সুপ্রিম শুনানির আগে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করবে সেনা-এনসিপি-কংগ্রেস
সোমবার সকাল সাড়ে দশটায় সুপ্রিম কোর্টে মহারাষ্ট্র সরকার গঠন নিয়ে দ্বিতীয় দিনের শুনানি শুরু হবে। সেখানে আদালতের সামনে শিবসেনা, কংগ্রেস ও এনসিপি তাদের দলের বিধায়কদের সমর্থনের চিঠি জমা দেবে বলে জানা গিয়েছে। তবে জানা গিয়েছে, সেই শুনানির আগে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির সঙ্গে দেখা করে এই একই চিঠি জমা দেবে বিরোধীরা।

শনিবার অবাক করে দেওয়া শপথ গ্রহণের পর শুরু নাটক
গত সপ্তাহের শনিবার সবাইকে অবাক করে দিয়ে মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেন বিজেপির দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তাঁর সঙ্গে উপ-মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণ করেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ারের ভাইপো তথা বিধানসভায় দলের পরিষদীয় দলনেতা অজিত পাওয়ার। এরপরই হতভম্ব হয়ে যায় রাজনৈতিক মহল। তবে পরিস্থিতি পরিস্কার হতেই বোঝা যায় যে কাকার ছত্রছায়া থেকে বেরিয়ে একার সিদ্ধান্তে এই কাজ করেন অজিত পাওয়ার।

রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত ও কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন বিরোধীদের
এদিকে এই ঘটনার পরেই রাজ্যপালের সিদ্ধান্ত ও কার্যপ্রণালী নিয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করে বিরোধীরা। রাজ্যপাল বিজেপির হয়ে কাজ করছেন বলেও অভিযোগ করা হয়। ২৩ নভেম্বর সকাল ৮টায় ফড়নবিশ ও অজিত পাওয়ারের শপথ গ্রহণের আগে সেদিনই ভোর ৫টা ৪৭ মিনিটে রাষ্ট্রপতি শাসন তুলে নেওয়া হয় মহারাষ্ট্রের উপর থেকে। প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপতি শাসন জারি ও প্রত্যাহার, এই দুই ক্ষেত্রেই রাজ্যপালের সুপারিশের উপর ভিত্তি করে পদক্ষেপ নেওয়া হয়। যার অর্থাৎ ২২ নভেম্বর রাতে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল ভগত সিং কোশিয়ারির অফিস এই বিষয়ে কাজ করে। যেই বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন বিরোধীরা।

কোন চিঠির ভিত্তিতে সরকার গঠনের অনুমতি, ওঠে প্রশ্ন
এদিকে রাষ্ট্রপতি শাসন প্রত্যাহারের পরেই আইনত সরকার গঠনের আহ্বান জানাতে পারেন রাজ্যপাল। সেই মতো দেবেন্দ্রকে তিনি নিশ্চই ২৩ নভেম্বর সকাল ৫টা ৪৭ ও ৮টার মাঝে পাঠিয়েছিলেন। এদিকে অজিত পাওয়ারের কোন চিঠির উপর ভিত্তি করে রাজ্যপাল সরকার গঠনের অনুমতি দেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে শুরু করে বিরোধীরা।

'রাজ্যপাল আদালতের সামনে করতে বাধ্য নয়'
আদালতে অবশ্য রাজ্যপালের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়ে লাভ হয়নি বিরোধী পক্ষের। বিজেপি বিধআয়কদের হয়ে সওয়ালকারী বরিষ্ঠ আইনজীবী রবিবার আদালতে বিরোধীদের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে জানান, ভারতীয় সংবিধানের ৩৬১ নম্বর ধারাতে স্পষ্ট করে বলা রয়েছে যে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপাল কোনও আদালতের সামনেই জবাবদিহি করতে বাধ্য নয়। রাজ্যপালের পদক্ষেপকে আইনি প্রক্রিয়া থেকে সুরক্ষা দেওয়া হয় শমশের সিংয়ের মামলায়।

রাজ্যপালকে ফোন সঞ্জয় রাউতের
এদিকে তাদের সঙ্গে সংখ্যা রয়েছে জানিয়ে রবিবারই রাজ্যপালকে ফোন করেন শিবসেনা মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত। রাজ্যপালকে তিনি বলেন, "যদি বিজেপির কাছে সংখ্যা থাকে তবে তাদেরকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তা প্রমাণ করতে বলা হোক। তারা প্রমাণ না দিতে পারলে আমাদের সরকার গঠন করতে ডাকা হোক। আমরা ১০ মিনিটে আমাদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করে দেব।"












Click it and Unblock the Notifications