রাহুল গান্ধীর 'হিন্দু' মন্তব্যের বিরোধিতায় বিজেপি, কংগ্রেস সাংসদের পাশে দাঁড়ালেন শঙ্করাচার্য
রাহুল গান্ধী সংসদে মন্তব্য করেছিলেন, হিন্দুরা হিংসা ছড়ায় না। কিন্তু বিজেপি হিন্দুদের নাম করে গোটা দেশে হিংসা ছড়িয়ে যাচ্ছে। রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছিল। এমনকী সংসদেও রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের সমালোচনা শুরু হয়।
কিন্তু এতো সমালোচনার মাঝেই রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন, শঙ্করাচার্য অভিমুক্তেশ্বরানন্দ মহারাজ। তিনি বলেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী ঠিক মন্তব্যই করেছেন। হিন্দুরা কখনও হিংসাকে সমর্থন করেও না আবার হিংসা ছড়ায়ও না।

বিরোধী দলনেতা হিসেবে সংসদে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রথম দিনই বিতর্কে জড়িয়েছিলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী। তিনি বিজেপির ধর্মের ভিত্তিতে রাজনীতির অভিযোগ করে বলেছিলেন, হিন্দুরা কখনও হিংসা ছড়ায় না বা হিংসায় বিশ্বাস করে না। বিজেপি হিন্দুদের নাম করে হিংসা ছড়াচ্ছে দেশে। সংসদে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের পরেই শুরু হয়ে গিয়েছিল তুমুল সমালোচনা।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী নিজে রাহুল গান্ধীর এই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন এবং স্পিকারকে অনুরোধ করেছিলেন রাহুল গান্ধীর মন্তব্য থেকে হিন্দু শব্দটা যেন বাদ দেওয়া হয়। মোদীর অনুরোধের প্রেক্ষিতে স্পিকার রাহুল গান্ধীকে নোটিস পাঠায়। এদিকে রাহুলের এই মন্তব্যকে সমর্থন করেছেন উত্তরাখণ্ডের শঙ্করাচার্য অবিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী।
তিনি বলেছেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী সংসদে হিন্দুদের নিয়ে যে মন্তব্য করেছেন তাতে কোনও ভুল নেই। তাতে হিন্দু ধর্মকে অশ্রদ্ধাও করা হয়নি। রাহুল গান্ধী যেকথা বলেছেন সেটা একেবারেই ঠিক। উত্তরাখণ্ডের শঙ্করাচার্য বলেছেন ধর্মের অর্থ ধারন করা। সেটা সব ধর্মের ক্ষেত্র একই। এখানে ঘৃণার কোনও স্থান নেই।
এদিকে লোকসভায় দাঁড়িয়ে রাহুল গান্ধী অভয় মুদ্রা দেখিয়ে বলেছিলেন সব ধর্মের সঙ্গেই এর যোগ রয়েছে। এমন কী শিবের ছবিও সংসদে দেখিয়েছিলেন রাহুল। এই নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল সংসদ। বিজেপি সাংসদরা এই নিয়ে রাহুলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। রাহুলের বক্তৃতার মাঝেই অমিত শাহ, রাজনাথ সিং, ভূপেন্দ্র সিং সহ একাধিক বিজেপি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বিরোধিতা করেছিলেন।
অমিত শাহ পাল্টা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে বলেছিলেন, এভাবে কোনও দলকে নিশানা করা যায় না। এই নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতোও জোর চর্চা শুরু হয়েছিল। গোটা দেশেই রাহুলের মন্তব্ নিযে সমালোচনা শুরু করেছিলেন বিরোধী দলের নেতারা। তবে কংগ্রেসের তরফ থেকে এই ঘটনার নিয়ে কোনও ক্ষমা প্রার্থনা করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications