আম্ফান-আয়লার থেকেও বড় ৭ সাইক্নোন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আছড়ে পড়ার আগে ফিরে দেখা
আম্ফান-আয়লার থেকেও বড় ৭ সাইক্নোন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আছড়ে পড়ার আগে ফিরে দেখা
রাত পোহালেই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ইয়াস আছড়ে পড়বে বঙ্গোপসাগরের ওড়িশা উপকূলে। এবার এই ঘূর্ণিঝড়ের নাম দিয়েছে ওমান। এই ইয়াস কথার অর্থ হতাশা। আম্ফানের বর্ষপূর্তিতে করোনার আবহে ফের ঘূর্ণিঝড় ধেয়ে আসার পূর্বাভাস ছিল। কোনওরকমে এবার বাংলা রক্ষা পেতে চলেছে ইয়াস থেকে।

ফণীর ঘা এখনও দগদগে, ধেয়ে যাচ্ছে ইয়াস
আবহবিদরা জানিয়েছেন, বাংলার কান ঘেঁষে বেরিয়ে গেলেও ভেরি সিভিয়ার সাইক্লোনে পরিণত হওয়া ঘূর্ণিঝড় ইয়াস কম ক্ষতি করবে না। বাংলাকে বাঁচিয়ে ইয়াস এবার ধ্বংসলীলা চালাবে ওড়িশায়। এর আগে ওড়িশার উপর আছড়ে পড়েছিল ফণী। ফণী ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল পুরী ও পুরী সংলগ্ন এলাকায়। সেই ঘা এখনও দগদগে।

আম্ফানের বর্ষপূর্তিতে বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে ইয়াস
তারপর গতবছর অর্থাৎ ২০২০ সালে আম্ফান আছড়ে পড়েছিল বাংলার সুন্দরবন এলাকায়। বাংলার বুকে ধ্বংসলীলা চালিয়ে আম্ফান চলে গিয়েছিলেন বাংলাদেশে। বাংলাদেশেও বিপুল ক্ষতিসাধন করেছিল সুপার সাইক্লোন আম্ফান। এবার তার বর্ষপূর্তিতে বঙ্গোপসাগরে ফুঁসছে ঘূর্ণিঝড় ইয়াস।

সাত ঘূর্ণিঝড়, যার ফলে বিপুল প্রাণহানি ঘটেছিল
এর আগে আয়লা ও বুলবুলের মতো ঘূর্ণিঝড় আছড়ে পড়েছিল। আয়লার ধ্বংসলীলায় তো সুন্দরবনে সীমাহীন ক্ষতি হয়েছিল। তার আগে এমন আরও অনেক ঘূর্ণিঝড় বয়ে গিয়েছে, যা তুমুল ক্ষতিসাধন করেছে। এমনই সাত ঘূর্ণিঝড় যার ফলে বিপুল প্রাণহানি ঘটেছিল। সইসব ঝড়ের স্মৃতি আজও টাটকা অনেকের মনে।

ঘূর্ণিঝড় ভোলা কেড়েছিল ৫ লক্ষ প্রাণ
১৯৭০ সালে ঘূর্ণিঝড় ভোলা আছড়ে পড়েছিল বঙ্গোপসাগর উপকূলে। তখনও বাংলাদেশ গঠিত হয়নি। বাংলাদেশ তখনও পূর্ব পাকিস্তান নামেই পরিচিত ছিল। ভারত ও পূর্ব পাকিস্তানে ঘূর্ণিঝড় ভোলা তাণ্ডব চলিয়েছিল, যার ফলে মৃত্যু হয়েছিল প্রায় ৫ লক্ষ মানুষের।

টাইফুন নিনার ঝাপটায় চিন মৃত্যুপুরী
এরপর ১৯৭৫ সালে এসেছিল আর এক ভয়াবহ ঝড়। এই ঝড়ের ঝাপটায় ২ লক্ষ ২৯ হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছিল। ঘূর্ণিঝড়ের ইতিহাসে এই ঝড় টাইফুন নিনা নামে পরিচিত। প্রশান্ত মহাসাগরের বুক চিরে ধেয়ে এসেছিল এই টাইফুন নিনা। তা আঘাত হেনেছিল চিনের বুকে।

অন্ধ্রপ্রদেশে সাইক্লোনের হানায় ১ লক্ষ প্রাণহানি
১৯৭৭ সালে ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশে এসেছিল আর এক সাংঘাতিক ঝড়। বঙ্গোপসাগর দিয়ে এই ঝড় আছড়ে পড়েছিল ভারতের পূর্ব উপকূলে। তারপর এই ভয়াবহ সাইক্লোন কেড়ে নিয়েছিল প্রায় এক লক্ষ মানুষের প্রাণ।

১৯৯১ সালে বাংলাদেশে ধ্বংসলীলা সাইক্লোনের
অন্ধ্রপ্রদেশের পর বঙ্গোপসাগর থেকে ধেয়ে আসা আর এক সাইক্লোন হানা দিয়েছিল বাংলাদেশের বুকে। এই সাইক্লোনও কেড়ে নিয়েছিল লক্ষাধিক মানুষের প্রাণ। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বাংলাদেশের। ১৯৯১ সালে বয়ে গিয়েছিল এই ঝড়। তখন নামকরণ শুরু হয়নি এখনকার মতো।

সুনামি চার দেশের ২ লক্ষাধিক প্রাণ কেড়েছিল
তারপর এসছিল ভয়ঙ্কর সুনামি। সেটা ছিল ২০০৪ সাল। ভারত, তাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, ইন্দোনেশিয়া মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ ২৭ হাজার প্রাণ ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল সুনামির তাণ্ডবে। সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় প্রবল সুনামি ভাসিয়ে নিয়ে গিয়েছিল সবকিছু।

বাংলাদেশের বুকে আছড়ে পড়ছিল ঘূর্ণিঝড় সিডার
২০০৭ সালে আবার সাইক্লোনের লক্ষ ছিল বাংলাদেশ। ঘূর্ণিঝড় সিডার বঙ্গোপসাগর দিয়ে বয়ে গিয়ে আছড়ে পড়েছিল বাংলাদেশ উপকূলে। যার জেরে বাংলাদেশের বুকে শুধু ব্যাপক ক্ষতিসাধনই করেনি। প্রায় ১৫ হাজার মানুষের জীবন কেড়ে নিয়েছিল সিডার।

ঘূর্ণিঝড় নার্গিস আছড়ে পড়েছিল মায়ানমারের বুকে
আর ২০০৮ সালে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় নার্গিস আছড়ে পড়েছিল মায়ানমারের বুকে। এই ঘূর্ণিঝড় কেড়ে নিয়েছিল ১ লক্ষ ৩৮ হাজার মানুষের প্রাণ। এবছর প্রথম ঘূর্ণিঝড় তাউকটে আছড়ে পড়েছিল গুজরাট উপকূলে। দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ধেয়ে যাচ্ছে ওড়িশা উপকূলের দিকে।












Click it and Unblock the Notifications