'কংগ্রেস-এনসিপি যোগাযোগ রাখছে', সেনা সাংসদের মন্তব্যে আরও জলঘোলা মহারাষ্ট্রে
মহারাষ্ট্রে বিজেপি-সেনার ক্ষমতা বণ্টনের টানাপোড়েনের মধ্যেই সঞ্জয় রাউত আজ সংবাদ মাধ্যকে জানান, কংগ্রেস ও এনসিপির জয়ী প্রার্থীরা শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।
মহারাষ্ট্রে বিজেপি-শিবসেনা জোটের সরকার গঠন নিয়ে আরও অনিশ্চয়তা দেখা দিল। সৌজন্যে শিবসেনা সাংসদ সঞ্জয় রাউতের বক্তব্য। সেই রাজ্যে বিজেপি-সেনার ক্ষমতা বণ্টনের টানাপোড়েনের মধ্যেই সঞ্জয় রাউত আজ সংবাদ মাধ্যকে জানান, কংগ্রেস ও এনসিপির জয়ী প্রার্থীরা শিবসেনার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে।

উদ্ধবের বক্তব্য
তবে সঞ্জয় রাউত এই কথা বললেও একটু কম আক্রমণাত্বক স্ট্যান্ড নিয়েছেন শিবসেনা সুপ্রিমো উদ্ধব ঠাকরে। জয়ী বিধায়কদের এক বৈঠকে তিনি বলেন, গুজবে কান দেবেন না। এখনও পর্যন্ত শিবসেনার কাছে কোনও দলের তরফ থেকে সরকার গঠনের প্রস্তাব আসেনি। কয়েকটি পার্টি অবশ্য গণমাধ্যমকে ব্যবহার করে তাদের প্রস্তাব সামনে রাখছে। এরপর ফের বিজেপির সঙ্গে ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলায় সরকার গঠনের কথা বলেন তিনি।

ফড়নবিশের কড়া সমালোচনায় সেনা প্রধান
মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশের কড়া সমালোচনা করেন সেনা প্রধান। দিওয়ালির সময় গণমাধ্যমের সামনে কথা বলার সময় ফড়নবিশ বলেছিলেন, "শিবসেনাও পাঁচ বছরের জন্য মুখ্যমন্ত্রিত্বের দাবি করতে পারে। তবে দাবি করা আর পাওয়ার মধ্যে ফারাক আছে। দুটো সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়। ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলায় মুখ্যমন্ত্রিত্ব নিয়ে কোনও চুক্তি হয়নি আমাদের মধ্যে। তাদের কোনও দাবি থাকলে তারা এসে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় বসুক। আমরা তাদের দাবির যৌক্তিকতা বিচার করে সিদ্ধান্ত নেব।"

বিজেপি-র সঙ্গে বৈঠক ভেস্তে দেন উদ্ধব
এই মন্তব্যের পরেই আরও উত্তপ্ত হয়ে যায় পরিস্থিতি। ঠান্ডা লড়াই গিয়ে দাঁড়ায় আরও গুরুতর অবস্থায়। দিওয়ালির পর সরকার গঠন নিয়ে বিজেপি-সেনার যেই বৈঠক হওয়ার কথা ছিল তা ভেস্তে দেন সেনা প্রধান। জোটের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠে যায় আরও বড় প্রশ্ন।

ফড়নবিশকে চ্যালেঞ্জ করেন সঞ্জয়
ফড়নবিশের মন্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে সেনা সাংসদ সঞ্জয় বলেছিলেন, "মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন ফড়নবিশ নিজে ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলার কথা বলেছিলেন। এই বিষয়ে ফড়নবিশের সামনেই অমিত শাহের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল উদ্ধবজীর। এখন যদি এই কথা ফড়নবিশ অস্বীকার করেন তবে আমি প্রমাণ করে দেব যে তিনি এখন সত্যি বলছেন না। তিনি সেই সময় ক্যামেরার সামনে এই কথা বলেছিলেন।"

চাপ বাড়ানোর কৌশলেই হাঁটছে সেনা শিবির
জনসমক্ষে কিছু না বললেও ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই ২০১৪ সালের ফর্মুলাতে সরকার গঠনের কথা বলেছিল বিজেপি নেতা কর্মীরা। ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রে বিধায়কদের সংখ্যার অনুপাতের ফর্মুলা গ্রহণ করেছিল বিজেপি-সেনা জোট। প্রতিটি ১২ জন বিধায়কের জন্য একজন করে পূর্ণ মন্ত্রী ও ৬ জন বিধায়কের জন্য থাকবে একজন করে জুনিয়র মন্ত্রী। এই সমীকরণেই মন্ত্রিসভা গঠন করে পাঁচ বছর সরকার চালান দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। এই বারও বিজেপি সেই ফর্মুলায় সরকার গঠনের কথা বলছে। এদিকে গতবারের তুলনায় ৭ ও ১৭টি আসন কম পেয়েছে। সেই হিসাবে গতবারের ১৮ জন পূর্ণ মন্ত্রীর জায়গায় বিজেপির হওয়ার কথা ১৭ জন মন্ত্রী। অপর দিকে সেনার পূর্ণ মন্ত্রীর সংখ্যা একজন কমে দাঁড়াবে পাঁচ-এ। তবে ফিফটি-ফিফটি ফর্মুলায় অনড় শিবসেনা বিজেপির ফর্মুলাকে খারিজ করে আলোচনাও ভেস্তে দিয়ে পাল্টা চাপ বাড়ায় বিজেপির উপর। এখন কংগ্রেস ও এনসিপির সঙ্গে যোগাযোগের কথা বলেও সেই চাপ বাড়ানোর পথেই হাঁটছে সেনা।












Click it and Unblock the Notifications