রাহুলের সঙ্গে একমত নন শরদ পাওয়ার, আদানি ইস্যুতে জেপিসি নিয়ে ফাটল বিরোধী মঞ্চে
রাহুল গান্ধী আদানি ইস্যুতে জেপিসি চেয়ে গলা ফাটিয়ে আসছেন প্রথম থেকে। এই মর্মে বিরোধীরা একজোট হয়ে প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন। কিন্তু হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে আদানির শেয়ার ধস নিয়ে জেপিসি দাবিতে ভিন্ন মত পোষণ করলেন এনসিপি সুপ্রিমো শরদ পাওয়ার।
শরদ পাওয়ার এই মর্মে রাহুল গান্ধীর বিপরীত অবস্থান নেন। শুক্রবার তিনি একান্ত সাক্ষাৎকারে আদানির সমর্থনে কার্যত গলা ফাটান। তিনি হিন্ডেনবার্গের প্রতিবেদনের তীব্র সমালোচনা করেন। তাঁর কথায়, আদানি ইস্যুটিকে বিরোধীরা বেশি গুরুত্ব দিয়ে বসেছে আনুপাতিকভাবে।

তাঁর মতে, দেশে জ্বলন্ত ইস্যুগুলিকে গুরুত্ব না দিয়ে আদানি ইস্যুকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মানুষের সমস্যার থেকেও বেশি দেশের একটি স্বতন্ত্র শিল্প গোষ্ঠীকে টার্গেট করা হয়েছিল বলেই আমার মনে হয়। যদি আদানিরা কিছু ভুল করে থাকে, তবে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু সংসদে জেপিসি তদন্তের দাবি নিয়ে আমার ভিন্নমত।
শরদ পাওয়ার বলেন, "অনেক ইস্যুতে জেপিসি হয়েছে। আমার মনে আছে কোকা-কোলার ইস্যুতে একবার একটি জেপিসি করা হয়েছিল এবং আমি চেয়ারম্যান ছিলাম। তাই আগে কখনও জেপিসি গঠিত হয়নি, এমনটি নয়। একটি জেপিসির দাবি করা ভুল নয়। তবে কেন দাবি করা হচ্ছে, সেটা ভেবে দেখা দরকার।

আদানি ইস্যুতে শরদ পাওয়ার এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, একটি সময়সীমার মধ্যে এই বিতর্কিত বিষয়টির তদন্তের জন্য একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন বিশেষজ্ঞ, একজন প্রশাসক এবং একজন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করে তদন্তের যে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট দিয়েছে, সেই পদক্ষেপকে স্বাগত।
পাওয়ার বলেন, "বিরোধীরা চেয়েছিল একটি সংসদীয় কমিটি নিয়োগ করা হোক আদানি ইস্যুর তদন্তে। সংসদীয় কমিটি নিযুক্ত হলে মনিটরিং থাকত ক্ষমতাসীন দলের কাছে। আর দাবিটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। তদন্তের জন্য নিযুক্ত কমিটি হলে ক্ষমতাসীনদের দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকত। তাতে সত্য কী বেরিয়ে আসত?

শরদ পাওয়ার বলেন, "সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্ববধানে কমিটি গড়ে যদি তদন্ত হয় তাহলে সেই তদন্ত কারো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে না। যদি সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত পরিচালনা করে, তবে সত্য প্রকাশের আরও ভালো সম্ভাবনা থাকবে। তাই সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত ঘোষণা করার পরে, জেপিসি তদন্তের কোনও গুরুত্ব নেই।
তাঁর এই মত, কংগ্রেসের নেওয়া লাইন থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী যখন বারবার জেপিসির দাবিতে সরব হয়েছেন, তখন শরদ পাওয়ারের এই দাবি বিরোধীদের নতুন করে ভাবাবে। উল্লেখ্য, সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়ার পরেও কংগ্রেস তাদের দাবিতে অটল রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications