তিনি ভারতের ‘হাসিনা পার্কার’, বিলাসবহুল জীবনই আড়াল করেছে এতদিন, এবারে পুলিশের হাতে গ্রেফতার দিল্লির ‘লেডি ডন’
তিনি নাকি দিল্লির 'লেডি ডন'! আর এবার সেই 'লেডি ডন' জোয়া খান পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন, যা রাজধানীর অপরাধ জগতের জন্য একটি বড় ধাক্কা বলেই মনে করা হচ্ছে। দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল বৃহস্পতিবার তাকে ২৭০ গ্রাম হেরোইনসহ আটক করে, যার মূল্য আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় ১ কোটি টাকা।
জোয়া খান উত্তর-পূর্ব দিল্লির ওয়েলকাম এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন। যেখানে তিনি উত্তর প্রদেশের মুজাফফরনগর থেকে আসা মাদক গ্রহণ করছিলেন। পুলিশের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই তার অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য ছিল, কিন্তু তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে নিজেকে প্রত্যক্ষ প্রমাণ থেকে দূরে রেখেছিলেন। তার স্বামী, কুখ্যাত গ্যাংস্টার হাশিম বাবার অপরাধ সাম্রাজ্যও তিনি চালাতেন।

হাশিম বাবা একজন কুখ্যাত অপরাধী, যার বিরুদ্ধে খুন, চাঁদাবাজি এবং অস্ত্র পাচারের অসংখ্য মামলা রয়েছে। ২০১৭ সালে তাকে বিয়ে করার পর থেকেই জোয়া তার অপরাধচক্রের মূল পরিকল্পনাকারী হয়ে ওঠেন। পুলিশের মতে, তিনি দিল্লির আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন দাউদ ইব্রাহিমের বোন হাসিনা পার্কারের মতোই এই অপরাধ নেটওয়ার্ক পরিচালনা করতেন।
পুলিশের তদন্তে দেখা গেছে, জোয়া খান বিলাসবহুল জীবনযাপন করতেন এবং দামি ব্র্যান্ডের পোশাক পরতেন। তার সোশ্যাল মিডিয়ায় বিপুল ফলোয়ার ছিল এবং তিনি প্রায়ই হাই-প্রোফাইল পার্টিতে অংশ নিতেন। বহুদিন ধরেই তাঁকে গ্রেফতার করার ছক কষছিল পুলিশ। অবশেষে দিল্লি পুলিশের এসিপি সঞ্জয় দত্ত এবং ইন্সপেক্টর সন্দীপ দাবাসের নেতৃত্বে স্পেশাল সেল অবশেষে তাকে ফাঁদে ফেলতে সক্ষম হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়েলকাম এলাকা থেকে তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সন্দেহ করছে, জোয়া ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে দক্ষিণ দিল্লির অভিজাত গ্রেটার কৈলাশ-১ এলাকায় জিম মালিক নাদির শাহ হত্যায় জড়িত বন্দুকধারীদের আশ্রয় দিয়েছিলেন। তদন্তকারীরা এখন এই বিষয়েও প্রমাণ সংগ্রহ করছে।
জোয়া খানের গ্রেপ্তার দিল্লির অপরাধ জগতে একটি বড় ঘটনা। পুলিশ এখন তার বিরুদ্ধে নতুন অভিযোগ গঠন করতে পারে এবং তার অপরাধ সাম্রাজ্যের অন্যান্য সদস্যদেরও ধরার চেষ্টা চালাচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications