কংগ্রেসকে চটিয়ে শুরুতেই মমতার 'হাতছাড়া' শিবসেনা-এনসিপি! তৃণমূলকে পাত্তায় নারাজ আপও
মুম্বইয়ে তৃণমূল (Trinamool Congress) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশ্ন ছিল ইউপিএ (UPA) কোথায়। বিজেপি বিরোধী সমান্তরাল সংগঠন তৈরি নিয়ে কথা বলেছিলেন এনসিপি (NCP) এবং শিবসেনার (Shiv Sena) সঙ্গে।
মুম্বইয়ে তৃণমূল (Trinamool Congress) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) প্রশ্ন ছিল ইউপিএ (UPA) কোথায়। বিজেপি বিরোধী সমান্তরাল সংগঠন তৈরি নিয়ে কথা বলেছিলেন এনসিপি (NCP) এবং শিবসেনার (Shiv Sena) সঙ্গে। সেখানে কংগ্রেসকে অন্যসব আঞ্চলিক দলের মতোই স্থান দেওয়ার কথা বলেছিলেন। যদিও কংগ্রেসকে দুর্বল করার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রস্তাবে রাজি নয় মহারাষ্ট্র সরকারের দুই জোটসঙ্গী। অন্যদিকে আপও নিজের মতো করেই এগোতে চায়।

প্রধান বিরোধী হওয়ার লক্ষ্য তৃণমূলের
২০২১-এ পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভার নির্বাচনে বিজেপিকে পর্যুদস্ত করার পরে তৃণমূল ঝাঁপিয়ে পড়ে বিভিন্ন রাজ্য সংগঠন বিস্তারে। পরিস্থিতির বিচারে তা হয়ে দাঁড়ায় কংগ্রেসকে দুর্বল করার মাধ্যমে। অসম এবং গোয়ায় কংগ্রেসের দুই নেতা-নেত্রী সুম্মিতা দেব এবং লুইজিনো ফেলেইরো তৃণমূলে যোগ দিয়েই রাজ্যসভার সাংসদ হয়ে যান। এরপর মেঘালয়ে ১১ জন বিধায়ক নিয়ে ঘাসফুল শিবিরে যোগ দিয়ে সেখানে কংগ্রেসকে সরিয়ে প্রধান বিরোধী দলে রূপান্তরিত হয় তৃণমূল। এরপরে কখনও উত্তর প্রদেশ, কখনও হরিয়ানা আবার কখনও বিহারের নেতারা তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন, বেশিরভাগটাই কংগ্রেস ভাঙিয়ে। এব্যাপারে তৃণমূলের অবস্থান হল, প্রত্যেক দলেরই অধিকার আছে, সংগঠনকে বিস্তার করার। পাশাপাশি বিজেপির বিরুদ্ধে কংগ্রেস আন্দোলন বিমুখ বলেও অভিযোগ তৃণমূলের। কংগ্রেসের দুর্বলতার কারণেই মোদী ক্ষমতায় বলেও মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। সেই সূত্র ধরেই তৃণমূল নেত্রীর প্রশ্ন ইউপিএ কোথায়?

এনসিপির অবস্থান
মমতার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে শারদ পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সামনে সেরকম কিছু না বললেও, প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, দলের অন্যতম নেতা তথা মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস জোট সরকারের অন্যতম অংশীদার এনসিপির নেতা নবাব মালিক বলেছিলেন, কংগ্রেস ছাড়া বিরোধী জোট কোনওভাবেই সম্ভব নয়। এছাড়াও তিনি বলেছিলেন, মেঘালয় কিংবা গোয়া কংগ্রেস ভেঙে নেতারা তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। প্রত্যেক দলেরই সংগঠন বিস্তারের অধিকার থাকলেও কংগ্রেস ছাড়া বিরোধী জোট সম্ভব নয় বলেই মন্তব্যে করেন তিনি। পাশাপাশি তিনি রাজনৈতিক সমীকরণের দিকে নজর রাখার করাও বলেছিলেন।

শিব সেনার অবস্থান
তিনদিন দেরিতে হলেও এদিন শিবসেনার তরফে তাদের অবস্থান জানানো হয়েছে। মুখপাত্র সামনায় বলা হয়েছে, জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসকে দূরে রাখার অর্থই হল, দেশে ফ্যাসিবাদী শাসনকে উৎসাহিত করা। পাশাপাশি ইউপিএকে শক্তিশালী করার কথাও বলা হয়েছে সামনায়। বলা হয়েছে, ইউপিএ-র পাশাপাশি অপর কোনও জোট তৈরির অর্থই হল বিজেপিকে শক্তিশালী করা।

আপ-এর অবস্থান
মুখ্যমন্ত্রী গোয়া সফরে গিয়ে সেখানে বিজেপি বিরোধী জোট তৈরির আহ্বান জানিয়েছিলেন। তাতে যে আপ সাড়া দেবে না তা জানাই ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কেননা সেখানে তৃণমূলের আগে থেকেই আপের সংগঠন রয়েছে। শুধু গোয়াতেই নয়, দিল্লি ছাড়াও, উত্তর ভারতে পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশের কিছু জায়গায়ও তাদের সংগঠন রয়েছে। তাই তারা শুধু তৃণমূল কেন, কংগ্রেসের ডাকা বিরোধীদলের বৈঠকেও যোগ দেয়নি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, কোনও জোটে নয়, আপ নিজেদের ক্ষমতাতেই লড়াই করতে চায়। যদিও গত জুলাইয়ের শেষে দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ হয়েছিল অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। ওই পর্যন্তই। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য, আন্না হাজারের সাহায্যে কেজরিওয়াল দিল্লির ক্ষমতায় এসেছিলেন। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সম্পর্কে আপ নেতৃত্বের মূল্যায়ন এখনও জানা যায়নি।












Click it and Unblock the Notifications