মধ্য়প্রদেশে হবু কনস্টেবলদের বুকে কি এমন লেখা, যা নিয়ে বিতর্কে রাজ্য় প্রশাসন
মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায় চাকরিতে নিয়োগের আগে ডাক্তারি পরীক্ষার সময় হবু কনস্টেবলদের বুকে লিখে দেওয়া হল এসসি, এসটি, ওবিসি।
কি বলা যায়? মধ্যযুগীয় বর্বরতা? সেসময় অপরাধীদের গায়ে উল্কি এঁকে দেওয়া হত। সেরকম-ই দৃশ্য় দেখা গেল আধুনিক ভারতে। তবে অপরাধীদের নয়, হবু কনস্টেবলদের নগ্ন ঊর্ধ্বাঙ্গে বুকের উপরে লিখে দেওয়া হল জাত। চুড়ান্ত নিয়োগের আগে নিয়ম-মাফিক ডাক্তারি পরীক্ষা দিতে এসেছিলেন তাঁরা। সেই সময় তাঁদের বুকে এঁকে হয় এসসি, এসটি, ওবিসি।

এই ঘটনা মধ্যপ্রদেশের ধার জেলায়। রবিবার এই ছবি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হতেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। শোরগোল পড়ে গিয়েছে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ ও প্রশাসনিক মহলে। পুলিশ প্রধান বীরেন্দ্র কুমার সিং তড়িঘড়ি ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে কোথাও ওই চাকরি প্রার্থীদের বুকে তাদের জাত উল্লেখ করার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। তিনি জানান, 'ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। অপরাধীরা উপযুক্ত শাস্তি পাবেন।'
ভারতের রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এখন দু'দিনের সফরে মধ্য়প্রদেশে রয়েছেন। তিনি থাকাকালীনই এই নক্কারজনক ঘটনা সামনে আসায় যথেষ্ট অস্বস্তিতে রাজ্য় প্রশাসন। রাজ্য় পুলিশের ডিজি ঋষি কুমার শুক্ল ঘটনার কথা স্বীকার করে নিয়ে বলেন এমনটা হওয়া উচিত হয়নি। তবে একই সঙ্গে তিনি এই ঘটনার পিছনে যুক্তিও সাজিয়েছেন। বলেছেন, 'এসসি-এসটি-ওবিসি কোটার প্রার্থীদের ক্ষেত্রে শারীরিক মাপের নিয়মে কিছুটা ছাড় দেওয়া হয়। সেই প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখার লক্ষ্য়েই সতর্কতামূলক ব্য়বস্থা হিসেবে এই কাজ করা হয়েছিল।'
পুলিশে নিয়োগের আগে ডাক্তারি পরীক্ষায় পাশ করার জন্য় প্রার্থীদের বিভিন্ন শারীরিক মাপ নির্দিষ্ট করা থাকে। শারীরিক গঠনের তারতম্য়ের কথা মাথায় রেখে এসসি-এসটি, ওবিসি, জেনারেল প্রতিটি পৃথক ক্য়াটেগরির প্রার্থীদের ক্ষেত্রে পৃথক মান নির্দিষ্ট থাকে। যেমন এসটি বাদে বাকি সব ক্যাটেগরির প্রার্থীদের উচ্চতা হতে হয় কমপক্ষে ১৬৮ সেন্টিমিটার। এসটি ক্যাটেগরির ক্ষেত্রে যা ১৬০ সেন্টিমিটার। ছাতি, ও প্রসারিত ছাতির মাপের ক্ষেত্রেও এসটি ক্যাটেগরির প্রার্থীরা একটি সুবিধা পেয়ে থাকেন।
তার স্বচ্ছতা রাখার জন্য় প্রার্থীদের শরীরে তাদের জাত লিখে দেওয়াটার যুক্তিটা ধোপে টিকছে না। তবে ওই প্রার্থীদের কেউই কোথাও কোনও অভিযোগ জানাননি। এক স্থানীয় সংবাদমাধ্য়মে ঘটনার ছবি প্রকাশ পায়। এরপর জানাজানি হতে বেশি সময় লাগেনি। ড্য়ামেজ কন্ট্রোল করতে ডিজি শুক্ল জেলা পুলিশকে বিষয়টি শুধরে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, 'জেলা পুলিশকে বলেছি, আর কারোর গায়ে ওরকম চিহ্ন থাকলে সঙ্গে সঙ্গে তা মুছে দিতে হবে। দেখতে হবে এরকমটা যেন আর না ঘটে।'
অবশ্য় তার আগেই বহু প্রার্থীকেই এরকম অবমাননাকর অবস্থার মধ্য় দিয়ে যেতে হয়েছে। স্বাস্থ্য় মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে গত বুধবার থেকেই জেলা সদর হাসপাতালে জেলা পুলিশ ও বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর এই ডাক্তারি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। প্রায় ৩০০ জনের ওভাবেই পরীক্ষা হয়েছে। কিন্তু কে ওই নির্দেশ দিয়েছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ সুপার বীরেন্দ্র কুমার সিং যেমন দাবি করেছেন পুলিশের তরফে এরকম কোনও নির্দেশ ছিল না, তেমনই জেলা মুখ্যস্বাস্থ্য় অফিসার আর সি পানিকাও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে দায় এড়িয়েছেন।
ডাক্তারির পরীক্ষার বিষয়টি দেখভাল করছেন জেলা হাসপাতালের এক শল্য় চিকিৎসক সুশীল কুমার খাড়ে। তিনি বলেন, 'ডাক্তাররা একটি হলে বসে ছিলেন। আর তাদের কাছে ওই প্রার্থীদের নিয়ে আসছিলেন একজন করে কনস্টেবল। এরজনের বুকে ইংরাজী 'ও' লেখা দেখে আমি জিজ্ঞেস করায় সেই কনস্টেবল বলেছিল এর মানে ওবিসি। আমার মনে হয়, যাতে ক্যাটেগরিগুলি গুলিয়ে না যায় তার জন্য় পুলিশ বিভাগই এটা করেছে। ধার জেলার কালেক্টরও 'সদ্য় দায়িত্ব নিয়েছেন', বলে বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। আর রাজ্য়ের অতিরিক্ত মুখ্য় সচিব কে কে সিং বলেছেন, তিনি বিষয়টি জানেনই না।
এদিকে আম্বেদকর শোধ সংস্থান-এর প্রেসিডেন্ট ইন্দ্রেশ গজভিয়ে-র মতে, এটা শুধু মানবাধিকার লঙ্ঘনই নয়, এসসি/এসটি প্রিভেনশন অব অ্য়াট্রোসিটিজ অ্য়াক্ট অনুযায়ী এটা ফৌজদারি অপরাধের মধ্য়ে পড়ে। তিনি অপরাধীদের শাস্তির দাবি করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications