কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী পদে সিদ্দারামাইয়াই! শিবকুমারের বার্তায় ‘যুদ্ধ’ অবসানের ইঙ্গিত
কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর পদে বসতে চলেছেন সিদ্দারামাইয়াই! তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডিকে শিবকুমারের বার্তায় 'যুদ্ধ' অবসানের ইঙ্গিত মিলল। সোমবার সিদ্দারামাইয়া দিল্লি ছোটায় তখনই প্রায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিন কর্নাটকের মুখমন্ত্রীর কুর্সিতে কে বসতে চলেছেন।
সিদ্দারামাইয়া যখন দিল্লিতে ছুটেছেন, তখন শিবকুমার তাঁর সফর বাতিল করেছেন। তারপরই সিদ্দারামাইয়াকে শুভকামনা জানান ডিকে শিবকুমার। মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি নিয়ে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের তখনই অবসান ঘটে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। শিবকুমার তাঁকে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, 'অল দ্য বেস্ট'।

কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে মূল লড়াই ছিল দুই প্রার্থী সিদ্দারামাইয়া ও ডিকে শিবকুমারের মধ্যে। কংগ্রেস ভাবছে সিদ্দারামাইয়া এবং ডি কে শিবকুমারের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সি ভাগ করে দেওয়া হতে পারে। পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। ফলে প্রথম আড়াই বছর একজন, অন্যজন পরের আড়াই বছর মূখ্যমন্ত্রী হতে পারেন।
এই অবস্থায় কর্নাটক সাসপেন্স বজায় ছিল। সোমবার এরই মধ্যে দিল্লিতে তলব করা হয় সিদ্দারামাইয়াকে। ডিকে শিবকুমারেরও দিল্লি যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সিদ্দারামাইয়া দিল্লি উড়ে যাওয়ার পর সফর বাতিল করেন শিবকুমার। আর তার অদ্যাবধি পরেই শিবকুমার জানিয়ে দিয়েছেন তাঁর শুভেচ্ছা বার্তা।

তাঁর শুভেচ্ছা বার্তাতেই অনেক কিছু লুকিয়ে ছিল। তিনি প্রায় জানিয়েই দেন কর্নাটকের পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হতে চলেছেন সিদ্দারামাইয়া। তিনি সিদ্দারামাইয়াকে অল দ্য বেস্ট জানানোর পর বলেন, "আমার ক্ষমতা হল ১৩৫ জন বিধায়ক। আমার নেতৃত্বে কংগ্রেস ১৩৫টি আসন জিতেছে।"
ডিকে শিবকুমার কর্নাটক কংগ্রেসের প্রধান। তিনি রাজ্যের প্রশাসনিক প্রধান পদের দৌড়ে ছিলেন। তিনি এদিন বলেন, প্রশাসনিক শীর্ষ পদ লক্ষ্য নয়, রাজ্যে তিনি যে দলের জয়ের জন্য কৃতিত্ব রাখতে পেরেছেন, তাতেই তিনি বেজায় খুশি। কংগ্রেস এবার বিধানসভা নির্বাচনে আশাতীত ফল করে।

সিদ্দারামাইয়া আগেই জানিয়েছিলেন, এটাই তাঁর শেষ নির্বাচন। সেইমতো প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীকে কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসানো হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে শিবকুমারের জন্য দরজা খোলাই রইল। আবার দু-জনের মধ্যে আড়াই-আড়াই বছর করে ভাগ করে দেওয়ার যে জল্পনা চলছিল, এই সিদ্ধান্তের অন্তরালে তা সুপ্ত আছে কি না ভবিষ্যৎই বলবে।
২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত কংগ্রেস সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে পাঁচ বছরের মেয়াদ সম্পূর্ণ করেন সিদ্দারামাইয়া। তাঁর মুখ্যমন্ত্রিত্বর অভিজ্ঞতা রয়েছে। এমতাবস্থায় মাঝপথে যদি সিদ্দারামাইয়া সরে গিয়ে শিবকুমার আসেন, তাহলে ব্যালান্সও হয়ে যাবে। শিবকুমার রাজ্য পরিচালনা বুঝে নেওয়ার সময়ও পেয়ে যাবেন।












Click it and Unblock the Notifications