পরিচয় পত্র ছাড়াই দেশের লক্ষাধিক মানুষ করোনা টিকা নিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টকে জানালো কেন্দ্র
পরিচয় পত্র ছাড়াই দেশের লক্ষাধিক মানুষ করোনা টিকা নিয়েছে, সুপ্রিম কোর্টকে জানালো কেন্দ্র
৭৭ লক্ষ মানুষ কোনও পরিচয়পত্র ছাড়াই তাদের ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছে এবং ১৪.৫৫ লক্ষ মানুষ কোভিড–১৯–এর দু’টো ডোজই নিয়েছে বলে বৃহস্পতিবারই সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়েছে কেন্দ্র। যদিও বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, সূর্য কান্ত ও বিক্রম নাথের বেঞ্চ জানিয়েছে যে কেন্দ্রের পেশ করা হলফনামা বলছে মাত্র ৪.৮২ লক্ষ মানুষ বিনা পরিচয়পত্রে টিকাকরণ করিয়েছে।

সুপ্রিম কোর্ট বেঞ্চের পক্ষ থেকে কেন্দ্রের পক্ষ থেকে দাঁড়ানো অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল ঐশ্বর্য ভাটিকে বলে, 'আপনাদের হলফনামা বলছে কোনও পরিচয়পত্র ছাড়া মাত্র ৪,৮২,০০০ মানুষ টিকাকরণ করিয়েছে, এটা কি খুব কম সংখ্যা নয়?’ কেন্দ্রের আইনজীবী এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে এই হলফনামা পেশ করা হয়েছে গত বছরের অগাস্টে এবং এটা আপডেট করা হয়েছে, সেই অনুযায়ী, 'বিনা পরিচয়পত্রে ৭৭ লক্ষ মানুষ তাদের প্রথম ডোজ নিয়েছে এবং ১৪.৫৫ লক্ষ মানুষ তাদের উভয় ডোজ নিয়েছে।’ বেঞ্চ তখন ভাটিকে হলফনামায় আপডেট করা পরিসংখ্যান দিতে বলে এবং দিল্লি সরকার কেন এই বিষয়ে কোনও হলফনামা দাখিল করেনি তাও জানতে চায়।
ঐশ্বর্য ভাটি জানিয়েছেন যে গত বছরের জুলাইতে নোটিস জারি করা হয় কিন্তু এখনও জিএনসিটিডি–এর কাউন্সেল সুপ্রিম কোর্টে উপস্থিতও হননি এবং হলফনামাও পেশ করেননি। তিনি এও জানিয়েছেন যে দিল্লি সরকারের পেশ করা হলফনামা আদালতে স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরবে। এএসজি শুরুতে জানিয়েছিল যে গত বছরের জুলাইয়ে বেঞ্চ দ্বারা নোটিশ জারি করা হয়েছিল এবং তারপরে আবেদনের ভিত্তিতে সংশোধন করা হয়েছিল। বেঞ্চ উল্লেখ করেছে যে পিটিশনের প্রতিক্রিয়ায় এনসিটি সরকার কোনও পাল্টা হলফনামা দাখিল করেনি এবং সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যে নিশ্চিত করতে হবে তিন সপ্তাহের মধ্যে হলফনামা দাখিল করতে হবে।
গত বছরের ২৭ জুলাই শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করে জানিয়েছিল যে কোনও ভিক্ষুক বা ভবঘুরেদের টিকা দেওয়া হবে না এ ধরনের 'অভিজাত দৃষ্টিভঙ্গী’ নেওয়া চলবে না এবং কেন্দ্র ও দিল্লি উভয় সরকারকেই কোভিড–১৯ মহামারির পরিপ্রেক্ষিতে ভিক্ষুক ও ভবঘুরেদের টিকাকরণ নিয়ে আবদনের প্রতিক্রিয়া জানাতে বলা হয়েছিল। এখানে উল্লেখ্য, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের অনুপস্থিতির কারণে শিশু সহ বিপুল সংখ্যক মানুষ রাস্তায় ভিক্ষা করতে বাধ্য হচ্ছে, তা শীর্ষ আদালতের চোখে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট একে একটি 'আর্থ–সামাজিক সমস্যা’ বলে অ্যাখা দিয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications