কোভিডের দোসর গনোরিয়া, অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারে বাড়ছে যৌনরোগ
করোনাকালেই বাড়ছে যৌনরোগ! অ্যান্টিবায়োটিকের মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহারেই বাড়ছে গনোরিয়া
গত কয়েকমাস যাবৎ করোনার ঝোড়ো ব্যাটিংয়ে ইতিমধ্যেই নড়বড়ে হয়ে গেছে গোটা বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাই। এমনকী অর্থনীতি হোক বা শিক্ষা, প্রায় প্রত্যেক ক্ষেত্রের অবস্থাই তথৈবচ। করোনার কারণেই যে মানবসভ্যতার অগ্রগতির দৌড় প্রায় একদশক পিছিয়ে গিয়েছে, তা স্বীকার করে নিয়েছেন সমাজবিজ্ঞানীরা। যদিও বছর শেষের মুখে করোনা থেকে কিছুটা স্বস্তি পাওয়ার আশায় যখন দিন গুনছে মানুষ, তখনই এক নতুন এক স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেওয়ায় রীতিমতো বিপাকে চিকিৎসকমহল।

ভয় ধরাচ্ছে গনোরিয়া
দীর্ঘ আতঙ্কের বাতাবরনের পর অবশেষে যখন স্বাভাবিক ছন্দে ফিরছে মানবসমাজ, তখনই নতুন করে হানা দিচ্ছে গনোরিয়ার মতো যৌন রোগ। আর এই রোগেরও নেপথ্যে রয়েছে সেই করোনাই। বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, গনোরিয়ার ক্ষেত্রে একটি 'সুপার-স্ট্রেন' সম্বলিত ব্যাকটেরিয়া যৌন সংসর্গের কারণে ছড়াচ্ছে দেহ থেকে দেহান্তরে। স্বভাবতই পুনরায় অস্বস্তিতে জনসাধারণ।

ঠিক কারণে বাড়ছে গনোরিয়ার প্রকোপ?
সম্প্রতি হু-এর গবেষকরা জানিয়েছেন, করোনাকালে অ্যান্টিবায়োটিকের ক্রমবর্ধমান ব্যবহারের কারণেই নতুন রূপে ফিরেছে গনোরিয়া। করোনাবিদদের বক্তব্য, মহামারীর কারণে এসটিআই রোগীদের সঠিক পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি, ফলে নিজেদের মত অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছেন তাঁরা। এর ফলেই দুর্বল গনোরিয়ার ব্যাকটেরিয়া মারা গিয়ে আরও শক্তিশালী প্রতিরোধী ক্ষমতা নিয়ে ফেরত এসেছে নয়া সুপার-গনোরিয়া।

কী বলছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ?
এদিকে মহামারী পর্বের শুরু থেকেই কোভিড কেসের ক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক হিসেবে ব্যবহার বেড়েছিল অ্যাজিথ্রোমাইসিন-এর। আর এর কারণেই যত সমস্যা বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। তাঁদের মতে, শরীরের দুর্বল ও ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলিকে মেরে ফেলে শক্তিশালী অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণুগুলিকে অক্সিজেন দিয়েছে অ্যাজিথ্রোমাইসিন। হু-এর তরফে ডঃ হ্যানন বালখিও একই কথা জানিয়েছেন সংবাদমাধ্যমকে।

এইডসকেও পক্ষান্তরে প্রশ্রয় দিচ্ছে গনোরিয়া
করোনার পাশাপাশি গনোরিয়ার চোখরাঙানিতে যেখানে আতঙ্কিত জনগণ, সেখানে এইচআইভির আগমনে আরও বেশি আশঙ্কিত প্রত্যেকেই। জানা যাচ্ছে, গনোরিয়া নিয়ন্ত্রণ না করলে প্রায় পাঁচগুণ বৃদ্ধি পাবে এইডসের প্রভাব। ব্রিটেনের বায়োট্যাসফেরিক লিমিটেডের অতিরিক্ত চেয়ারম্যান কেভিন ককসের বক্তব্য, "সুপার-গনোরিয়াকে এখনই না আটকালে জীবাণুর অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী ক্ষমতা বাড়বে, যা পাশাপাশি ডেকে আনবে আরও অন্যান্য রোগকেও।"












Click it and Unblock the Notifications