন্যতম বন্ধু ভারত। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে আক্রমণ থামাতে অনুরোধ করুক মোদী। এই আবেদন আগেই করেছিলেন ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট। বৈঠকেও উঠে এসেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি। সেখানে ইউক্রেন প্রেসিডেন্টকে কতটা আশ্বস্ত করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী? জানা গিয়েছে, দুই দেশের শান্তি স্থাপনের জন্য ভারত এগিয়ে আসতে পারে। সক্রিয় ভূমিকা নিতেও প্রস্তুত।
ভারত এখনও ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের নিন্দা করেনি, তবে দেশগুলির আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বকে সম্মান করার গুরুত্বের কথা বলেছে।












Click it and Unblock the Notifications