ফের কাশ্মীরে অশান্তির আশঙ্কা, ঈদে সামিল হতে পারবেন না সাধারণ মানুষ !
শ্রীনগর, ৮ সেপ্টেম্বর : জম্মু কাশ্মীরের মানুষ এবারের ঈদ শান্তিতে পালন করতে পারবে কিনা সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই জম্মু কাশ্মীরের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা ঘোষনা করেছেন আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপত্যকায় ধর্মঘট পালন করবে । যার জন্য নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই ধর্মঘট মোকাবিলার জন্য নতুন করে কার্ফু জারি করা হবে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাই আগামী ১৩ তারিখে কিভাবে ঈদ উৎসবে সামিল হবেন সাধারণ মানুষ ? বিগত দু'মাসের হিংসাত্মক ঘটনা ও কার্ফুর জেরে সাধারণ জনজীবন ব্যাহত হয়েছিল। এতদিন গৃহবন্দী থাকার পরে ঈদ উৎসব সামিল হওয়া নিয়ে তাই বাড়তি উৎসাহ ছিল। কিন্তু আপাতত পরিস্থিতি যে দিকে মোড় নিচ্ছে তাতে মনে করা হচ্ছে কাশ্মীরের মানুষ ঈদ উৎসবে এবার সামিল হতে পারবেন না।

হিজবুল মুজাহিদিন জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর থেকে কাশ্মীরের পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হতে শুরু করেছিল। দীর্ঘ দুমাস ধরে উপত্যায় একাধিক হিংসাত্মক ঘটনা ঘটেছে। যার জেরে পুলিশকর্মী সহ প্রায় ৭৬ জন সাধারন মানুষের মৃত্যু হয়।
শান্তি বৈঠক, কার্ফু প্রত্যাহার সহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ ধীরে ধীরে কার্যকর করার চেষ্টা করা হচ্ছিল প্রশাসনের পক্ষ থেকে। কিন্তু কাশ্মীরে আয়োজিত সর্বদল বৈঠকে যোগদান না করে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে কাশ্মীর সমস্যা এত দ্রুত তারা মিটতে দেবেন না। সৈয়দ আলি গিলানির সঙ্গে আলাদা ভাবে দেখা করেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা। সেই চেষ্টাও সফল হয়নি।
এখন কাশ্মীরের যা পরিস্থিতি তাতে পুনঃরায় নতুন করে অশান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই বৃহস্পতিবার সকালে দক্ষিণ কাশ্মীরের পুলওয়ামা জেলার একটি পুলিশ স্টেসশনে জঙ্গি হামলার খবর পাওয়া গিয়েছে। এখনও পর্যন্ত হতাহতের খবর সামনে না এলেও জানা গিয়েছে জঙ্গারা অতর্কিতে গ্রেনেড এবং অটোমেটিক রাইফেল নিয়ে হামল চালায়।
কাশ্মীরে আবারও অশান্তির মেঘ জমতে শুরু করেছে তা এখন দিনের আলোর মত স্পষ্ট। এই অবস্থায় কি ভাবে শান্তি ফিরে আসবে আর কি ভাবেই বা স্বাভাবিক হবে জনজীবন সেই প্রশ্নটাই বড় করে দেখা দিচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications