এনসিপি দলে লম্বা দৌড়ের ঘোড়া এখনও শরদ পাওয়ারই
এনসিপিতে লম্বা দৌড়ের ঘোড়া এখনও শরদ পাওয়ারই
ভাগ্নে অজিত পাওয়ারের দলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের পরে অবশেষে এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার আবার প্রমাণ করলেন যে রাজনীতির ময়দানে এনসিপিতে তিনিই হলেন এখনও সবচেয়ে লম্বা দৌড়ের ঘোড়া।

গত সপ্তাহেই মসনদে দেবেন্দ্র ফড়নবিস
তীব্র রাজনৈতিক টানাপড়েন শেষে শনিবার এনসিপির অজিত পাওয়ারের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে দ্বিতীয়বারের জন্য মহারাষ্ট্রের মসনদে বসেন দেবেন্দ্র ফড়নবিস। জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টি বা এনসিপির বিধানসভায় পরিষদীয় দলনেতা অজিত পাওয়ার মহারাষ্ট্রে "কৃষকদের পক্ষে", ফড়নবিসের নেতৃত্বে বিজেপি-এনসিপি সরকার গঠনের জন্য সবাইকে একজোট হওয়ার ডাক দেন।

ঘোড়া কেনাবেচার অভিযোগ
অন্যদিকে দল বিরোধী কাজ ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের দ্বারা চালিত হওয়ার অভিযোগ এনে এরপরই এনসিপির পরিষদীয় দল নেতার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া শরদ পাওয়ারের ভাগ্নে অজিত পাওয়ারকে। সামনে আসে পাওয়ার পরিবারের অন্তর্দ্বন্দ্বের কথাও। পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ গ্রহণের আগে অজিত পাওয়ার ৫৪ জন এনসিপি বিধায়কের সমর্থনের চিঠি ‘ভুল উদ্দেশ্যে' রাজ্যপাল ভগত সিং কোশায়ীর কাছে হস্তান্তর করেছিলেন বলে শনিবার অভিযোগ করেন এনসিপি নেতা নবাব মালিক।

রাজ্যপালের ভুমিকা নিয়ে ওঠে প্রশ্ন
এদিকে মহারাষ্ট্রে সরকার গঠনে রাজ্যপালের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে শনিবার সন্ধ্যায় সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় শিবসেনা-কংগ্রেস ও এনসিপি শিবিরের একাংশ। এনসিপির অজিত পাওয়ার এবং বিজেপির মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে চক্রান্ত করে বিধায়ক কেনাবেচার।
এরপরই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে মহারাষ্ট্রে আস্থা ভোটের একদিন আগেই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ান দেবেন্দ্র ফড়নবিস।পাশাপাশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের একদিন আগেই উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে ইস্তফা দেন অজিত পাওয়ারও।

ক্ষমতার অলিন্দে এখনও পাওয়ারই
অজিত পাওয়ার একঘরে হয়ে যাওয়ার পর ইতিমধ্যে এনসিপির প্রায় সমস্ত বিধায়কই শরদ শিবিরে ফিরে এসেছেন বলে খবর। সোমবার পশ্চিম মহারাষ্ট্রের কারাডে তাঁর রাজনৈতিক গুরু প্রয়াত ওয়াই বি চব্বনকে শ্রদ্ধা জানানোর পরে শারদ পাওয়ার গণমাধ্যমে বলেন, "এরকম অনেক লড়াই আমি দেখেছি। এটা আমার পক্ষে নতুন নয়"। বিজেপির কাছে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তাকে বলতে দেখা যায় "মহারাষ্ট্র গোয়া, মণিপুর, অরুণাচল প্রদেশ বা কর্ণাটক নয়"।
এর আগে বহুবার মুখ্যমন্ত্রী এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছেন সরদ পাওয়ার। প্রায় চার দশক আগে ৩৮ বছর বয়সে প্রথম মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী হন তিনি। ২০১৪ সালে ইউপিএ শাসনের অবসানের পরে তিনি সর্বশেষ অফিস ছাড়েন। সেই থেকে ক্রমেই এনসিপি কেন্দ্র এবং রাজ্যে উভয়ই ক্ষেত্রেই ক্ষমতা হারাতে শুরু করে। কিন্তু বর্তমানেও মারাঠা রাজনীতির অলিন্দে রয়েছেন এই বরিষ্ঠ রাজনীতিক।












Click it and Unblock the Notifications